১৬৯. ১৬ সেপ্টেম্বর আপোষ নয়, পূর্ণ স্বাধীনতাঃ পাঁচ পার্টির যুক্ত ঘোষণা

Posted on Posted in 6

রাশেদুজ্জামান রণ

<৬,১৬৯,২৮৯-২৯০>

সংবাদপত্রঃ নতুন বাংলা

তারিখঃ ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

     
                        আপোষ নয়, পূর্ণ স্বাধীনতা
                 পাঁচ পার্টির যুক্ত কমিটি গঠন ও যুক্ত ঘোষণা
                         (বিশেষ প্রতিনিধি)

 বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে উপদেশ প্রদানের জন্য বাংলাদেশের পাঁচটি রাজনৈতিক দলকে লইয়া একটি উপদেষ্টা (কনসালটেটিভ) পরিষদ গঠিত হইয়াছে। এই রাজনৈতিক দলগুলি হইতেছে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, ভাসানী পন্থি ন্যাপ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস।

 গত বুধবার মুজিবনগরে অনুষ্ঠিত ঐ পাঁচটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের এক যুক্ত বৈঠকে উপরোক্ত উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়। বৈঠকে গৃহীত এক প্রস্তাবে ঘোষণা করা হয় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে কোন আপোষ হইবেনা- পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত থাকিবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দীন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব খোন্দকার মোশতাক আহমদ, জনাব মনসুর আলী, জনাব কামরুজ্জামান, জনাব আব্দুস সামাদ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির পক্ষে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, ভাসানী পন্থী ন্যাপের পক্ষে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে শ্রী মণি সিং এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেসের পক্ষে শ্রী মনোরঞ্জন ধর।

  যেই উপদেষ্টা পরিষদটি গঠিত হইয়াছে, উহার সদস্যসংখ্যা ৮জন। এই সদস্যবৃন্দ হইতেছেনঃ মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী(ভাসানী পন্থী ন্যাপ), শ্রী মণি সিং(বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি), শ্রী মনোরঞ্জন ধর(বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস), অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ(বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি), বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দীন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব খোন্দকার মোশতাক আহমদ। পরিষদে আওয়ামী লীগের পক্ষে দুইজন সদস্য থাকিবেন। তাঁহাদের নাম পরে জানান হইবে।

  পরিষদের বৈঠক পরিচালনা করিবেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দীন আহমদ। পরবর্তী বৈঠক খুব শ্রীঘ্রই অনুষ্ঠিত হইবে বলিয়া জানা যায়।

                              প্রস্তাবাবলীঃ

গত বুধবারের পাঁচ পার্টির ঐ যুক্ত বৈঠকে মোট ৭টি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। প্রস্তাবাবলীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে প্রদত্ত হইলঃ
সভায় শেখ মুজিবের বিচার প্রহসনের গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এই বিচার প্রহসন বন্ধ করার জন্য জাতিসংঘ ও বিশ্বের সকল শক্তির প্রতি আহবান জানান হয়।

সভায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আন্তরিক আস্থা ও পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করা হয়।

এক প্রস্তাবে বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি প্রাদান ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা স্বীকার করিয়া লওয়ার জন্য ভারত ও বিশ্বের দেশগুলির প্রতি আহবান জানান হয়।

  সভায় মুক্তি সেনানীদের প্রতি অভিনন্দন জানান হয়

  সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের সেবা ও যত্নের জন্য ভারত সয়ারকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানান হয়।

  এক প্রস্তাবে শোষণের শৃঙ্খল হইতে মুক্ত হইবার সংগ্রামে লিপ্ত পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণের সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জানান হয় এবং তাদেরকে বাংলাদেশের সংগ্রাম সমর্থন করার আহবান জানান হয়।

অপর এক প্রস্তাবে ঘোষণা করা হয় যে, রাজনৈতিক সমাধান বলিতে পূর্ণ স্বাধীনতা ছাড়া বাংলাদেশের জনগণের নিকট অন্য কিছু গ্রহণযোগ্য নহে। স্বাধীনতার মূল্য যদি রক্ত দিয়াই দিতে হয়, তাহা হইলে বাংলাদেশের জনগণ প্রতি ঘন্টায় উহা দিয়া যাইতেছে।

                         বিভিন্ন মহলের অভিনন্দন

 বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারকে পরামর্শ দানের জন্য এই উপদেষ্টা পরিষদ গঠনকে অভিনন্দিত করিয়াছেন। তন্মধ্যে ভারতের সরকারী মহল ও বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলিয়া বর্ণনা করেন।