(১) কুমিল্লার সশস্ত্র প্রতিরোধ: সাক্ষাৎকারঃ মেজর ইমামুজ্জামান

Posted on Posted in 9

<৯, ৩.৫, ১৪১-১৪২>

সশস্ত্র প্রতিরোধে কুমিল্লা

সাক্ষাৎকারঃ মেজর ইমামুজ্জামান

(১৯৭১ সালের মার্চে কুমিল্লা সেনানিবাসে লেফটেন্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সাক্ষাৎকারটি বাংলা একাডেমীর দলিলপত্র থেকে সংকলিত)

১০-০১-১৯৭৪

মেজর খালেদ মোশাররফ বেঙ্গল রেজিমেন্টের এক কোম্পানী সৈন্য আমার নেতৃত্বে কুমিল্লা চাঁদপুর সড়কে (লাকসামের কাছাকাছি) এপ্রিল মাসের ১১ তারিখে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ৬৫টা কনভয়ে এ্যামবুশ করি। এতে ৫টা গাড়ি সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়। বাকি গাড়িগুলো কুমিল্লাতে ফিরে যায়।

 

এপ্রিল মাসের ১৯ তারিখে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গোলন্দাজ বাহিনী নিয়ে আমাদের উপর আক্রমণ চালায় বাগমারায়। আমাদের অস্ত্রশস্ত্র তখন প্রচুর ছিলো না। ভারতও তখন আমাদের অস্ত্রশস্ত্র দিচ্ছিল না। দুদিন পর্যন্ত আমরা তীব্র প্রতিরোধ করলাম। প্রচণ্ড আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে আমরা পিছু হটতে বাধ্য হলাম। ওদের প্রায় ২৭০ জন মারা গিয়েছিলো। মৃতদেহ গুলো ৭/৮ টা ট্রাকে উঠানোর সময় আমরা দেখতে পেলাম।

 

এপ্রিলের ২১ তারিখে আমরা লাকসাম ছেড়ে যেতে বাধ্য হলাম। চাঁদপুরে তখন পাকিস্তান বিমান বাহিনী বোমা বর্ষণ শুরু করে। লাকসাম থেকে আমরা মিয়ার বাজারে চলে গেলাম। এপ্রিলের ২৭ তারিখে পাকিস্তান বাহিনী মিয়ার বাজারে আক্রমণ করে। ঐ যুদ্ধে ওদের অনেক সৈন্য হতাহত হয়েছিলো। ধানক্ষেতে পানির মধ্যে অনেক সৈন্যের লাশ পাওয়া গিয়েছিলো।

 

এপ্রিলের ২৯/৩০ তারিখে ওরা আবার আক্রমণ চালায়। ওদের দুটো আক্রমণই বীরত্বের সাথে প্রতিহত করা হয়। আমাদের পক্ষে অনেকেই হতাহত হয়।

 

আমি কাদের চৌধুরী নামে মুজাহিদ বাহিনীর ক্যাপ্টেনকে মিয়ার বাজারের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব দিয়ে খালেদ মোশাররফের মাধ্যমে চৌদ্দগ্রামে চলে আসি এবং ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে পরিকোট নামক জায়গায় প্রতিরক্ষা ব্যূহ তৈরি করি।

 

মে মাসে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নদীর ওপারে বাংগোডা বাজারে আসে এবং বেশ গোলাগুলি করে। কিন্তু আমাদের শক্তিশালী ঘাঁটির কথা জানতে পেরে ওরা লাকসামে চলে যায়। মে মাসের ১৪ তারিখে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গোলন্দাজ বাহিনীর সহায়তা নদীর ওপার থেকে আমাদের উপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালায়। আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে আমরা পিছু হটতে বাধ্য হই।

 

আমরা চৌদ্দগ্রাম চলে আসি। গোলন্দাজ বাহিনীর ভারী গোলাবর্ষণের মুখে টিকতে না পেরে আমরা ভারতের রাধানগরে চলে আসি। আমাদের কোন সরবরাহ ছিলো না। ভারী অস্ত্রশস্ত্রও ছিলো না। গুলির অভাব ছিলো না।

 

চৌদ্দগ্রাম থেকে মিয়ার বাজার পর্যন্ত সড়কে পাকিস্তানীরা যাতায়াতের চেষ্টা করে। ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনৌ ঐ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারেনি। প্রায় সমস্ত পুল ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছিলো।
বন্ধুরা দৌলতপুর থেকে ছাগলনাইয়া পর্যন্ত জুন মাসের প্রথম দিকে মেজর জিয়ার সেনাবাহিনী এবং ২নং সেক্টরের সেনাবাহিনী সম্মিলিতভাবে একটা মজবুত প্রতিরক্ষাব্যূহ তৈরী করেছিল।