২২৬. ৩০ অক্টোবর স্বাক্ষী গোপাল মন্ত্রীদের প্রতি খোলা চিঠি

Posted on Posted in 6

আব্দুল্লাহ আল নোমান

<৬,২২৬,৩৭৯-৩৮০>

শিরোনামঃ সাক্ষীগোপাল মন্ত্রীদের প্রতি একটি খোলা চিঠি

সংবাদপত্রঃ রণাঙ্গন

তারিখঃ ৩০ অক্টোবর, ১৯৭১

বাংলাদেশের অধিকৃত এলাকার

সাক্ষীগোপাল মন্ত্রীদের প্রতি একটি খোলা চিঠি

.

মহামান্য মন্ত্রী মহোদয়গণ।

 

আপনারা আমাদের রক্তমাখা ছালাম গ্রহণ করবেন। বাংলাদেশের সবুজ শ্যামল প্রান্তরে গ্রাম্য-চাষিদের ঘরে পান্তাভাত খেয়ে আপনারা মানুষ হয়েছেন। জন্মের পর থেকে মাতৃভাষা বাংলার মাধমে লেখাপড়া শিক্ষা করেছেন। আপনাদের মাতা অথবা পিতা কেহই পশ্চিমা বেনীয়ারা ঔরষজাত  নন। অথচ আপনারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধীতা করে গণহত্যার নায়ক জঙ্গী ইয়াহিয়া খানের উচ্ছিষ্ঠ অর্থের লোভে দালাল সেজে নিজেদের বিবেককে পশুর বিবেকে পরিণত করেছেন। কিন্তু আপনারা কি কখনো ভেবেছেন আপনাদের দিয়ে শুধু বাঙ্গালী নিধনযজ্ঞেই সহায়তা করে নেওয়া হবে? ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাটি থেকে যখন ইয়াহিয়া গোষ্ঠীকে পাততাড়ি গুটে নিয়ে সুদূর ১২শত মাইল দূরে পশ্চিম পাকিস্তানে হিজরত করতে হবে তখন আপনারা বাঙ্গালী গাদ্দার বলে তাদের দয়া থেকে পরিত্যাক্ত হবেন। সেই সময় আওনারা কোন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করবেন? পৃথিবির কোন দেশই বাংলাদেশের গণহত্যার নায়কদের ভবিষ্যত কোন আশ্রয় দিবে না বলে ভবিষ্যতে বাণী  দানকারী পন্ডিত ব্যাক্তিরা মতামত ব্যক্ত করেছেন।

.

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলাদেশের সাত কোটি অধিবাসীর আন্দোলন। পাকিস্তান প্রতিষ্টার ২৪ বছর পাঞ্জাবী পুঁজিপতি গোষ্ঠীর শাসন-শোষণ অতিষ্ঠ হয়ে বাংলাদেশের মানুষ তাদের নাগপাশ থেকে মুক্ত হবার সংকল্প গ্রহণ করেছিলেন। এ আন্দোলন বাংলাদেশে বসবাসকারী কোন বাঙ্গালী অথবা অবাঙ্গালীব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন নয়। কিন্তু সে সত্বেও কতিপয় ব্যক্তি ধর্মের দোহাই দিয়ে পাঞ্জাবী গোষ্ঠীর যে দালালী করে আসছেন সে সম্পর্কে আমাদের মতামত হচ্ছে ধর্ম একটি মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। ইচ্ছা করলে একটি মানুষ তার ধর্ম ত্যাগ করতে পারে কিন্তু ভাষা ত্যাগ করতে পারে না। তাই ধর্মের বড়ি দিয়ে মানুষকে বোকা বানানোর দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে।

.

অধিকৃত এলাকায় সাক্ষীগোপাল মন্ত্রীসভার শ্রমমন্ত্রী জনাব এ, এস,এম সুলায়মান সাহেব আপনি তো পেশাদার দালাল। আপনার দালালী করার অভ্যাস নতুন নয়, পুরাতন? আপনি তো ঢাকায় অধুনালুপ্ত পূর্ব পাকিস্তানে একটী দালাল (বীমা) কোম্পানীর প্রধান ছিলেন। সে সময় থেকেই আপনি দালালী ব্যবসায় পাকা হয়ে উঠেছেন। অপরপক্ষে নিজেকে শ্রমিক দরদি বলে পরিচয় দিয়ে একজন শ্রমিক নেতা রূপে বড় বড় কলকারখানার মালিকদের ও পয়সায় আপনি শান শওকত গাড়ী-বাড়ী করে আরাম আয়াসেই বসবাস করতেন। কিসের দুঃখে আপনি ইয়াহিয়া খানের দালালীর খাতায় নতুন করে নাম লিখালেন?

 .

বাংলাদেশের স্বনামখ্যাত মরহুম নেতা শেরেবাংলা এ, কে ফজলুল হক সাহেবের নাম ভাঙ্গিয়ে নেতার গড়া কৃষক-শ্রমিক পার্টির সর্বেসর্বাও বলেছিলেন এক সময় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন পুরোভাগের নেতা বলে জাহির করার জন্য বাংলাদেশের মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর সভায় উপস্থিত থেকে সোচ্চার কন্ঠে নিজেকে স্বাধীনতার অগ্রনায়ক বলে দাবী করেছিলেন। কিন্তু, কোথায় আপনার সেই মাতৃভূমির দরদ, আজ যখন লক্ষ লক্ষ কৃষক-শ্রমিক বেকার এবং নতঘাতক এহিয়ার হাত শ্রমিকের রক্তে রঞ্জিত তখন আপনি কি করে এহিয়ার সাক্ষীগোপাল মন্ত্রীসভার শ্রম মন্ত্রীর পদ অলংকৃত করলেন?

.

তাই আপনাদের প্রতি আমাদের সৎ উপদেশ-আপনারা যদি নিজেকে এবং আপনাদের বংশধরদের কুখ্যাত গভর্ণর মনেম খাঁর ন্যায় নিশ্চিহ্ন করতে না চান তবে দালালীর পথ পরিহার করে স্বাধিনতার পথে এগিয়ে আসুন। অন্যথায় ইতিহাসের লিখন আপনাদের ক্ষমা করবে না।

.

“জয় বাংলা”। আমাদের খেদমতে-

“বাংলাদেশের ছিন্নমূল জনসাধারণ”