২৫৫. ২৫ নভেম্বর পাক তাসের ঘর ভেঙে যাচ্ছে

Posted on Posted in 6

কম্পাইলারঃ এফ এম খান

<৬,২৫৫,৪৩২-৪৩৩>

সংবাদপত্রঃ আমার দেশ বাংলাদেশঃ ১৩শ সংখ্যা

তারিখঃ ২৫ নভেম্বর, ১৯৭১

পাক তাসের ঘর ভেঙ্গে যাচ্ছে

 

যশোর-খুলনা-কুষ্ঠিয়া ও ফরিদপুরের ৮০ ভাগ মুক্তঃসকল জেলা থেকে ঢাকা বিচ্ছিন্নঃকিশোরগঞ্জ শহর অবরুদ্ধঃফেনীর কাছে বহু শত্রুসেনা হতাহত ও ধৃতঃপ্রচুর অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারঃ

 

 

     ছাগলনাইয়া মুক্ত

ফেনীর দিকে মুক্তিবাহিনীর অগ্রাভিযান

    (নিজস্ব বার্তা পরিবেশক)

 

 

লাখো মানুষের রক্তস্রোত পেরিয়ে আজ আমরা মুক্তির নবদিগন্তে উপনীত হতে চলেছি।হানাদার ‘নজি’রা পৃথিবীর জাগ্রত বিবেকের ঘৃণা ও আক্রোশ এবং বাংলার মরণজয়ী বীর মুক্তিবাহিনী ও মুক্তিপাগল  জনতার দুর্বার আঘাতে তৃণখণ্ডের মতো ইতিহাসের অন্ধকার আবর্তে তলিয়া যাচ্ছে।নদী মেখলা বাংলার নরম মাটিতে জল্লাদ  ইয়াহিয়ার কসাই বাহিনী লাখ লাখ বাঙ্গালীর তাজা রক্ত দিয়ে রঞ্জিত করে যে শোষণ-সৌধ নির্মাণ করেছিল মুক্তিবাহিনীর প্রচণ্ড আঘাতে তা আজ তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে।রক্তাক্ত বাংলার চারদিক থেকে মুক্তিবাহিনী পাক  নরপশুদের অবরুদ্ধ করে ঘায়েল করে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছেন  রাজধানী ঢাকার দিকে।তাদের পেছনে হানাদারমুক্ত এলাকাগুলোতে রক্তখচিত বাংলার পাতাকা পত পত করে উড়ছে। মুক্ত স্বদেশের মানুষের মনে বয়ে চলছে বিজয়ানন্দের হিল্লোল।

 

 

   ফেনীর তিন দিকে মুক্তিবাহিনী

 

 

গত তিনদিন মুক্তিবাহিনী প্রচণ্ড আক্রমণ চালিয়ে ছাগলনাইয়া থানা সমপূর্ণরূপে মুক্ত করে দুর্বার গতিতে ফেনী শহরের দিকে এগিয়ে গেছেন।ছাগলনাইয়া থানার দক্ষিণাংশে চাঁদগাজী ও মুন্সিরহাটে দুটি প্রচণ্ড সংঘর্ষে মুক্তিবাহিনী বহুখানসেনা ও রাজাকারকে হতাহত করেছেন।মুক্তিবাহিনীর অব্যাহত আক্রমণের প্রচণ্ডতায় ভীত  সন্ত্রস্ত পাক পশুরা অনবরত পিছু হটতে হটতে এখন ফেনীতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।প্রাণ ভয়ে পালিয়ে যাবার  সময় তারা বহু অস্ত্রশস্ত্র ও রসদ ফেলে যায়। এখন ফেনী শহর ছাড়া-সমগ্র মহাকুমা কার্যত মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন।

 

 

  পার্বত্য চট্রগ্রামের পূর্বাংশ মুক্তঃপাক হেলিকপ্টার ভুপাতিত

 

 

গত কয়েকদিন মুক্তিবাহিনী পার্বত্য চট্রগ্রামের রামগড়ের উত্তর পূর্বাংশ ও তবলছড়ি এলাকায় আক্রমণ চালিয়ে বহু খানসেনাকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে উক্ত এলাকা মুক্ত করেছেন।মীরেরশরাইতে অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে ১০ জন খান সেনাকে হত্যা ও বেশ কয়েকজন খান সেনাকে আহত করেছেন।চট্রগ্রাম শহরে গেরিলা তৎপরতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমপূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।রামগড় এলাকায় একটি পাক হেলিকপ্টারকে মুক্তিবাহিনী গুলি করে ভূপাতির করেন।

 

 

 এ সাপ্তাহে দিনাজপুরের অমরখানা,জগদ্দলহাট ও হিলি এলাকা মুক্ত করে মুক্তিবাহিনী অভ্যন্তরভাগে এগিয়ে চলছেন। এখানে বহু পাকসেনা ও রাজাকার নিহত হয়েছে।রংপুর জেলার আলোক দীঘি ও আগ্রা পুকুরে ১২ জন খান সেনাকে মুক্তিবাহিনী হত্যা করেছেন।

.

.

সাতক্ষীরা মহাকুমা মুক্ত

 

 

মুক্তিবাহিনী গত ২২ শে নভেম্বর খুলনা জেলার  সাতক্ষীরা মহাকুমা মুক্ত করেছেন।এখনকার আক্রমণে বহু খান সেনা নিহত ও আহত হয়।শত্রুদের বহু  অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সাতক্ষীরা মুক্ত করার পর মুক্তিবাহিনী বীর বিক্রমে খুলনা শহরের দিকে চলেছেন। বিলম্বে পাওয়া এক খবরে বলা হয়েছে,গত  ১৪ তারিখ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত মুক্তিবাহিনী  বাগেরহাটে ১০ জন ও বাখেরগঞ্জে ৫ জন খান সেনাকে হত্যা করেন।মুক্তিবাহিনী গত ২৩ শে নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট এলাকায় আক্রমণ চালিয়ে পাক পশুদের অনেককে হত্যা করেন।বাকীরা প্রাণ নিয়ে পালিয়ে গেলে কানাইঘাট মুক্ত হয়।

 

ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহাকুমায় শহর ছাড়া চারিদিক মুক্ত করা হয়।মুক্তিবাহিনী কিশোরগঞ্জ শহরে খান সেনাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছেন।