২৬৯. ২৫ নভেম্বর মার্কিন বৈদেশিক নীতি ও বাংলাদেশ

Posted on Posted in 6

কম্পাইলারঃ হিমু নিয়েল

<৬,২৬৯,৪৫৮-৪৬০>

সংবাদপত্রঃ অভিযান ১ম বর্ষঃ ২য় সংখ্যা

তারিখঃ ২৫ নভেম্বর, ১৯৭১

.

মার্কিন বৈদেশিক নীতি ও বাংলাদেশ

(অভিযান রাজনৈতিক পর্যালোচনা)

পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন স্নেহপুষ্ট একদল মার্কিনী বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ সমস্যার গভীরতা খতিয়ে দেখার জন্য ভারত আসবেন। খবরে আরো বলা হয়েছে যে, তাঁরা বাংলাদেশের ও ভারতীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করবেন এবং সত্যিকারভাবে সমস্যার গুরুত্ব কতখানি তা দেখার জন্য বিচিন্ন শরণার্থী শিবিরগুলি পরিদর্শন করবেন।

.

ভারতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত আর এক খবরে জানা গেল যে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সর্দার শরণ শিং এই ধরণের ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রয়োজনীয়তার গুরুত্বই অস্বীকার করেছেন এবং এ ব্যাপারে সরকারীভাবে তিনি কিছু জানেন না বলেও সংবাদ জানিয়েছেন।

.

এখন প্রশ্ন হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ আট মাস পরে, যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন তার ইস্পিত লক্ষ্যে দ্রুত এগিয়ে চলেছে তখন হঠাৎ বাংলাদেশ সমস্যার গুরুত্ব কতখানি অথবা তার গভীরতা পরিমাপের জন্য এত ব্যাস্ত হয়ে পড়ল কেন ?

.

মার্চ মাস হতে বাংলাদেশে ইয়াহিয়ার নরখাদক বাহিনী যে ধ্বংস নাট্য মঞ্চস্থ করেছে এবং সাড়ে সাত কোটি বাঙালী সেই অমানুষিক দানবীয় আগ্রাসনকে যে ভাবে প্রতিহত করেছে- আর যার ফলে এককালের পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মানচিত্রের পরিবর্তন সূচিত হয়ে জন্ম নিয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ- তা আর যাই হোক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অজানা থাকার কথা নয়।

.

মানবতার এ লাঞ্ছনা- জাতি হিসেবে বাঙালীকে একদিকে যেমন তার অস্তিত্ব রক্ষার কঠিনতম সংগ্রাম ও চূড়ান্ত আত্মপরীক্ষার দরজায় ঠেলে দিয়েছে তেমনি অন্যদিকে পৃথিবীব্যাপী সৃষ্টি করেছে মানবতার মুমুর্ষ দেহে প্রাণ সঞ্চারের অংকুর। কঙ্গোর হত্যালীলা প্রতক্ষ্য করে, এঙ্গেলো মোজাম্বিকে মনুষ্যত্বের অবমাননা দেখে, ভিয়েতনামে ঘন্টাচুক্তি মৃত্যু আর বায়াফ্রার রক্তাক্ত শ্মশান ভূমির জ্বলন্ত স্মৃতি মনে রেখেই বুঝি বাংলাদেশ প্রশ্নে বিশ্ববিবেক আর চোখ বুজে থাকতে পারেনি। অনেক দেরিতে হলেও মৃত দেহে প্রাণসঞ্চারের মত অতি ধীরে বিশ্ববিবেকের জাগৃতি আমরা লক্ষ্য করছি। তাই আজ শত কোটি মানুষের ভালোবাসা আর মমত্ববোধের প্রতিধ্বনি শোনা যায় ‘প্রাভদা’ আর ব্রান্টের কন্ঠে। ইউরোপ, আমেরিকাসহ এশিয়া আর আফ্রিকার মানবদরদী আসংখ্য কন্ঠের প্রতিধ্বনি খোদ অ্যামেরিকান সিনেটের সদস্য গালাঘার আর কেনেডির মুখেও আমরা শুনছি।

.

 পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশের মানুষ ও তাঁদের সরকার ( চিহ্নিত কয়েকটি দেশ বাদে) বাংলার এই চরম সর্বনাশের মুখে তাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন- দাঁড়াবার আশ্বাস দিয়েছেন। ৭০ এর নভেম্বরে বাংলাদেশে সামুদ্রিক জলচ্ছাস ও মহাপ্লাবনের পর সারা পৃথিবী যে গভীর মমত্ববোধের পরিচয় দিয়েছিল দশ লক্ষাধিক মৃত বাঙালী আত তাদের বাত্যাবিধ্বস্ত পরিজনদের প্রতি যেভাবে বিশ্ব মানবগোষ্ঠী সাহায্য আর সহানুভূতির উদার হাত এগিয়ে দিয়েছিল ঠিক অনুরূপভাবে ১৯৭১ সালে ইয়াহিয়ার ফ্যাসিবাদী আক্রমণে বিধ্বস্ত বাঙ্গালীকেও পৃথিবীর মানুষ সাহায্য করেছে এবং সহানুভূতি জানিয়েছে আন্তরিক মমত্বে।

.

পৃথিবীর টেলিভিশন কেন্দ্রসমূহ, তাবৎ রেডিও ষ্টেশনগুলি থেকেও বারবার প্রচারিত হয়েছে- হচ্ছে বাংলাদেশ সমস্যা ও তদসংক্রান্ত সকল পরিস্থিতির।

আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় সমঝতা কেন্দ্র জাতিসংঘের সাহায্য ও ত্রাণ কমিটির সাহায্য পেয়েছে বাঙ্গালীরা। খোদ আমেরিকা থেকেই ঐ সংঘের ত্রাণ কমিটি প্রধান প্রিন্স সদ্রুদ্দীন আগা খাঁ স্বয়ং তদন্তে এসেছিলেন ভারতে। অধিকৃত বাংলাদেশ যাকে ইয়াহিয়ার প্রচারযন্ত্র আজও পূর্ব পাকিস্তান বলে প্রচারে সরগরম, তাও পরিভ্রমণ করেছেন প্রিন্স সদরুদ্দীন আগা  খাঁন। তাঁর এই পরিভ্রমণ এবং তদন্তের পর জাতিসঙ্ঘের সদর দফতরে এবং সাংবাদিক সম্মেলনে কি কি বলেছিল তা এত বেশিদিনের কথা নয় যে আমরা ভুলে যাব। পৃথিবীর সমস্ত লোক প্রিন্সের মুখে শুনেছে যে, বাংলাদেশ থেকে এত ব্যাপক সংখ্যক শরনার্থি ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন যে, তার দায়িত্ব ভারত সরকারের একার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়- পৃথিবীর মানবতাবাদী প্রতিটি সরকারেরই বাঙালীদের ত্রাণ কার্যে এগিয়ে আসা উচিৎ। স্বয়ং রাষ্ট্র সংঘের সেক্রেটারী জেনারেল বলেছেন, বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসের কলঙ্কিততম অধ্যায় হল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী। তিনি বলেছেন, আরও অধিক হারে এই দুর্দশাগ্রস্থ জাতিকে সাহায্য করতে হবে এবং সেটাই আজকের পৃথিবীর নৈতিক দায়িত্ব। তদন্ত শেষের রিপোর্টে প্রিন্স সদরুদ্দীন আরো বলেছেন, সম্মানজনক রাজনৈতিক সমাধান ও নিরাপত্তার অটুট আশ্বাস না পেয়ে শরনার্থিরা দেশে ফিরে যাবেন না। শুধু প্রিন্স সদরুদ্দীন নয় পৃথিবীর মানবতাবাদী রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিরা সাংবাদিকরা যারাই শরনার্থি শিবির পরিদর্শনের জন্য ভারতে এসেছেন তাঁরা সবাই একবাক্যে বলেছেন যে, উপযুক্ত সময়ে সম্মানজনক পরিস্থিতিতেই শুধু মাত্র বাঙালিরা তাঁদের দেশে ফিরে যাবেন, তার আগে নয়। উপরোক্ত মন্তব্য তাঁরা নিশ্চয়ই তাঁদের স্ব-স্ব স্বার্থের নিশ্চয়তা বিধানের সূত্র হিসেবে উপস্থিত করেননি এবং শরনার্থীরা যা তাঁদেরকে বলেছেন, বিশ্বের বিবেকবান এই মানুষগুলি তাই বিশ্বের কাছে আকপটে তুলে ধরেছেন মাত্র।

এতসব ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও যখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট তদন্ত কমিশন নিয়োগ করে বাংলাদেশ সমস্যার গভীরতা মাপার প্রশ্ন তোলেন তখন কি একটি প্রশ্ন সংগত ভাবেই করা চলে না যে, তাহলে বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বব্যাপি এই ডামাডোলের বাজারে আমেরিকা গত ক’মাস শুধু নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতি প্রবাহ কিন্তু এই তথ্য স্বীকার করে না। বরং ঘটনার পরস্পর এই কোথাই বলে যে, বাংলাদেশ সমস্যায় যারা বিশেষ ভাবে বিচলিত আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র তাদের মধ্যে অন্যতম।

পাকিস্তান অখণ্ড থাকবে, না তা ভেঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশ জন্ম নেবে এই প্রশ্ন বিশ্বব্যপী জনমত দু-টুকরো হয়ে ভেঙ্গে গেছে। কিছু কিছু স্বার্থপন্থী, যারা পাকিস্তানের অখন্ডতায় নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির উপাদান দেখেন, তারা বাঙালীদের প্রতিরোধ মুক্তিযুদ্ধের আয়ুষ্কাল বেঁধে দিয়ে তার ব্যার্থতার কারণগুলি বিশ্লেষণ করতে যাওয়ার শখের মত, বোকার স্বর্গে বাস করছেন না এমন নয়। অবশ্য এক বৃহৎসংখ্যক ইতিহাস সচেতন মানুষ এর প্রতীবাদ করেছেন। তাঁরা বলেছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জয় লাভ নিশ্চিত। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র মার্চ পরবর্তিকালে নিশ্চিতভাবেই পাকিস্তানের পক্ষে এমন সব কাজ করেছে যাতে করে দিবালকের মত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, মার্কিনিরা আর যাই হোক পাকিস্তান ভেঙ্গে যাক তা চায় না। আর তা চায় না বলেই সে পাকিস্তানী জল্লাদদের হাতে তুলে দিয়েছে ব্যাপক হারে মানুষ মারার অস্ত্র।

একথা অবশ্য ঠিক যে পাকিস্তান সৃষ্টির পর গোটা পাকিস্তানে এমন কোন রাজনৈতিক অথবা অর্থনৈতিক উত্থানপতনের ঘটনা নেই যাতে মার্কিনিদের স্বার্থ জড়িত ছিল না- বিশেষ করে খাজা নাজিমুদ্দিনের পতনের পর কার্কিনী পেটুয়া বগুড়ার মোহাম্মদ আলীর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর গদীতে বসার পর । এরপর থেকে মার্কিন সরকার পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা শুরু করে। এ প্রসঙ্গে পূর্ব বাংলার ঐতিহাসিক ৫৪- এর সাধারণ নির্বাচনত্তর কালে পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টার কুখ্যাত সাংবাদিক কলহন- এর নাম উল্লেখযোগ্য।

সে যাই হোক আমেরিকা যে কোটি কোটি বাঙালীর এই চরমতম বিপদের দিনে পাকিস্তানী বৃহৎ পুঁজিপতিদের পক্ষে দাঁড়াবে  তা পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান ও তার অর্থনীতিতে অ্যামেরিকান লগ্নী পুঁজিই বলে দেয়। এ নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন পড়ে না। আর তাই আমরা দেখি- আমেরিকা তার তাঁবেদারদের দিয়ে সবকিছু ভুলে গিয়ে একটা রাজনৈতিক আপোষ- মিমাংসার কথা বিভিন্ন সময়ে বারবার উত্থাপন করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের সরকার, বাংলাদেশের সংগ্রামী জনতা তা বারবার প্রত্যাখ্যান করে মুক্তিযুদ্ধের পতাকাকেই উর্ধে তুলে ধরেছেন।

ইতিমধ্যে জল্লাদ ইয়াহিয়া তার সাধের পাকিস্তান বাঁচাতে গিয়ে বড় বেশী দিয়ে ফেলেছে। ভারত সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ করে সে এখন ভারত আক্রমণ করে এটা পুষিয়ে নিয়ে বাংলাদেশ সমস্যাকে পাক ভারত সমস্যা হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টায় নিয়োজিত। আর এতে তার বড় মদতগার হল বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের মোড়ল আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকা এর আগে রাষ্ট্রসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল উথান্টের মাধ্যমে সীমান্তে জাতিসংঘ বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাবও অবশ্য এই উদ্দেশ্যে করেছিল বলে মনে করার যুক্তিসংগত যথেষ্ট কারণ আছে।

এদিকে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি যা বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি চ্যালেঞ্জস্বরুপ বিদ্যমান তা পাকিস্তান বা বাংলাদেশ প্রশ্নে বেশ বেকায়দায় পড়ে গিয়েছে। আমেরিকান সিনেটে ক্রমাগত বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ হ্রাসের দাবী সোচ্চার হয়ে ওঠে। ফলে ৮ই নভেম্বর সিনেটে যে বৈদেশিক সাহায্য বিলের অবলুপ্তি ঘটে তাতে আর বৈদেশিক অর্থ সাহায্যের ক্ষেত্রেও বেকায়দায় পড়ার লক্ষণ স্পষ্ট। ( অবশ্য পরে এই বিলটি অনুমোদিত হয়েছে।)

আন্তর্জাতিক বিশেষ করে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক পটভূমিকায় তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ তার ঐতিহ্যবাহী দুমুখো পররাষ্ট্রনীতি অব্যাহত রাখতে অসমর্থ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ শরনার্থীদের সাহায্যদান ও বাঙ্গাল হত্যায় দস্যু ইয়াহিয়া চক্রের সাহায্য কার্যক্রম যে আর পাশাপাশি চালানো যাবে না তা বিশ্বজনমত ও সংগ্রামী বাঙালীর সোচ্চার কন্ঠ স্পস্টভাবে বলে দিয়েছে।

তার ফলেই ক্ষমতাসীন নিক্সন প্রশাসন বাংলাদেশ প্রশ্নে তাদের নিজস্ব অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে চায়। কিন্তু তা করতে গেলে হয় মার্কিনিদের সরাসরি ইয়াহিয়ার পক্ষে নয়ত বাংলার মুক্তিকামী মানুষের পাশে এসে দাঁড়াবার প্রশ্ন ওঠে। অথচ এর কোনটাই হোয়াইট হাউজ তার নিজস্ব শ্রেনী চরিত্রের কল্যাণে করতে পারে না। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর সাথে চীনা নেতৃত্বের দহরম- মহরম, পশ্চিম ও দক্ষিনপূর্ব এশিয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সর্বশেষ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি আমেরিকানদের উপরোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে বিশেষ বাধার কাজ করেছে বলে অনুমান করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

তাই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী অশুভ শক্তি আজ বাংলাদেশ সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি ঘটিয়ে এই নাজুক পরিস্থিতি হতে মুক্তি পেতে চায়। এ ব্যাপারে ইয়াহিয়ার গোপন আপোষ প্রস্তাব তাদেরকে যথেষ্ট উৎসাহিত করেছে বলে অনুমান করা যেতে পারে।

তাই দীর্ঘদিন বাংলাদেশ প্রশ্নে কোন বক্তব্য না রেখে, খুনী ইয়াহিয়া চক্রের মারণাস্ত্র সরবরাহ করে আজ হঠাৎ নিক্সন প্রশাসন বাংলাদেশ সমস্যার গভিতরা পরিমাপের প্রয়োজনে এদেশে পাঠাচ্ছে বিশেষজ্ঞ দল, যাদের একমাত্র কাজ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শত্রুদের খুঁজে বের করে গোটা আন্দোলনকে আপোষের চোরাগলিতে নিক্ষেপ করে পাক- ভারত উপমহাদেশে মার্কিন অবস্থানকে অক্ষত রাখা।

কিন্তু ইতিমধ্যে অনেক রক্তস্রোত বয়ে গিয়েছে, পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, কপোতাক্ষ দিয়ে- নিক্সন প্রশাসন তা বুঝলেও হয়ত স্বীকার করতে চায় না। কিন্তু বাংলার আপামর জনগণ এই ষড়যন্ত্র ধরে ফেলেছে। তাঁরা যা বলতে চান তা প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্রের মন্ত্রী সর্দার শরণ সিংহের মুখেই শুনে রাখুন মার্কিন বিশেষজ্ঞ দল ‘এ দেশে আপনাদের কোন প্রয়োজন নেই’।