২৭। ২৭ আগস্ট বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছাই রাজনৈতিক সমাধানের বাস্তব ভিত্তি

Posted on Posted in p6

কম্পাইলারঃ জেসিকা গুলশান তোড়া

<৬,২৭,৫৪-৫৭>

শিরোনাম: বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছাই রাজনৈতিক সমাধানের বাস্তব ভিত্তি

সংবাদপত্রঃ জয় বাংলা ১ম বর্ষঃ ১৬শ সংখ্যা

তারিখঃ ২৭ আগস্ট, ১৯৭১

.

বাংলাদেশ ও বিশ্ববিবেক

বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছাই রাজনৈতিক সমাধানের বাস্তব ভিত্তি

হানাদারদের সামরিক সাহায্যদান অব্যাহত রেখে রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব নয়

(রাজনৈতিক ভাষ্যকার)

.

পশ্চিম পাকিস্তানী ঘাতক ইয়াহিয়া ও তার জল্লাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেক জাগ্রত ও সোচ্চার হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক আলোচনা চালানোর নামে ইয়াহিয়া খান ষোলই মার্চ থেকে পঁচিশে মার্চ পর্যন্ত টালবাহানা করে নিজের ঘাতক বাহিনীর শক্তিকে সংহত করেছে এবং নিঃসন্ধিগ্ধু ও নিরস্ত্র বাঙালী জনতার উপর আধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার ব্লুপ্রিন্ট প্রস্তুত করেছে। তারপর ২৫শে মার্চের রাতে ভুট্টো আর ইয়াহিয়া খান গোপনে পালিয়ে যাবার পর মধ্য রাতে পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে নিরস্ত্র ঘুমন্ত নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ নির্বিশেষে বাঙালী জনসাধারণের ওপর।

.

বাংলাদেশের জাতীয় নেতৃত্ব গণতন্ত্র সম্মত নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাঙালীর স্বাধিকার তথা দেশের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইয়াহিয়ার ঘাতক বাহিনী সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের পথ পরিত্যাগ করে সামরিক পশু শক্তির আশ্রয় গ্রহণ করেছিল।

.

বিশ্ববিবেক, বিশ্বের গণতন্ত্রীকামী মানুষ ইয়াহিয়ার পশুশক্তির বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একথা সুষ্পষ্টরুপে বুঝতে পারছে, ইসলামাবাদের শাসকচক্রের পক্ষে সামরিক পশুশক্তির সাহায্যে বাংলাদেশ সমস্যার কোন সমাধান সম্ভব নয়।

.

আর সেই জন্যেই জনৈক সাংবাদিক ও সাহিত্যিক সক্ষোভে প্রশ্ন করেছেনঃ সাম্রাজ্যবাদকে ‘মানবতাবোধ সম্পন্ন’ করতে সমর্থ হবার পূর্বে আরও কত নিখুঁত মানুষকে ‘শান্তিপূর্ণ’ এবং ‘অহিংসভাবে’ মৃত্যুবরণ করতে হবে? ‘অহিংস’ মৃত্যু কি সম্ভব? এই ক্ষোভ এ ক্ষণে সারা পৃথিবীতেই ধ্বনিত হচ্ছে।

.

রাজনৈতিক সমাধান

সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের ওপরে  জোর দিচ্ছেন। তাঁরা মনে করছেন যে, অবিলম্বে বাংলাদেশ সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান না হলে পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি ঘটবে এবং তার প্রতিক্রিয়া পড়বে সারা বিশ্বের ওপরে।

.

এডওয়ার্ড কেনেডির মন্তব্য

সম্প্রতি মার্কিন সিনেটের উদবাস্তু বিষয়ক সাব-কমিটির প্রেসিডেন্ট সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে স্বদেশে ফিরে গিয়েছেন। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পূর্বে নয়াদিল্লীতে তিনি মন্তব্য করেন যে প্রকৃত অবস্থা দেখার পর তাঁর ধারণা হয়েছে যে, একমাত্র রাজনৈতিক পথেই বাংলাদেশ সংকটের সমাধান হতে পারে এবং রাজনৈতিক আলোচনা শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গেই হতে হবে। তিনি পূর্বাহ্নে এমন একটি ধারণাও দিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশ সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান সম্পর্কে তাঁর মনে একটি প্রস্তাব রয়েছে। কিন্তু সেই প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি সেই মুহূর্তে কিছু জানাতে অস্বীকার করেন।

.

পূর্ব জার্মানীর অভিমত

পূর্ব জার্মানীর তিন সদস্য বিশিষ্ট সংসদীয় প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গের শরণার্থী শিবিরগুলো দেখার পর নয়াদিল্লীতে গত ২১শে আগস্ট এক সাংবাদিক সম্মেলনে মন্তব্য করেছেন, “এশিয়া তথা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা অক্ষুন্ন রাখতে হলে বাংলাদেশ সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান একান্ত প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। ”

.

পশ্চিম জার্মানী

অপরদিকে নয়াদিল্লীর দূতাবাসে পশ্চিম জার্মানীর নবনিযুক্ত মন্ত্রী মিঃ ডবল্যু বেহরেম্ভস পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে বাংলাদেশ থেকে আগত শরণার্থীদের শিবির পরিদর্শন করার পর সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করেছেন যে, শরণার্থীরা যাতে স্বদেশে ফিরে যেতে পারেন সেজন্যে সেখানে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হোক, এটাই তাঁর দেশের কাম্য এবং সে জন্যে একটা রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।

.

সমাধান কোন পথে?

সকলেই বাংলাদেশ সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের কথা বলেছেন। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরিবর্তে রাজনৈতিক পথে এই প্রশ্নের যদি মীমাংসা করা সম্ভব হয় তাহলে আপত্তির কি থাকতে পারে। কিন্তু এই রাজনৈতিক সমাধানের রুপ কি হবে এবং কোন পথে এই সমাধানকে ফলপ্রসূ করা সম্ভব হবে তা কেউই খোলাখুলি বলছেন না।

.

হানাদার বাহিনীর প্রত্যাহার চাই

সিনেটর কেনেডি গণতান্ত্রিক ও মানবতাবাদী ভূমিকার জন্য বিশ্বের গণতন্ত্রবাদী ও শান্তিকামী মানুষের অকুন্ঠ শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন লাভ করেছেন। তিনি নিজেই একটা কথা স্বীকার করেছেন যে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী বাংলার মাটিতে থাকা পর্যন্ত একজন শরণার্থীও স্বদেশে ফিরে যাবে না বরং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শরণার্থীর সংখ্যা এক কোটি বিশ লক্ষে দাঁড়াবে। আমাদের ব্যক্তিগত ধারণা সিনেটর কেনেডি সংখ্যাটা অনেক কমিয়ে বলেছেন। তবে তাঁর কথা অনুযায়ী বলা যায় যে, পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী বাংলাদেশে এমন একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে যে, সেখানে মানুষের পক্ষে নিশ্চিন্তে নিরাপদে বাস করা সম্ভব নয়। তারা দেশে সামান্যতম স্বাভাবিক অবস্থাও ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থাৎ বৈদেশিক হানাদার বাহিনীর চরিত্র তারা কোন ক্রমেই চাপা দিতে পারছে না। সেখানকার অবস্থাটা যে খুবই অবনত তার প্রমাণ পাওয়া যায়, পশ্চিম পাকিস্তানী সরকার কর্তৃক শেষ মুহূর্তে আকস্মিকভাবে বাংলাদেশের অধিকৃত এলাকায় সিনেটর কেনেডির সফরের অনুমতি বাতিল করার ভেতর দিয়ে।

.

‘অপারেশন ওমেগার’ লাঞ্ছনা

বৃটিশ ও মার্কিন নাগরিক সমবায়ে গঠিত ‘অপারেশন ওমেগার’ নামে একটি সেবা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের দখলীকৃত এলাকায় দুস্থ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় রিলিফ সামগ্রী বিতরণের উদ্দেশ্যে বেনাপোলের পথে বাংলাদেশের দখলীকৃত এলাকায় প্রবেশ করেছিল। কিন্তু পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী তাদের বাধা দেয় এবং ত্রাণ সামগ্রীসহ পুনরায় মুক্ত এলাকায় ফিরে আসতে বাধ্য করে। এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য ও সদস্যগণ  মানবতার নামে এবং মানবাধিকারের দাবীতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অধিকার দাবী করেছিল। কিন্তু জল্লাদ হানাদার বাহিনীর কাছে মানবতা বা মানবাধিকারের বানী অর্থহীন শব্দ মাত্র। অথচ এই হানাদার সামরিক জান্তাই বিশ্বের কাছে দখলীকৃত এলাকার দুর্গত মানুষের ত্রাণ কার্যের জন্য সাহায্য চেয়ে পাঠাচ্ছে।

.

আসলে তা বাঙালীদের ত্রাণ কার্যের জন্যে নয়, তাদের ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতিকে কোন রকমে টিকিয়ে রাখার এবং ঘাতক সৈন্যদের জন্যে রসদের সরবরাহ অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্যেই এই সাহায্যের আবেদন জানানো হচ্ছে। তা নইলে ‘অপারেশন ওমেগার’ সদস্যদের সাহায্য সম্ভার দুস্থ মানুষদের মধ্যে বিতরণ করতে না দেয়ার কোন কারণ থাকতে পারেনা।

.

যারা সত্য-সত্যই বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমাধান কামনা করেন, তাঁরা এটাও জানেন যে, একমাত্র বাংলাদেশের জাতীয় নেতৃত্বের সঙ্গেই রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব। তাঁরা এও জানেন যে, পঁচিশে মার্চের রাতেই ইয়াহিয়ার সামরিক চক্র সেই সমাধানের সকল পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে।

.

শুধু মুখের কথায় একটা সামরিক জান্তাকে রাজনৈতিক সমাধানের পথে আনা সম্ভব নয়, তাদের রাজনৈতিক সমাধানের পথে আনতে বাধ্য করতে হবে। ভাল কথায় তাদের মনে শুভ বুদ্ধির উদয় হবেনা।  সিনেটর কেনেডি নিজেই বলেছেন যে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অবস্থায় প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীরা কিছুতেই স্বদেশে ফিরতে প্রস্তুত নয়, এ কথাটা তিনি উপলব্ধি করতে সমর্থ হয়েছেন। তাহলে এই সমস্যার সমাধান যে কি তাও তিনি নিজে উপলব্ধি করতে পেরেছেন।

.

তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, এই সমাধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর রাজনৈতিক দলের সঙ্গে করতে হবে।

.

পূর্ব জার্মানীর প্রতিনিধি দলও বলেছেন যে, রাজনৈতিক সমাধান সেখানকার জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী হতে হবে। বাংলাদেশের নির্বাচন, আশি লক্ষ শরণার্থীর প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণ ও আরও  সমপরিমাণ শরণার্থীর আগমন সম্ভাবনা এবং গণ প্রতিনিধিদের অভিমত থেকে জনগণের ইচ্ছা যে কি তা বুঝতে কারও অসুবিধা হবার কথা নয়। আরও অস্ত্রশস্ত্র ও রসদ দিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে তাদের ঘাতক বৃত্তিতে উৎসাহ দান করলে কোন ক্রমেই বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী রাজনৈতিক সমাধান করা যাবে না। সত্য সত্যই রাজনৈতিক সমাধান করতে হলে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্যদান বন্ধ করতে হবে। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই হানাদার বাহিনীকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্যদান করে রাজনৈতিক সমাধানের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করছে।

.

দায়িত্বজ্ঞানহীন ও নৈতিকতা বিরোধী

এককালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারী অব স্টেট ও ভারতে নিযুক্ত প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিঃ চেস্টার বোনস মন্তব্য করতে বাধ্য হয়েছেন যে, পাকিস্তানে অব্যাহত মার্কিন সাহায্য ‘দাবিত্বজ্ঞানহীন’ ও নীতিবিগর্হিত। ভ্রান্ত মার্কিন নীতি সংশোধন করে তিনি সামরিক সাহায্যদানের পরিবর্তে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলোচনায় প্রবৃত্ত হবার জন্যে ইয়াহিয়ার উপর চাপ সৃষ্টির পরামর্শ দিয়েছেন।

.

সিনেটর কেনেডির রাজনৈতিক সমাধানের রুপরেখা আমাদের জানা নেই। কিন্তু প্রকৃত পরিস্থিতি তিনি নিজেই উপলব্ধি করতে পেরেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর রাজনৈতিক সমাধানের ফর্মুলা উদ্ভাবন করতে হবে।

.

পাকিস্তানের রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে এই সমাধানের যে সম্ভাবনা ২৫শে মার্চের পূর্বে ছিল, ২৫শে মার্চের মধ্য রাতেই সে সম্ভাবনাকে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানের ন্যাপ নেতা ওয়ালী খানও সম্প্রতি কাবুলে এক সাংবাদিক সাক্ষাৎকারে এই সত্য স্বীকার করেছেন।

.

বিশ্বের বৃহৎ শক্তিপুঞ্জে তাদের প্রভাব বলয়ের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে এই সত্যটির প্রতি যদি উদাসীন থাকেন তা হলে বিশ্বের একটা মৌলিক ও শাশ্বত সত্যের প্রতিই মুখ ফিরিয়ে থাকা হবে। সেই সত্যটি হচ্ছেঃ পৃথিবী কোথাও কখনও জাতীয় মুক্তি সংগ্রামকে শেষ পর্যন্ত কেউই ব্যর্থ করতে পারেনি। জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম চিরকাল জয়লাভ করেছে।

.

যারা আজ বাংলাদেশ সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের কথা বলেছেন তাদের এই সত্যটি সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত থাকতে হবে। হানাদার বাহিনীকে অস্ত্র, রসদ ও অর্থনৈতিক সাহায্যদান অব্যাহত রেখে রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব নয়। সিনেটর কেনেডির এ ব্যাপারে বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। মার্কিন জনগণের মধ্যে তাঁর প্রভাব অনস্বীকার্য। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্যদান যে বাংলাদেশের সংকটকে দীর্ঘস্থায়ী করা এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথে পর্বত প্রমাণ অন্তরায় সৃষ্টি করা, মার্কিন জনগণের কাছে এই সত্যটাকেই তুলে ধরতে হবে।

.

‘আমরাও একা নই’ বলে ইয়াহিয়া খান যে সামরিক দম্ভোক্তি করেছে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের প্রেক্ষিতে এই দম্ভোক্তি যাদের সমর্থনের কথা ভেবে করা হয়েছে, তাদের জন্যে মোটেও শ্লাঘার বিষয় নয়, মার্কিন জনগণ ও মার্কিন সরকারের কাছে এ কথাও সিনেটর কেনেডিকেই পৌঁছে দিতে হবে। শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শনের এবং পাকিস্তানী সামরিক জান্তা কর্তৃক দখলীকৃত বাংলাদেশে তার সফরের অনুমতি বাতিলের পর, এই দায়িত্ব তাঁর ওপর বিশেষভাবে বর্তেছে।

.

চারটি প্রশ্ন

বাংলাদেশ সমস্যা সম্পর্কে সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী চারটি মৌলিক প্রশ্নের প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি প্রশ্ন করেছেনঃ সাড়ে সাত কোটি মানুষের বাঁচার অধিকার আছে কি না? সংখ্যাগরিষ্ঠরা কি সংখ্যালঘুদের দ্বারা নিপীড়িত হতে থাকবেন? এই সংখ্যালঘুরাই কি সংখ্যাগরিষ্ঠদের দাবিয়ে রাখার জন্যে অন্যান্য দেশ থেকে অস্ত্র আমদানী করে চলবেন?

.

তিনি চান যে, প্রতিটি রাষ্ট্র উপরোক্ত প্রশ্নগুলো নিয়ে চিন্তা করুন এবং উত্তর দিন।

.

যারা আজ রাজনৈতিক সমাধানের কথা বলেছেন, তাদের আন্তরিকতা কতটুকু তার বিচার হবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর উপরোক্ত প্রশ্নের কার্যকরী উত্তরের ওপর।