২৮১. ২১ জুলাই গনপ্রতিনিধিদের শপথ

Posted on Posted in 6

অনুবাদঃ নোবেল

<৬,২৮১, ৪৮২-৪৮৩>

সংবাদপত্রঃ বাংলাদেশ ভলিউম ১ নং ৪

তারিখঃ ২১ জুলাই, ১৯৭১

.

গণপ্রতিনিধিদের শপথ

.

বাংলাদেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা শপথ গ্রহণ করেছেন এই মর্মে যে তারা পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর হাত থেকে বাংলাদেশের সীমানা মুক্ত করবেন এবং আওয়ামীলীগ ও এর নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও চেতনা অনুসরণ করবেন। তাঁরা ইসলামাবাদের সাথে কোনরকমের রাজনৈতিক সমঝোতার ধারণা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে দিয়েছেন।

.

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌম ক্ষমতা দৃঢ় করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের কোন এক জাগায় আয়োজিত দুই দিনের অনফারেন্স আলোচনায় নির্বাচিত ৩৭৪ জন জনপ্রতিনিধি (সদ্য বিলুপ্ত পাকিস্তানের জাতীয় এবং প্রাদেশিক সভার মেম্বাররা)  দৃঢ় সংকল্প ব্যাক্ত করেন।

.

১৩৫ জন এমএনএ ২৩৯ জন এমপিএ ৬ জুলাই,১৯৭১ এক কনফারেন্সে মিলিত হন। ৭ জুলাই, ১৯৭১ কনফারেন্স সমাপ্ত হয়। উল্লেখ্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মন্ত্রীগণ, যাদের নাম, জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ (প্রধানমন্ত্রী), জনাব খোন্দকার মোস্তাক আহমেদ (পররাষ্ট্র মন্ত্রী), জনাব মনসুর আলী (অর্থমন্ত্রী), এবং এএচএম কামারুজ্জামান(ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী) সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

.

সৈয়দ নজরুল ইসলাম উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে সভা শুরু করেন এবং কিছু প্রস্তাবনা গ্রহণের মাধ্যমে সভা সমাপ্ত হয়। জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ (প্রধানমন্ত্রী) এবং কর্নেল এম এ জি ওসমানী, কমান্ডার ইন চিফ, মুক্তিবাহিনী( লিবারেশন ফোর্স) যেকিনা জাতীয় পরিসদেরও একজন সদস্য, সভার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন এবং অনেক মেম্বাররা আলোচনায় অংশনেন।

.

দুই দিন ব্যাপী এই সভাতে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে শত্রু হঠানর জন্য সরকারের সকল প্রচেষ্টার সমর্থনে মেম্বাররা শক্তভাবে সরকারের পিছনে আছেন। এছাড়া এই কনফারেন্স পরিষ্কার প্রশ্নোত্তর এবং নির্ধারিত মতামতের মাধ্যমে এটা পরিষ্কার করে দিয়েছে যে ইয়াহিয়ার খুনে বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের উপরদিয়ে কোন সমঝোতা হতে পারে না। দখলদার বাহিনীর সম্পূর্ণ নির্মূলই সাড়ে সাত কোটি বাঙালির মুক্তির এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার একমাত্র পথ। এ সকল উদ্দেশ্য পূরণের জন্য, কনফারেন্সে সিধ্যান্ত নেওয়া হয়েছে আরো অধিক গতি ও শক্তি দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা করা হবে।

.

এই কনফারেন্সের এক প্রস্তাবনায় বিশ্বের সকল দেশের কাছে বাংলাদেশে ইসলামাবাদের শাসক গোষ্ঠীর গণহত্যা বন্ধ্যের জন্য চাপ প্রয়োগের আহবান জানানো হয়। অপর এক প্রস্তাবনায় সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নিঃশর্ত মুক্তির এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ইসলামাবাদের উপর চাপ প্রয়োগের অনুরোধ করা হয়। কনফারেন্সে পাক আর্মির হাতে নিহত একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির জন্য শোক প্রকাশ করা হয় এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত সকল শহীদের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়।

.

কনফারেন্স বাংলাদেশ সরকারের প্রতি তাঁর আস্থা পুনর্ব্যাক্ত করেন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে সর্বত ভাবে সহযোগীতার নিশ্চয়তা দেন।

.

অপর এক প্রস্তাবনায়, মেম্বাররা ইসলামাবাদে আমেরিকান অস্ত্র সরবরাহের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ইয়াহিয়া বাহিনীকে বাংলাদেশে গণহত্যা চলমান রাখার জন্য দেওয়া এই সহযোগিতার তীব্র নিন্দা জানান।