২৮৯. ১ সেপ্টেম্বর ‘সত্যের সন্ধানে’

Posted on Posted in 6

অনুবাদঃ এ. এস. এম. হাসান লতিফ এবং সুমিতা দাশ

<৬,২৮৯,৪৯৬-৪৯৯>

শিরোনামঃ সম্পাদকীয় সত্যের সন্ধানে

সংবাদপত্রঃ বাংলাদেশ ভলিয়মঃ১. নং ৩

তারিখঃ ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

.

সম্পাদকীয়

সত্যের সন্ধানে

আধুনিক বিশ্বের সরকারদের বিবেক এখনও অনুভূতিহীন । নিম্ন গাঙ্গেয়ভূমির ৭,৫০,০০,০০০ মানুষের দুরাবস্থা, বাংলাদেশের জনগণের দুর্দশা বিশ্বের নানা দেশের সরকারদের তন্দ্রা এখনও ভাঙ্গাতে পারেনি।

সভ্যতার শিখরে উত্তরণের দাবীদার আধুনিক বিশ্ব প্রশান্ত চিত্তে বাংলাদেশের ঘটনাবলী অবলোকন করছে। ইয়াহিয়া খানের পাকিস্তানী মার্সনারীদের অতুলণীয় বর্বরতায়, এমন কি অন্ধকার যুগের বর্বরতাও যার সাথে সামান্যই তুলণীয়, তাদের বিব্রত বা বিচলিত করতে পারেনি।

বাংলাদেশের অপ্রস্তুত ও নিরস্ত্র গণতান্ত্রিক জনগণের এক হিসেবে ৭৮ ঘন্টা ইয়াহিয়া খান  দমন  চালিয়ে ক্রীতদাস বানানোর চেষ্টা চালানোর পর ৩৮৪০ ঘন্টা বিস্মৃত হয়ে গেছে। কিন্তু, হিসেব তার সাথে প্রতারণা করেছে। তার প্রিয় স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।  জাতি প্রতিপক্ষকে প্রতিহত ও পাল্টা আঘাত করতে হাতে অস্ত্র তুলে নিতে বাধ্য হলে নির্বোধ ইয়াহিয়া এ জাতির সংকল্প পরিমাপে ব্যর্থ হয়, ইয়াহিয়া ও তার দোসররা একটি জাতিকে দাসে পরিণত করতে বিভীষিকার আশ্রয় নিলে বাংলাদেশের জনগণ অস্তিত্তের লড়াই এ হয় কেননা দাসত্বের শৃঙ্খল ছিঁড়ে মুক্ত হতে ও নিজেদের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে আসার জন্য অস্ত্র তুলে নিয়েছে। বাঙ্গালীদের কাছে,  এ যুদ্ধ মানুষ হিসেবে সম্মানের সাথে বাঁচার যুদ্ধ, এটি বন্ধন ছিন্নের ও স্বাধীনতার যুদ্ধ।

যুদ্ধটি এখনও অসম যুদ্ধ। সুদীর্ঘ ২৪ বছরে পাকিস্তানী সামরিক জান্তা বাংলাদেশের রাজস্ব দিয়ে একটি মানসম্পন্ন সেণাবাহিণী গঠন করেছে যা সর্বাধুনিক ও শক্তিশালী মারণাস্ত্রে সজ্জিত। তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র, গণচীন ও ইরান হতে সংগৃহীত অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করা হচ্ছে। এভাবে একটি সংগঠিত নিয়মিত এ আধুনিক বাহিণী কে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে সাধারণ কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, বুদ্ধিজীবি সমাজের বিরুদ্ধে। ২৫ মার্চের সেই বিভীষিকাময় রাতে তাদের উপর নির্দেশ ছিল, “বাঙ্গালীদের মারো, সহায় সম্পদ লুট করো, তাদের বাড়ীঘর জ্বালীয়ে দাও, নারীদের ধর্ষণ করো। ধারণা করা হয় উক্ত আদেশটি এখনও চলমান রেয়েছে। সবথেকে অনুগত এ খুনির দল সর্বোচ্চ ধংসাত্মক শক্তি নিয়োগ করে তাদের প্রভুর হুকুম তামিল করেছে। এই নৃসংসতা ও বর্বরতা হতে ধর্ম, বর্ণ ও বয়স ভেদে নারী-পুরুষ সকলকে সমানভাবে জ্বালিয়েছে।

দুই মিলিয়ন ইতোমধ্যেই হত্যা করা হয়েছে, আট মিলিয়ন প্রতিবেশী দেশসমূহে পালিয়ে গেছে, ত্রিশ মিলিয়নকে, যদি এর বেশী না হয়, বাস্তুহারা করা হয়েছে যারা দেশের অভ্যন্তরে এখান থেকে সেখানে জীবন বাচানোর চেষ্টায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে, হাজার হাজার নারীর উপর পাশবিকতা চালানো হয়েছে, হাজার হাজার গ্রাম জ্বালীয়ে দেওয়া হয়েছে, কয়েক বিলিয়ন রুপীর সমমূল্যের সহায় সম্পদ লুট করা হয়েছে। এর উপর বণ্যায় আক্রান্ত বাংলাদেশ আজ দূর্ভিক্ষ ও মহামারির মুখোমুখি হয়েছে।

যারা পালিয়ে এসে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন, তারা আজ মানবজাতির এক চরম দুর্দশার কাহিনী বর্ণণা করছেন। অনেকে মারা গেছেন কলেরায়, অনেকে দীর্ঘ পদযাত্রায় অবসাদগ্রস্ত হয়ে। এক মিলিয়ন শিশু অপুষ্টির শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

এই গল্পের বাইরেও রয়েছে অনুপ্রেরণার গল্প। বাংলাদেশের তরুণরা তাদের দৃঢ় বিশ্বাস অকুন্ঠ মনোবল, নিরেট আনুগত্য ও অবিনাশী সংকল্পচিত্তে দখলদার বাহিণীর উপর একের এক এক বিধ্বংসী আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের গেড়িলা ও কমান্ডো হামলায় এরই মধ্যে বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করেছে। হাজার হাজার তরুণ মুক্তিবাহিনীতে তাদের নাম লেখাচ্ছে। তরুণদের শিবিরগুলো আজ সকল সেক্টরের ১৫–৫০ বছর বয়সের অটল ও বদ্ধপরিকর প্রশিক্ষণার্থীদের দ্বারা মুখরিত, এই স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণ যুদ্ধের সরবরাহ, ক্ষিপ্রতা ও নির্ভুলতার সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণে  তাঁরা যেমন বিস্মিত হয়েছেন, তেমনি প্রশংসাও কুড়িয়েছেন। “মুক্তি বাহিনী” শব্দগুলো এখন শত্রুদের জন্য এক বিভীষিকার নাম। শত্রু বাহিনীকেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ব্যাপক সংখ্যক অফিসারসহ প্রায় ৪০,০০০ জনের নিহত হবার কারণে।  সড়ক ও রেলপথ গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, নদীপথ সবচেয়ে অনিরাপদ, পাকিস্তানী ও বিদেশী জাহাজ বিস্ফোরণে ডুবে যাওয়ার পর চট্টগ্রাম, চালনা ও মংলা বন্দর কার্যক অচল হয়ে পরেছে। সেখানে রপ্তানীর জন্য পাট, চামড়াদি বা চাও অপেক্ষা করছে না, শহরগুলোর দপ্তরসমূহে উপস্থিতি ক্ষমারও অযোগ্য, দপ্তরগুলো শুধু নামকাওয়াস্তেই কার্যকর। “স্বাভাবিক জীবনযাত্রা” অব্যাহত আছে বলে সামরিক সরকার জোড়েশোড়ে চেচালেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যন্ত ভূতুড়ে স্থানে পরিণত হয়েছে। এই নিস্তব্ধতা কেবল মুক্তি বাহিনীই ভাংছে। মুক্তি বাহিনীর সাথে রয়েছে জন সাধারণের আশা ও আকাংখা। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র (বাংলাদেশ বেতার) মুক্তি বাহিনীকে উৎসাহ প্রদান করে যা জন সাধারণকেও সাহস জোগাচ্ছে। তাঁরা তীব্র সাহসিকতা ও মনোবলের সাথে সকল নৃশংসতা, হিংস্রতা ও অনাকাংখিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও তা সহ্য করে যাচ্ছে কেননা তাঁরা জানেন যে তাঁরা সত্যের জন্য লড়ছেন। তাঁরা স্বাধীনতা, সমঅধিকার ও ভ্রাতৃত্বের জন্য লড়ছেন।

অনেক কথাই বলা হয়েছে, ভল্যুমের পর ভল্যুম লেখা হয়েছে, উদ্যেগ ও সমবেদণাও প্রকাশ করা হয়েছে, বিশ্ববাসীর চোখের অনেক জলও গড়িয়ে পরেছে কিন্তু শাসকগোষ্ঠী এব্যাপারে এখনও শীতলতা প্রকাশ করছেন। তাইতো “শাসক ও শাসিত” এর এই সমস্যায় বিশ্ববাসী আজ হতবুদ্ধিতার শিখড়ে উপনীত হয়েছে।

দাতা, বুদ্ধিজীবি, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যক, শিল্পী, চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ জনগন আজ এমন এক মতৈক্যে পৌছেছেন যে তাঁরা মনে করছেন যে একটি জাতি বর্বর দস্যুদের হিংস্রতায় রক্তে ভেসে যাচ্ছে, তাঁরা বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের সরকারকে মানবতা রক্ষার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গণস্বাস্থ্য বিভাগের ড: এন. হার্শম, ড: আর. আর. ক্যাশ ড: ডব্লিউ. ই. উডওয়ার্ড লিখেছেনঃ

“……কখনও কি যুক্তরাস্ট্রের সরকার বুঝতে পারবে যে বাস্তবিকভাবে অনৈতিক রাজনীতি ধ্বংস, হতাশা ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়?”

জেমস নিকোলাস, উইল্যান্ড, ওন্ট বলেছেনঃ

“ভারতে অবস্থানরত শরণার্থীদের প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সাহায্যে কৃপণতা দেখিয়ে সভ্য দেশগুলোর সরকার পশ্চিম পাকিস্তানে সামরিক সাহায্য প্রেরণে কেন উদারতা দেখাচ্ছে? কেনই বা পশ্চিমের কিছু ব্যক্তি প্রাণী অধিকার সংরক্ষণের জন্য নাটক করলেও তাদেরই মত পূর্বের ৬ মিলিয়ন মানুষ যন্ত্রণার দূর্বিপাকে পৌছালেও নিশ্চুপ থাকে?”

.

সেইন্ট জন এনএফডি থেকে লিখেছেন ডঃ ওয়ালী খানঃ

“কোথায় ওয়াশিংটন নেতাদের মানবতা যারা সচেতন এবং দয়াশীল গনতন্ত্রের সমর্থক আমেরিকার ঐতিহ্যগত ভাবমূর্তি ধরে রাখেন? ইউএস কি নৈতিকতার চেয়ে স্তিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশের গনহত্যা না দেখার ভান করছে?“

   রাটজার ল স্কুল এর অধ্যাপক ডঃ আলবার্ট ব্লাউস্টেন পীড়িত মনে বলেছেনঃ

   “এটা অকল্পনীয় যে অনেক মানুষ গুরুতরভাবে ভুগছে। আমাদের ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো বিশৃঙ্খলা আছে। আমরা ভুলে গেছি যে আমরা একটি মানবতাবাদী জাতি।“

    বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সম্পাদক ও সংসদ সদস্যদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন টরন্টোতে অনুষ্টিত হয়েছে। পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে “উদ্বেগের টরন্টো ঘোষণা” এর যে পার্লামেন্ট পূর্ব পাকিস্তানের সাম্প্রতিক মাসের ঘটনা দেখে আতঙ্কিত হয়।যা মানব ইতিহাসে বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হয়ে গেছে।

   “…বর্তমান পরিস্থিতি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার শান্তির জন্য হুমকিস্বরুপ।তীব্রতাবৃদ্ধির পরিচিত নমুনাতে মহাশক্তিধরদের জড়িত থাকার বিপদ ও পুরো বিশ্বের জন্যে হুমকিস্বরুপ।সেক্রেটারি জেনারেল উ থান্ট এর বার বার সতর্কীকরণ সত্ত্বেও পৃথিবী বড়ভাবে অপরিবর্তিত রয়েছে।উদ্বাস্তু কার্য এর বাড়তি খরচ স্পষ্টভাবে ভারতে জন্য বহন করা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিশ্ব সম্প্রদায় দ্বারা কোন কার্যকরী রাজনৈতিক চাপ আনা হচ্ছে না এই বিয়োগান্ত পটভূমি শেষ করার জন্যে।“

   এমনকি ইসলামাবাদে আমেরিকান দুতাবাস-ইউএস এইড এর ক্যাথরিন জি কেলি বলেছেনঃ

   “গনতন্ত্র সমর্থন করার বিপরীতে মিলিটারি সমর্থনকারী শাসন যা তার নাগরিকের মধ্যে ১০ লক্ষ হত্যা করেছে এবং ৬০ লক্ষ মানুষকে তাদের ঘর ও দেশ থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছে, প্রশ্ন যদি ইউএস কে পীড়িত করে, তারপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কী আবার নৈতিক নেতৃত্ব চর্চা বা গনতন্ত্র প্রচার করার অধিকার বাজেয়াপ্ত করেছে।“

   মানবতা স্থগিতের ঘণ্টাধ্বনি শুনতে পেয়ে মানবতাবাদীরা পীড়িত।‘মানব অধিকার ও মর্যাদা’ র মহান দলিল স্রষ্টাদের সমর্থক নিজ হাতে মানবিক মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের কবর খুঁড়তে দেখে তারা হতবুদ্ধি হয়।

   আজ পৃথিবী বিশাল প্রশ্নের দাবি রাখে, সত্য কোথায়।

   সত্য বাংলাদেশের মানুষের মনের মধ্যে,সত্য মুক্তিবাহিনীর কাজের মধ্যে। ইহা বাঙ্গালীদের সঙ্গে একটি বিশ্বাস।

   বাংলাদেশের মানুষ, যারা একবার পূর্ব পাকিস্তানের নাম দ্বারা গিয়েছিল,সব মানবিক মর্যাদার সাথে বাঁচতে চেয়েছিল। অর্থনৈতিক শোষণ, সাংস্কৃতিক নাশ ও রাজনৈতিক আধিপত্য মুক্ত সমাজ গড়তে চেয়েছিল। ইহাই তাদের ইচ্ছা। যখন জনগণ চায় কে তাদের পথে দাড়াতে পারে? কে দেশ গঠন করে? ইহা জনগণ, সরকার কি? এটা হল, উক্ত করা, “জনগনের, জনগনের দ্বারা,জনগনের জন্য”। সুতরাং, সত্য হল,যখন বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীন সার্বভৌম ও তাদের নিজস্ব ব্যাপারের কর্তা হতে চায়, কোন কর্তৃত্ব, আইনগত বা নৈতিক, ইয়াহিয়া খান কে একটি জাতি হত্যা করতে হবে?

   ভূগোল, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা, সাহিত্য, প্রবণতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা, জীবনাচরণ বাঙ্গালীদের পশ্চিম পাকিস্তানীদের থেকে পুরোপুরি আলাদা জাতি করে তুলেছে। এটা সত্য। কেউ অস্বীকার বা অগ্রাহ্য করতে পারবে না। পাকিস্তানের ২৪ বছরের ইতিহাস ও এটা অস্বীকার করতে পারবে না। সুতরাং দুই টি পৃথক নীতি অনুশীলন ছিল। যে দেশগুলো পাকিস্তানকে সহায়তা সরবরাহ করছে তারা এগুলো বাইরে বহন করছে। দেশ যদি এক হতো সেখানে কোন শুল্ক বাধা ও আনুষ্ঠানিকতা হতো না, দ্রব্যমূল্য আশ্চর্যজনকভাবে অসমান হতো না। যদি দেশ এক হতো, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠরা ক্ষমতা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হতো না, এখানে এরকম ঘৃণা ও রক্ত থাকতো না বাঙ্গালীদের জন্য। দেশ যদি একই হতো, বিশৃঙ্খল বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড হতে পারতো না, অখণ্ডতার প্রচারক বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে যে অখণ্ডতা ঘৃণা ও রক্তের মধ্য দিয়ে অর্জন করা যায় না।

   ইসলাম? ইহা, সম্পর্কে যত কম বলা যায় ততো ভালো।  পাকিস্তানী বাজপাখি যারা আক্ষরিক অর্থে হুইস্কি ও শ্যাম্পেইনের পিপায় ভাসে, যারা অসৎ কামনা করে, অসম্মান, নারীদের ধর্ষণ করে, যারা লোভের জন্যে মানুষ হত্যা করে, অন্য বিশ্বাসে বিশ্বাসীদের অত্যাচার করে, ধন-সম্পত্তি লুট করে, ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দেয়, তারা পবিত্র শব্দ “ইসলাম” যার অর্থ “শান্তি ও স্রষ্টার প্রতি সম্পূর্ণ আনুগত্য”, উচ্চারণ করার অধিকার হারিয়েছে। এই মানুষগুলো ইসলামের উপর কলংক আরোপ করেছে। তারা ধর্মের মৌলিক সৌন্দর্য নষ্ট করার চেষ্টা করছে। মুসলিম নামের নিচে (টিক্কা খান আরবি নাম না এবং কোন অর্থ বহন করে না) তারা ‘মুনাফিক’ (ভণ্ড) এবং তারা ইসলামের জন্য দুর্নাম ও অসম্মান বয়ে আনতে এসেছে। এইসব ভণ্ডদের ব্যাক্তিগত ও সর্বজনবিদিত জীবন ইসলামিক আইনের সম্পূর্ণ বিপরীত।

   সুতরাং সত্য এই, বাংলাদেশের মানুষ হানাদার বাহিনী তাড়িয়ে বাংলাদেশের মাটি  পরিষ্কার করতে বদ্ধপরিকর। সত্য হল বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র, ৭৫ মিলিয়ন মানুষের পৃথিবীর অষ্টম বড় রাষ্ট্র, থাকতে এসেছে।

   সত্য যা টাইমস পত্রিকার (আন্তর্জাতিক) এই বিষয়ের উপর আগস্ট ২৩, ১৯৭১ এ দেখা যায়,

“একত্রিত পাকিস্তানের সব আশা সামরিক যুদ্ধের দ্বারা শেষ হচ্ছে। যুদ্ধের চেয়ে আলোচনার ভিত্তিতে পূর্ব ও পশ্চিমের শান্তিপূর্ণ বিভাজনের জন্য মুজিবকে জীবিত রাখাই শেষ অবলম্বন।“