৩১৮. ২২ অক্টোবর স্বাধীনতার যুদ্ধ মধ্য পথে

Posted on Posted in 6

অনুবাদঃ রাশেদ সাইফুল

<৬, ৩১৮, ৫৪৯-৫৫০>

শিরোনামঃ স্বাধীনতার যুদ্ধ মধ্য পথে

সংবাদপত্রঃ দ্য ন্যাশন ভলি. ১:  নং- ৩

তারিখঃ ২২ অক্টোবর, ১৯৭১

.

স্বাধীনতা যুদ্ধের অর্ধেক পথ অতিক্রান্ত

নতুন ভোর আনতে সর্বাত্বক চেষ্টা

দ্য ন্যাশন এর বিশেষ প্রতিবেদন

.

সম্ভবত পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ছদ্মরূপ উন্মোচিত হয়ে গিয়েছে। অন্ধকার এবং নিরাশার দিনগুলো প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। নতুন ভোর দরজায় কড়া নাড়ছে। হ্যাঁ বাঙ্গালী, জেগে উঠো, আরো সাহস সঞ্চার করো, অস্ত্র হাতে নাও আর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ো, শত্রু এবং তাদের দোষরদের আঘাত করো, তাদেরকে হত্যা কর, অঙ্গচ্ছেদ কর এবং কবরে মিশিয়ে দাও।

সাড়ে ৭ কোটি বাংলাদেশী অনেক বড় একটি দল, অসাধারণ শক্তি। এই জন্যই এমন শক্তির বিরুদ্ধে শত্রুদের শক্তি নিঃশেষ হয়েছে। এত বড় জাতির বিরুদ্ধে শত্রুরা সমপ্রতিপক্ষ না। শহর, বন্দর, নদী, সমুদ্র, খোলা মাঠ বা লুকানো জায়গা যেখানে শত্রুরা রয়েছে তাদেরকে শেষ করে দাও। তাদেরকে আঘাত কর, হয়রানি কর, তাদের সরবরাহ বন্ধ করে দাও এবং শত্রুরা দুর্বল হয়ে পড়বে অথবা মারা যাবে।

এটা স্বাধীনতার ডাক, এটা মাতৃভূমির ডাক। রক্তই হল মুক্তির মূল্য, স্বাধীনতা হল মুক্তির মূল্য, স্বাধীনতা হল ত্যাগের মূল্য। যুদ্ধ জয়ের জন্য, ডাকাতের হাত শেষ করার জন্য এবং স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রত্যেকটি বাঙ্গালীকে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হবে, সর্বচ্চ আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

ইসরায়েলের ছোট্ট জাতির দিকে তাকান। তারা এমন একটি শক্তি যাদেরকে স্বীকার করতেই হবে। হতে পারে ক্ষুদ্র কিন্তু তাদের আত্মত্যাগ ছিল মহান। স্বাধীনতার স্বাধ নেয়ার জন্য আমরা কেন মৃত্যু শপথ নিতে পারি না? হ্যাঁ, আমরা পারি। আমরা তৈরি। অতীত নিয়ে আহাজারি করার মত সময় আমাদের হাতে নেই। চলুন আত্মবিশ্বাসের সাথে সামনে তাকাই। জয় আমাদেরই।

বাঙ্গালীদের ইতিহাস আছে, গৌরবময় অতীত আছে। আমরা ক্ষুদিরাম, তীতুমির, সূর্যসেন এবং সুভাষ বোসের উত্তরসূরি। তারা নির্ভয়ে ব্রিটিশ অত্যাচারীদের মুখোমুখি হয়েছিল। আমাদের অবশ্যই পশ্চিম পাকিস্তানীদেরকেও মুখোমুখি হতে হবে একই সাহত এবং আত্মত্যাগের মনোভাব, আত্মবিশ্বাস এবং সংকল্প নিয়ে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এরই মাঝে অর্ধেক পথ অতিক্রম করে ফেলেছে। এবং আরো একটি আঘাত, চারিদিক থেকে ৭৫ মিলিয়ন মানুষ দ্বারা মিলিটারি অস্ত্র, তরবারি, বল্লম, তীর এবং অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে আরেকটি বড় মাপের আক্রমণ। চলুন, আমাদের বিক্ষিপ্ত আক্রমণ দিয়ে শত্রুদের অন্ধ করে দিই, কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিই যাতে শত্রুদের শেষ জন পর্যন্ত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মনে রাখবেন, তারাই হল আক্রমণকারী, অনুপ্রবেশকারী। আপনার সাহসী আক্রমণকে মোকাবিলা করার জন্য, আপনার দেশ দখল করার জন্য তাদের কোন নৈতিক শক্তি নেই।

শত্রুরা বিভ্রান্ত, তাদের মাঝে পদমর্যাদা এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে দন্ধ রয়েছে। তাদের শক্তি এরই মাঝে মুক্তি বাহিনী দ্বারা নিঃশেষিত হয়ে গিয়েছে। আপনারা শুধু আমাদের সাহসী যোদ্ধাদের দিকে যারা এরই মাঝে ২৫০০০ হানাদারকে শেষ করে দিয়েছে, সেই মুক্তি বাহিনীর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। তারপর পুরুষ্কার নিশ্চিত হবে, স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।

মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক বৃহস্পতি বার মুজিব নগরে এক বিবৃতির মাধ্যমে একই রকম অনুভূতি এবং সংকল্প প্রকাশ করেছেন। শত্রুরা নিদারুণভাবে মুক্তিবাহিনীর হাতে যুদ্ধ হারাচ্ছে যারা কিনা বিজয়ের দিকে খুব দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।

শত্রু জন্য কলঙ্কজনক পরাজয়ের এড়ানো সম্ভব নয় বরং অনিবার্য পরাজয় এড়ানোর জন্য পশ্চিম পাকিস্তানী যুদ্ধবাজরা ধুম্রজাল সৃষ্টি করছে। এই উদ্দেশ্য তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু বানানোর চেষ্টা করতেছে। পাকিস্তানের দাবীকৃত ভারত কর্তৃক পাঠানো অনুপ্রবেশকারী গল্পটি কেবল মাত্র সত্যের অপলাপ। আমাদের অনুপ্রবেশকারী দরকার নেই। মুক্তিবাহিনীই হানাদার সেনাবাহিনীকে মোকাবেলা এবং পরাজিত করার জন্য পর্যাপ্ত পর্যায়ের শক্তিশালী।