১৫ অক্টোবর সম্পাদকীয়ঃ রাজনৈতিক সমাধান

Posted on Posted in 6

অনুবাদঃ নিয়াজ মেহেদী

<৬, ৮৭, ৭৩৪>

শিরোনামঃ সম্পাদকীয়ঃ রাজনৈতিক সমাধান

সংবাদপত্রঃ বাংলাদেশ ভলিউম. ১ : নং. ৭

তারিখঃ  ১৫ অক্টোবর, ১৯৭১

 

সম্পাদকীয়

                                  রাজনৈতিক সমাধান

       ১২ অক্টোবরের বেতারবার্তায় ইয়াহিয়া খান তাঁর অভিপ্রায় সম্পর্কে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তাঁর দ্বারা জাতীয় পরিষদের জোরপূর্বক শুন্য করা আসন সমূহ ভরাট করার জন্য ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জাতীয় পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর পরই একটি কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করে এর নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাবনা করেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে যে সংবিধান লেখা হচ্ছে তাঁর সংশোধনী প্রস্তাব করার ক্ষমতা সে জাতীয় পরিষদকে দিয়েছে। কিন্তু প্রতিটি সংশোধনী অবশ্যই তাঁর নিকট পাঠাতে হবে তাঁর বিবেচনা এবং অনুমোদনের জন্য।

 

       বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের একমাত্র প্রতিনিধি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ এবং এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচিত নেতা শেখ মুজিবর রহমানকে কারাগারে আটকে রেখে প্রস্তাবিত উপ-নির্বাচনে কিভাবে বাংলাদেশের মানুষের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন করবে সেটি বোঝা যাচ্ছেনা। এছাড়াও,জনগনের দ্বারা মুক্তভাবে নির্বাচিত এতজন জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য কে গদিচ্যুত করার অধিকার ইয়াহিয়াকে কে দিয়েছে? আবার জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের অবশিষ্ট সদস্যগন যে তাঁর হাতের পুতুল হবে ইয়াহিয়ার এই অনুমানের ভিত্তি কি? এরকম কেন্দ্রীয় সরকারের বৈধতা কি যেখানে বাংলাদেশের জনগণের অবিচ্ছেদ্য অধিকারের প্রতিফলন হয়নি?

 

       মূল ব্যাপার হচ্ছে যে লক্ষে অটুট থাকা এবং স্বায়ত্তশাসনের জন্য বাংলাদেশের জনগন থেকে আওয়ামী লীগ পরিষ্কার এবং অভিভূত জনসমর্থন পেয়েছে। এই জনসমর্থন ইয়াহিয়ার সরকার থেকে সম্পুর্ন ভাবে অবজ্ঞা করা হয়েছিল এবং তারা স্বায়ত্তশাসনের এই আন্দোলন নৃশংস এবং বর্বর শক্তি প্রয়োগ করে দমনের চেষ্টা চালায়। বাংলাদেশের মানুষ বীরত্বের সাথে এর প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং পশ্চিম পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক আধিপত্য থেকে নিজেদের মুক্ত করতে সক্ষম হয়। এই পরিস্থিতিতে ইহা আশা করা নিরর্থক যে সামরিক বাহিনীর অনুগত পুতুল সরকারের নিকট মিথ্যা ক্ষমতা হস্তান্তর দ্বারা সামরিক শাসন ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য হাসিল হবে। এমনকি ২৫ মার্চের ভয়াবহ ঘটনাবলির জন্য আন্তর্জাতিক অভিমতকে ধোকা দেয়ার চেষ্টাও যে সফলকাম হবেনা তা এখন বোঝাই যায়।

 

       ইয়াহিয়া খানের অবশ্যই বোঝা উচিৎ যে তিনটি শর্তাবলি পূরণ করা ছাড়া দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন অর্থপূর্ন রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারেনা। শর্তাবলিঃ ক) বাংলাদেশের স্বাধীনতা মেনে নেয়া। খ) শেখ মুজিবর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তি। গ) বাংলাদেশ থেকে পশ্চিম পাকিস্তানি সেনা প্রত্যাহার করা।

 

       এটা প্রতীয়মান হচ্ছে যে ইয়াহিয়া খান তাঁর পূর্বসূরির নিকট হতে কোন শিক্ষা গ্রহন করেননি, যিনি একটি পুতুল সরকারের জন্য জনগনের উপর একক ব্যাক্তির রচিত সংবিধান চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আইয়ুব খানের প্রচেষ্টা বিফল হয়েছিল এবং জনগনের আন্দোলনে তিনি ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত হয়েছিলেন। ইয়াহিয়ার জন্যও একই ভাগ্য অপেক্ষা করছে যদি সে তাঁর মূর্খতায় অবিচল থাকে।

 

       একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে একটি সংবিধান জনগন দ্বারা জনগণের জন্য প্রণীত হয়।