‘আমরা’ গোষ্ঠী কর্তৃক প্রচারিত একটি প্রতিবেদন

<৪,১৯০,৩৭৮-৩৭৯>

অনুবাদকঃ জয়ন্ত সেন আবীর

শিরোনাম সূত্র তারিখ
১৯০। ‘আমরা’ গোষ্ঠী কর্তৃক প্রচারিত একটি প্রতিবেদন ‘আমরা’ ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

জাকার্তা, ৫ সেপ্টেম্বর

রিপোর্ট
(২ নং)

১) প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সবার জন্যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে বিদ্রোহী রাজনীতিক, বেসামরিক এবং সামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অন্যান্য সকল ব্যক্তিবর্গ যারা ১ মার্চ থেকে ৫ সেপ্টম্বর পর্যন্ত এরূপ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। ঘোষণা অনুযায়ী পক্ষ বদলকারী কূটনীতিকরা তাদের নিজ নিজ মিশনে কাজে যোগদান করতে পারবে।

২)সাধারণ ক্ষমার আওতায় জনাব আতাউর রহমান খান বন্দিদশা থেকে মুক্তিলাভ করেছেন বলে সংবাদ পাওয়া গিয়েছে। এখানকার কিছু কিছু সংবাদপত্র এই ঘোষণাকে ইয়াহিয়ার বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতি একটি পদক্ষেপ হিসেবে উষ্ণভাবে গ্রহণ করেছে।

৩) ঘোষণাটিতে শেখ মুজিবুর রহমান অথবা আটক বা আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সম্পর্কে পরিষ্কার করে কিছু বলা হয় নি। বলা হচ্ছে যে ঘোষণাটি সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

৪) টিক্কা খানের জায়গায় গভর্নর হিসেবে ড. মালিকের নিয়োগ এখানকার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক চক্র সাদরে গ্রহণ করেছে। প্রেস এবং অন্যান্য গোষ্ঠী ইয়াহিয়ার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে সন্দিহান। গভর্নরকে ইয়াহিয়া কতটুকু ক্ষমতা দিবে এবং যখন পর্দার পেছন থেকে সেনাবাহিনীইসবকিছু পরিচালনা করছে তখন আসলে নতুন গভর্নর কতটুকু সফল হতে পারবেন সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ থেকে যায়। কয়েকটি পত্রিকার মতে এটি হল চূড়ান্ত আত্মসমর্পণের দিকে প্রথম পদক্ষেপ।

৫) কিছু কিছু সূত্রমতে, শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার ৩ মাসের জন্যে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক গোষ্ঠী দুই ভাবে বিচার করছে। প্রথমত, বিশ্ব জনমত বিপক্ষে চলে যাওয়ায় এবং সম্ভাব্য গভীর প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় অখণ্ড পাকিস্তান বজায় রেখে কোনো সমাধানে আসবার চেষ্টা করা। দ্বিতীয়ত, ইয়াহিয়া এবং তার উপদেষ্টামণ্ডলী বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সকল আশা পরিত্যাগ করেছে। এই বিচার বাংলাদেশ এবং সারা বিশ্বে ভয়ানক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়া ছাড়া আর কোনো ফল বয়ে আনবে না।

৬) বহু ক্ষেত্রে পাকিস্তানিদের দ্বন্দ্ব আগ্রহী গোষ্ঠীদের গোচরে এসেছে। সম্প্রতি এমন একটি দ্বন্দ্বের উদ্ভব হয় শরণার্থীদের সংখ্যা নিয়ে।

৭) আমাদের যোগাড় করা জিনিসপত্র বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে আগ্রহী ও সহানুভূতিশীল এলাকাগুলোতে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহে আমরা নিম্নলিখিত সামগ্রী হস্তান্তর করেছি-

i)১ আগস্ট লন্ডনের সানডে টাইমসে প্রকাশিত “অ্যা প্লট এগেইন্সট ইয়াহিয়া খান (ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র)”

ii)রেগ প্রেন্টিসের লেখাদ্যা পিপল পত্রিকায় প্রকাশিত “অ্যাক্টস অফ রিপ্রেশন ইন বাংলাদেশ (বাংলাদেশে নির্যাতনের নাটক)”

iii)৬ আগস্ট দ্যা ম্যানচেস্টার গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত “হোয়াইল পেপার অ্যাডসলিটল টু বেঙ্গল স্টোরি (পত্রিকাগুলো যখন বাংলাদেশ সম্পর্কে খুব কমই বলছে)”

iv)৩১ জুলাই লন্ডনের ইকোনোমিস্টে প্রকাশিত “টাইম ইজ রানিং আউট ইন বেঙ্গল (বাংলায় সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে)”

v)১০ আগস্ট নিউ ইয়র্ক নিউজ উইকে প্রকাশিত“বেঙ্গলঃদ্যা মার্ডার অফ পিপল (বাংলাঃ সাধারণ জনগণের মৃত্যু)”

vi)২ আগস্ট নিউ ইয়র্ক টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত“গুড সোলজার ইয়াহিয়া খান (ইয়াহিয়া, একজন দক্ষ সৈনিক)

vii)২ আগস্ট লন্ডনের“দ্যা ডেইলি টেলিগ্রাফ” পত্রিকার সম্পাদকীয়।

৮) আমরা এখনো জানি না যে “দ্যাপিপল”এরকপি সেখান থেকে সরাসরি প্রেরণের কাজটি ঠিকভাবে করা হয়েছে কি না। আমরা ১০টি নাম সুপারিশ করি এবং প্রেস অ্যাটাচে এর কাছে মুদ্রাও প্রেরণ করা হয়।

৯) এশিয়ার প্রেস ফাউন্ডেশন পাকিস্তানে প্রেসের স্বাধীনতা খর্ব হবার ব্যাপারে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি এর সভায় পূর্ব পাকিস্তানে সংবাদকর্মীদের হত্যা এবং পশ্চিম পাকিস্তানে তাদের কারারুদ্ধকরণের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

১০) ইন্দোনেশিয়ান অবজারভার এ আগস্টের ৩০ এবং সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখে প্রকাশিত দুটো সম্পাদকীয়তে বাংলাদেশ প্রশ্নে এর পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে আসবার প্রমাণ পাওয়া যায়। এই দুটো সম্পাদকীয় এর কপি সাথে যুক্ত করা হল।

(আমরা)

প্রেস অ্যাটাচে
বাংলাদেশ মিশন
৯ সার্কাস অ্যাভিনিউ, কলকাতা-১৭
ভারত

Scroll to Top