Emergence of Secularism

Posted on Posted in Uncategorized

ধর্মনিরপেক্ষতার উত্থান
অসুস্থ সাম্প্রদায়িকতায় ভরা এক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের চলমান স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হল ধর্মনিরপেক্ষতার উত্থান। ইতিহাসে প্রথমবারের মত মুসলমান এবং হিন্দুরা নিজেদের মধ্যে বিভেদ বাদ দিয়ে এক অভিন্ন শত্রুর মুখোমুখি।. দুপক্ষই সমানভাবে ভুক্তভোগী এবং উভয়েই এই শত্রুকে চিরতরে ধ্বংস করে মুক্তভাবে বেঁচে থাকতে চায় এমন এক সমাজে যেখানে বিশেষত দুই ধর্মের মানুষের মাঝে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে একটি সম্পূর্ণ নতুন অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর যা নিশ্চিত করবে আন্ত-সম্প্রদায়িক শান্তি।

ধর্মনিরপেক্ষতার এই আবির্ভাব যা এখন অপরিবর্তনীয়ভাবে সুসংহত হয়েছে তা আসলে জনসমর্থন পেয়েছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। সম্ভবত এটাই একমাত্র আন্দোলন যা প্রায় একচেটিয়াভাবে ছাত্রদের আগ্রহে সুচিত এবং পরে বুদ্ধিজীবিদের দ্বারা পুষ্ট হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার যেসব ঘটনা পূর্ববঙ্গে ঘটেছে তা প্রায় সবসময় শাসক চক্রের প্ররোচনায় অবাঙালি শরণার্থীদের একটি অংশের দ্বারা শুরু হয়। এই উদ্বাস্তু সম্প্রদায়,
যারা দেশভাগের তিক্ত পরিনতির শিকার, তারা সবসময়ই দাঙ্গাকারীদের উৎসাহী সহযোগী হিসেবে আবির্ভুত হত এই আশায় যে সংখ্যালঘুদের ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে তাদের সম্পত্তি দখলের আশায়। ১৯৫০ সালের সাম্প্রদায়িক উন্মত্ততায় মুসলিম লীগ বাঙালি মুসলমানদের একাংশকে এ ধরনের লাভের আশায় প্রলুব্ধ করেছিল। পাকিস্তান গঠনের পক্ষে বাংলার মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান অভিযোগ ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক আধিপত্য। দেশভাগের পর পূর্ববাংলায় অবস্থা দ্রুত উলটে গেল কিন্তু কায়েমী স্বার্থবাদীরা পুরনো জুজুর ভয় দেখানো অব্যাহত রাখে। কাশ্মীর ইস্যুও এক্ষেত্রে কিছুদিন বেশ কাজে লাগে।

তারপর দ্রুতই সমাজের চোখ খুলতে শুরু করল, বাঙ্গালি মুসলিমরা বুঝতে শুরু করলেন বাংলার মাটিতে কারা অর্থনৈতিক শোষণ জোরদার করছে। পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই পশ্চিম পাকিস্তান-ভিত্তিক সামরিক-পুঁজিবাদী-আমলাতান্ত্রিক গোষ্ঠী পূর্ববাংলাকে একটি ভার্চুয়াল কলোনিতে পরিনত করার নীল-নকশা তৈরি করা শুর করে। তাদের প্রথম আক্রমণ আসে বাংলা ভাষার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে। লক্ষ্য ছিল যে শুধুমাত্র উর্দুকে জাতীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারলে জনগণের ওপর আরোপিত, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য এমনিতেই উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর হাতে চলে যাবে যারা ছিল জনসংখ্যার ৩ শতাংশ মাত্র। বাঙ্গালীরা সফলভাবে এ চক্রান্ত প্রতিহত করে কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা শাসকগোষ্ঠীর হাতিয়ার হিসেবেই থেকে যায়। ১৯৫২ সালের পরে পুর্ব বাঙ্গালিরা প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে একটি সুস্থ, স্বাভাবিক সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন. এটা শাসকগোষ্ঠীকে ভীত করে তোলে কারন ভারতবিরোধী উগ্র দেশপ্রেম তাদের রাজনৈতিক ছলচাতুরি এবং জনগণের অর্থনৈতিক শোষণ চালিয়ে যেতে সাহায্য করছিল। তারা শেষ পর্যন্ত পূর্ববাংলায় সাম্প্রদায়িকতা পুনরুজ্জীবিত করার মরিয়া চেষ্টা চালায় কাশ্মিরের উপসনালয় থেকে নবীর চুল হারানো নিয়ে ভারতে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে পুজি করে। এসময় বিভাজন ছিল স্পষ্ট। একপক্ষে ছিল, আইয়ুব খানের সামরিক সরকারে মদদপুষ্ট  সেইসব অবাঙালি যারা রক্তগঙ্গা সৃষ্টি করতে নেমেছিল আর তাদের বিরুদ্ধে ছিল সমগ্র বাংলার মুসলিম সম্প্রদায়, যার নেতৃত্বে ছিল বুদ্ধিজীবি সমাজ। আট কলামের শিরোনামে সংবাদপত্রগুলো মানুষকে আহ্বান করে এই ভয়াবহ চক্রান্ত রুখে দিতে । ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মধ্যে হিন্দুদের রক্ষা করার চেষ্টায় প্রান দেয় মুসলমানরা। ফলাফল ছিল অসাধারন. দাঙ্গা স্তিমিত হয়ে আসে।