অমিতাভ বড়ুয়া

Posted on Posted in 8

কিছুদিন আগে মিলেনিয়ালদের সম্পর্কে একটা রিপোর্টে দেখেছিলাম, এরা নাকি ভলেনটারি কাজে কায়িক ভাবে এমনকি সামাজিক উদ্যোগে আর্থিক অনুদানের ক্ষেত্রেও অন্যান্য জেনারেশনের চেয়ে এগিয়ে। ঐ সময়টাতেই ফেসবুক নিউজফিডে একদিন লিও-র একটি পোস্ট এলো যা ছিল যুদ্ধদলিলের ১৫ নম্বর খন্ডের ড্রাফটিঙের সমাপ্তি সম্পর্কে। বাকি খণ্ডগুলোও এভাবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টা আমাদের কাছে এতটাই আবেগের বিষয় যে জানতাম, এ কাজে স্বেচ্ছাসেবকের অভাব হবে না বরং সেচ্ছাসেবকদের মধ্যে সমন্বয়টাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে সুচারুভাবে প্রকল্প চালিয়ে যাবার জন্য এবং আমাকে সাথে নেবার জন্য উদ্যোক্তা, ব্যবস্থাপক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি প্রথমেই জানাই আমার আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা । আমি এখানে বলতে চাই, আমি কেন যুক্ত হলাম। প্রথমেই বলে নেই আমি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে একজন সচেতন মানুষ হলেও ইতিহাসের খুটিনাটি বিষয়গুলো আমাকে একেবারেই টানে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টি ভিন্ন। বাংলাদেশের রাজনীতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখি যে জাতি হিসেবে আমাদের “আকাঙ্ক্ষা” এখনো এক জায়গায় স্থির হতে পারে নি। গণমুখীতার পরিবর্তে রাজনীতি দিনকে দিন হয়ে উঠেছে ক্ষমতাকেন্দ্রিক। মাঝখানে পরে জাতি হয়ে পড়েছে দিকনির্দেশনাহীন। ফলে সবার মাঝে বিশেষ করে তরুন সমাজের মাঝে সৃষ্ট কনফিউশন মারাত্মকভাবে লক্ষনীয়। শিক্ষা বঞ্চিতদের কথা বাদই দিলাম, তরুণদের শিক্ষিত অংশের মাঝেও এই কনফিউশন দুঃখজনক ভাবে “স্টাডি” করে সৃষ্টি হয়নি, হয়েছে পারিবারিক, সামাজিক কিংবা বন্ধুবান্ধবদের প্রোপাগান্ডা থেকে। প্রোপাগান্ডা যারা চালাচ্ছে তাদের বেশিরভাগই আবার একইভাবে প্রোপাগান্ডার শিকার। আন্তর্জাতিক টানাটানির চালের বিষয় তো আছেই। ফলে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা এমনকি মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যই আজ কারো কারো কাছে বিতর্কের বিষয়। সমস্ত কনফিউশন দূর করার জন্য জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের বিকল্প নেই। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তির এই যুগেও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে, আমাদের শেকড় সম্পর্কে জানার জন্য রিসোর্স এর প্রকট অভাব। এই অভাব দূর করার জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র থেকে বলছি নামক এই প্রয়াসটি ছিল সময়ের দাবি। ব্যক্তিগতভাবে আমিও এর অংশ হতে পেরে গর্বিত। পিডিএফ পাঠে এবং কম্পোজ করতে গিয়ে আমি অনেক অজানা বিষয় জানতে পারছি আর এই কাজ করার সময় আমি “জাগরণের গান” গুলো চালাই, যা আমাকে যেন ঠিক যুদ্ধকালীন সময়টাতেই নিয়ে যায় আর শিহরণ বাড়িয়ে দেয়।

প্রকল্প কতটুকু সফল তা জানা যাবে পুরোটা সম্পাদনের পর যখন সবার মুঠোফোনেই মুক্তিযুদ্ধের খুঁটিনাটি তথ্য সহজলভ্য হবে। এর প্রভাব যে কতটা সুদূরপ্রসারী হবে তা আমি কল্পনাও করতে পারছি না। তবে প্রকল্পের উদ্দেশ্যগুলোর মাঝে আমার কাছে সবচাইতে আকর্ষণীয় লেগেছে “জীবন্ত আর্কাইভ” তৈরির বিষয়টি। তাই আমি শুরুতেই অনুরোধ করেছিলাম আমাকে অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত পেজগুলো সম্পাদনের দায়িত্ব দেবার জন্য। অবশ্য কথা ছিল নিজ উদ্যোগেই লেখা পাঠাতে হবে। অষ্টম খন্ড শেষ হবার পর এসাইনমেন্ট আকারে কাজ পাব কিনা জানি না, তবে আশা থাকবে অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত পেজগুলো সম্পাদনের দায়িত্ব আমি পাবো। আজ এটুকুই। সামনের খণ্ড উন্মোচনের দিন আবার দেখা হবে 