আব্দুর রহমান সৌরভ

Posted on Posted in 7

১৯৭১ কিংবা ৭১। এই সংখ্যা দুইটার মধ্যে কতটা আবেগ জড়িয়ে আছে তা আসলে লিখে বুঝানো যাবে না। নিজের জন্মদিনের তারিখটাকেও এতটা ঐন্দ্রজালিক মনে হয় না। মায়ের প্রতি ভালোবাসা আপনি কি কখনো লিখে প্রকাশ করতে পারবেন, বলুন? আমার মা, আমার মাতৃভূমির প্রতি অনুরাগ কখনোই টাইপ করে আমি শেষ করতে পারবো না। আসলে কথার চেয়ে তাই কাজের প্রতিই আমাদের বেশি মনোযোগী হওয়া দরকার।অনেকদিন ধরেই দেখতাম ফেসবুক হোমপেজে যুদ্ধদলিল সংক্রান্ত কাজের জন্যে অনুবাদকারী অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তখন আসলে ব্যাপারটা অত আমলে নিই নি, ভেবেছি অনেক উঁচু পর্যায়ের কাজ-কারবার। বেশ কিছুদিন পর আমারই এক কাছের বন্ধু-সায়মা, যে কিনা ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাজ করছে, সেআমাকে এই প্রজেক্ট সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিল। আমি তখনই আমার আগ্রহের কথা জানালাম। সায়মা আমাকেআলিমুল ফয়সাল ভাইয়ার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল, ভাইয়া কাজ বুঝিয়ে দিলেন।

প্রথমে ভেবেছিলাম কঠিন কাজ ! কিন্তু না, পরে ভুল ভেঙেছে। সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে কী, আমি যখন দলিলের কিয়দংশের অনুবাদ করেছি, এমন অনেক কিছু জানতে পেরেছি যা আসলে কখনোই আমাদের পাঠ্যবইয়ে বিস্তারিতভাবেছিল না।মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার নানাভাই সরকারি চাকুরে ছিলেন। গ্রামের বাড়ি গিয়ে উনার কাছে কতই না একাত্তরের গল্প শুনেছি। যুদ্ধদলিলের লেখার সাথে যখন নানাভাইয়ের কথার সাদৃশ্য খুঁজে পেতাম, তখনই শরীরে শিহরণ জেগে উঠতো। বিশ্বাস করুন, এখনো, এই কথা লিখতে গিয়েও শিহরিত হচ্ছি।খুব আফসোস হয়, বেশিদূর কাজ করতে পারি নি। ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ফয়সাল ভাইয়ার কাছ থেকে ছুটি নিয়েছিলাম। তবে আমি এই প্রজেক্টের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। আবারো সম্পৃক্ত হতে চাই, সাথে থাকতে চাই। ভবিষ্যতে নিঃসন্দেহে সুখী-সমৃদ্ধ একটা দেশ চাই-এটা তো নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। আমার দেশের মাথা উঁচু থাকুক। আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন সাধিত হবে, দেশের মানুষ একে অপরকে ভালোবাসবে, সবাই জাতির শিকড় সম্বন্ধে জানবে। সত্যি বলতে কী, একটা দেশ তো আর একা একা সমৃদ্ধ হয় না। কোন দেশই আসলে পরিপূর্ণ ছিল না বা থাকে না, সম্পূর্ণ করে নিতে হয়। শিক্ষক সুন্দর করে ছাত্রদের পড়াবেন, ছাত্র-ছাত্রীরা আগ্রহ নিয়ে পড়াশুনা করবে, গার্মেন্টস-কারখানার শ্রমিক নিজের সর্বোচ্চ শ্রম দিবেন, দেশের নীতি-নির্ধারকেরা নিঃশর্তে দেশের কথা ভেবে আত্মস্ফূর্তি বিসর্জন দিতে পিছপা হবেন না, সরকারি আমলারা কখনোই ব্যক্তিস্বার্থ বিবেচনায় আনবেন না…মোদ্দা কথা হচ্ছে, স্ব-ভূখণ্ডের প্রতি যত্নশীল হয়ে প্রত্যেকে যার যার জায়গায় কাজ করলেই কিন্তু আমার, আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।শিক্ষাবিদ আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের একটা উক্তি দিয়ে শেষ করি, এক ছেলে বাংলাদেশের মানচিত্র ছিঁড়ে ফেললো। বাবা বললেন, ‘জোড়া লাগাও।’ছেলে জোড়া লাগালো। বাবা বললেন, ‘কী করে পারলে?’ছেলে বলল, ‘এই ম্যাপের উল্টো পিঠে একটা মানুষের মুখ ছিল, আমি মানুষটাকে জোড়া লাগিয়েছি, দেশটা আপনাআপনি জোড়া লেগে গেছে।আমরা যদি আমাদের মানুষগুলোকে গড়ে তুলি, দেশটা গড়ে উঠবে।ভালোবাসি মা, ভালোবাসি বাংলাদেশ।