আরণ্যক নীলকন্ঠ

Posted on Posted in 2

মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা নিয়ে বাংলা-মা’র যেকোন সন্তানের প্রচণ্ড আবেগ থাকবেই। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ আমার কখনোই ছিল না। একটা প্রশ্ন আমার মাথায় নানা ভাবে ঘুরে ফিরে আসে, স্বাধীনতা অর্জন করার পর, যাঁরা স্বাধীনতা দিয়ে গেলেন তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের কর্তব্য কী হতে পারে? দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করার নিরন্তর ক্লান্তিহীন প্রচেষ্টা করা? নিজেকে রাজনীতি সচেতন করে তোলা এবং দেশের স্বার্থ বজায় রাখার জন্য নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাওয়া? না কী নিজেকে দক্ষ/শিক্ষিত করে গড়ে তুলে আদর্শ নাগরিক হয়ে দেশের এবং তার জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা? হ্যাঁ, আমরা সবাই জানি যে, এই লক্ষ্যগুলো প্রয়োজনীয়তা বাস্তব এবং প্রত্যক্ষ সত্য। তবে তার চেয়েও একটা বড় দায় থেকে যায় বলে মনে হয়। সেটা ইতিহাসের দায়। সঠিক ইতিহাসটা খুঁজে বের করার দায়, ইতিহাসের প্রত্যেকটা অন্ধকার ঘরের দরজায় সজোরে করাঘাত করার দায়… এবং সেখান থেকে সত্যিটা খুঁজে আনার দায়। যেকোন জাতির আসল শক্তি তার ইতিহাসের দৃঢ়তার সমান এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের দৃঢ়তা অন্য অনেক জাতির চেয়ে কোন অংশেই কম নয়। এই কথাটা প্রজন্মের চোখের সামনে প্রমাণসহ তুলে ধরে তাকে বলা, তোমার ইতিহাস তোমাকে ডাকছে-তুমি এক মহান জাতির প্রতিনিধি, তুমি মাথা নিচু করে বাঁচার জন্য জন্মগ্রহন করো নি! এই রকম কোন এক দায়গ্রস্থতার অনুভূতি থেকে আমি ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র থেকে বলছি’ প্রজেক্টে নিজেকে অন্তর্ভূক্ত করি সম্পূর্ণ স্বতপ্রণোদিত হয়ে। নিজের কাজ এবং পড়াশোনার চাপের মধ্যেও যথাসম্ভব আমার জন্য বরাদ্দকৃত কাজটুকু করে গেছি। লিখতে গেলে পড়তে হয়েছে, পড়তে পড়তে কখনো কেঁদেছি, কখনো বুক উঠেছে ফুলে… সবশেষে ধন্যবাদ দিতে চাই এই প্রজেক্টের আহ্বায়কদের। সমস্ত ধন্যবাদ আপনাদের প্রাপ্য।