ওমর বিন কিবরিয়া

Posted on Posted in 4

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আগ্রহ টা অনেক ছোট বেলা থেকেই। ধীরে ধীরে সে আগ্রহ বেড়েছে। সঠিক ইতিহাস জানার ইচ্ছে হয়েছে প্রবল। বাবার সুবাদে বাসায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা অনেক বই ছিল। সময় পেলেই বইগুলোতে চোখ বুলাতাম। দেখেছি প্রচুর ডকুমেন্টারিও। কিন্তু ইতিহাসটা ছিলো সুপ্রাচীন,সুদীর্ঘ। ৫-১০ টা বই কিংবা ডকুমেন্টারি দেখে এর সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে ধারনা করা একটু দুষ্করই মনে হয়েছে। তার মধ্যে মরার উপর খড়ার ঘাঁ হয়ে ইতিহাস বিকৃতির ঘৃণ্য প্রতিযোগিতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে বৈকি কমছে না। তবে সেই মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস যদি জনসাধারণের কাছে সহজলভ্য করা যায়, এই মুহূর্তে এর চেয়ে সুসংবাদ আর কিছুই হতে পারে না।
ইতিহাস জানার ইচ্ছা আর মুক্তিযুদ্ধের বিষয় নিয়ে কিছু করা এ দুটি ব্যাপারে প্রবল ইচ্ছা আমাকে বারবার ভাবিয়ে তুলেছে। কাজ করতে চেয়েছি বহুবার। অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে কখনো হয়ত আর সময় হয়ে উঠে নি। আবার কখনো হয়ত সুযোগ পাই নি। অবশেষে সেই সুযোগটা এলো ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ভাই সজীব বর্মণদার হাত ধরে। বললাম,দাদা কি করতে হবে?
-মুক্তিযুদ্ধের দলিল অনুবাদ করতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ শোনামাত্র আর লোভ সামলাতে পারলাম না। যুক্ত হয়ে গেলাম কাজে। হয়ে উঠলাম এই পরিবারের একজন। দাদাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে এমন একটি কাজের সংগে যুক্ত করার জন্য। অনুভূতিটা ছিলো অসাধারণ। তবে কাজটা খুব সহজও ছিলো না। ভুল ভ্রান্তিও হচ্ছিলো প্রচুর। চেষ্টা করতে থাকলাম। শেষের দিকে তো বারবার ডেডলাইন মিস করে যাচ্ছিলাম। হতাশ করছিলাম দাদাকে। তারপরও আল্লাহর রহমতে সব কিছু ভালোভাবে হয়েছে। এর জন্য শোকর আদায় করছি।
এখন শুধু এটুকু নিশ্চিত করতে হবে যে,এই ইতিহাস যেন সকল স্তরের মানুষের কাছে সহজলভ্য হয়। মানুষ যেনো বিভ্রান্তিতে পড়ে বিকৃত ইতিহাস গ্রহণ না করে। প্রত্যেকটি শিশু যেন তার মস্তিষ্কে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসকে জায়গা করে দেয় এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে- এই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করি।
জয় বাংলা।