চন্দ্রশেখর

Posted on Posted in 2

ক্লাস নাইন-টেনের কথা মনে পড়ছে। স্কুলের লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান না থাকায় সেটা বন্ধই থাকতো। আমি তখন চুটিয়ে বই পড়ছি এক আপুর ব্যক্তিগত লাইব্রেরির বই নিয়ে। স্কুল লাইব্রেরীর সামনে দিয়ে হেঁটে যেতাম আর আফসোস করতাম। একদিন সুযোগ এলো লাইব্রেরীর ভেতরে ঢোকার। আমার মনে আছে, সেদিন অবাক হয়ে দেখেছিলাম এক আলমারির পুরোটা জুড়ে ১৫ খণ্ডের “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র”। হুমায়ুন আহমেদের “জোছনা ও জননীর গল্প”-তে দলিলপত্র থেকে কিছু কিছু ঘটনা হুবহু ছাপানো হয়েছিল। কি লোমহর্ষক সেই বর্ণনা! ভেবেছিলাম কোন একদিন হয়তো পুরো বই পড়ে ফেলবো। তাই লাইব্রেরিতে ঢুকে অবাক হয়েছিলাম, এত বড় বই পড়বো কিভাবে!তারপর অনেক সময় পার হয়ে গেছে। সুযোগ না থাকার কারণে পরে আর পড়া হয়নি। অনলাইনে একদিন পুরো দলিলপত্রের পিডিএফ লিঙ্ক পেলাম। ডাউনলোডও করেছিলাম মনে আছে। তবে দু’এক পৃষ্ঠা পড়ে কেন যেন আর ধৈর্য্য ধরে রাখতে পারিনি। মনে হয়েছে ভেতরে ভেতরে কিছু কিওয়ার্ড সার্চ দিয়ে যদি শুধু ওই তথ্যগুলো পড়া যেত!

কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারি দলিলপত্র ইউনিকোডকরণ প্রজেক্টের কথা। কাজ করবো সাড়া দেই। একসময় অনলাইনে প্রচুর আনাগোণা থাকলেও তখন অনেক কমিয়ে দিয়েছি। সেজন্য আমি আসলে জানতামও না কে বা কারা এই মহান প্রজেক্টের উদ্যোক্তা। আমার শুধু মনে হয়েছে, আমার অনেকদিনের ইচ্ছা দলিলপত্র পড়া, সেটা পূরণ হতে যাচ্ছে। এই বিশাল এবং উদার কর্মযজ্ঞে নিজেকে যতটুকু উজাড় করে দেওয়া উচিৎ ছিল, ব্যস্ততার ছুতোয় তার বিন্দুমাত্র দিতে পেরেছি কিনা সন্দেহ। এত বড় একটা উদ্যোগের সাথে অজ্ঞাতসারে কয়েক পৃষ্ঠা অনুবাদের মতো সামান্যতম কাজের মাধ্যমে যুক্ত থাকাও যে কতটা ভালোলাগার আর সম্মানের, তা বলে বোঝানো যাবে না।পৌছে যাক “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র” সকলের দোরগোড়ায়। ছড়িয়ে পড়ুক মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি প্রাণে। শ্বাপদসংকুল পথ বেয়ে মুক্তির বার্তার পুরোটা বুকে ধারণ করেই একদিন আমরা পাবো আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ। যেতে হবে বহুদূর, সাথে সারথির রক্তের সৌধ।