জল পরী

Posted on Posted in 7

খুব ছোটবেলায় যখন আমার স্কুল যাওয়া শুরু, তখন স্কুলের পাঠ্য বইয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠদের কাহিনী পড়ার মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে পরিচয়। তারও আগে জেনেছি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে। তখনও ভালভাবে বুঝতাম না, জানতাম না যে বাবাও এদেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন।মার কাছে যখন জানলাম, তখন আমার এত গর্ববোধ হল, তা আর বলার মতো না।ঐ ছোট্টবেলাতেই আমার বুকে মুক্তিযুদ্ধের বীজ বপন হয়ে গিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ আমার কাছে যে কোন প্রশ্নের ঊর্ধ্বে। কিন্তু যখন আশেপাশের মানুষগুলোকে স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে বিপক্ষে দাঁড়িয়ে তর্ক বিতর্ক করতে দেখি, তখন ভীষণ অসহায়বোধ করেছি। মনে হতো, আমরা বোধহয় এক সময় আমাদের গৌরবের এই ইতিহাসকে হারিয়ে ফেলবো। কিন্তু এখনকার তরুণ প্রজন্ম যেভাবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচারের জন্য যে সাহসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তাতে আবারও প্রমাণ হলো, সত্যকে কখনোই মুছে ফেলা যায় না। লিও-এর সাথে পরিচয় হওয়ার পর তার সোজা-সাপ্টা কথা যুদ্ধদলিল প্রজেক্টে কাজ করবে কিনা। বললাম, আমি পারব কিনা। বললেন, চেষ্টা করে দেখো, পারবে।এভাবেই প্রজেক্টের কাজে যুক্ত হয়ে গেলাম। যদিও এই মহাসমুদ্রের মত কাজে আমি এক বিন্দু জলের মত। এটাই আসলে আমার সৌভাগ্য যে আমি এই প্রজেক্টে যুক্ত হতে পেরেছি। এজন্য ধন্যবাদ লিও কে এবং এই প্রজেক্টের সাথে যারা জড়িত আছেন তাদের সবাইকে। স্বপ্ন দেখি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ ও লালন করে আমার দেশের মানুষগুলো আবার সোনার মানুষ হয়ে উঠবে। এই চেতনার এত শক্তি যে তখন সব অসম্ভবকেই জয় করা সম্ভব হবে।