জান্নাতুন নাহার তন্দ্রা

Posted on Posted in 6

আমি জান্নাতুন নাহার তন্দ্রা যুক্তরাষ্ট্রের ‘নর্থ ক্যারোলিনা এ এন্ড টি স্টেট’ ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ‘PhD’ করছি। আর অবসরে অল্প স্বল্প লিখছি। বাবা চাচারা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাদের কাছে যুদ্ধের গল্প অনেকটা শোনা। তবে তাই বলে যে শিশুকাল থেকে মুক্তিযুদ্ধের গভীর চেতনা নিয়ে বড় হয়েছি সেরকম কিছু নয়। দেশকে খুব ভালবাসতে হয় এটাই শিখেছি। আমি দেশের জন্য একটা ঋণ অনুভব করেছি সবসময়। আর এই অনুভূতি খুব তীব্র হয়েছে বিদেশে পড়তে আসার পর। দেশ আমাকে সত্যি খুব ভাবায়। দেশের জন্য কিছু একটা করতে ইচ্ছে করে, অনেক পরিকল্পনা ভাবনা আছে। অহেতুক ভাবাভাবি করাও আমার খুব বাজে অভ্যাস। আমি আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মত যোগ্য হয়ে উঠতে পারব কিনা জানি না। বেঁচে থাকলে সে সত্যি অনেক পরের কথা। যুদ্ধ দলিলে যখন অনুবাদের প্রস্তাব এলো দেশের জন্য প্রথম কিছু করার সুযোগ তবুও নিমরাজি ছিলাম, সময় নিয়ে হিমসিম ছিল। তারপর যখন পুরো দলিলটি হাতে পেলাম রাজী আমাকে হতেই হলো। বিজ্ঞানের ছাত্রী আমি কিন্তু ইতিহাস আমাকে বরাবর টানতো। আর এ আমাদের শেকড়ের গল্প, খুব অল্প অনুবাদ করেছি, খুব বেশি সময় দিতে পারিনি। তবে যতটুকু করেছি, কেমন শিহরণ খেলেছে শরীরে যেন যুদ্ধটা আমিই করেছি, বদ হানাদারদের মেরে ভূত বানিয়ে দিয়েছি। সত্যিকার অর্থে এই অনুবাদে অংশগ্রহন দেশের প্রতি আমার দায়িত্ববোধ আর ভালবাসা অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। তবুও অল্প সময় খরচের জন্য নিজেকে কিছুটা অপরাধী মনে করছি। কারণ নিজের জন্যও অনেক আজগুবি লেখা লিখতে হয় আমাকে, সেখানেও প্রচুর সময় দিতে হয়। তবে লিখে লিখে সমাজ পরিবর্তন আমি করব। তারপর একদিন হাতে কলমে নেমে পড়ব বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে অলি গলিতে, মাটির মানুষের সাথে মিশে যাবো। দেশের প্রতি পুরোপুরি ঋণ পরিশোধের ধৃষ্টতা আমি দেখাচ্ছিনা, আর সে সম্ভবও নয়। তবে কিছুটার অন্তত চেষ্টা নেবো। দেশের জন্য বর্তমানে কিছু করার সামর্থ্য সুযোগ যেহেতু নেই, তাই যুদ্ধ দলিল প্রজেক্টের সবাইকে ধন্যবাদ তারা আমায় ঋণ পরিশোধের শুরুটা অন্তত শুরু করে দিয়েছে।