তন্ময় দেব

Posted on Posted in 2

একজন শহীদের দৌহিত্র হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ শব্দটিকে হৃদয়ে ধারণ করেছি সেই ছোটকাল থেকেই। ছোট্টবেলায় আমার বয়েসী শিশুরা ঘুমোতে যেত রূপকথার গল্প শুনে। কিন্তু আমার দিন কেটেছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে। খুব কাছ থেকে দেখেছি একজন শহীদ জায়া আমার দিদা(নানী)’র কান্নাভেজা ভয়ার্ত চোখ, শুনেছি মুক্তিযুদ্ধের দুর্বিষহ স্মৃতিচারণ। কিন্তু পঞ্চম শ্রেণীর সমাজ বইতে মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস সবকিছুই যেন পাল্টে দিল নিমেষেই। সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক সত্য লুকিয়ে উঠতি একটি প্রজন্মকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করার অপচেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠলো তা। দুঃখের সাথে বলতে হয়, আমার অনেক সহপাঠী, যারা পর্যন্ত প্রাথমিক, মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়েছে তাদের অধিকাংশই মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে বিভ্রান্ত। ইতিহাসের খলনায়করাই তাদের কাছে এখন আদর্শ! তার উপর বর্তমান তরুণ প্রজন্মের গবেষণাধর্মী লেখাপড়ার প্রতি অনাগ্রহ, সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষার প্রতি অতিমাত্রায় ঝোঁক মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীশক্তির জন্য একপ্রকার মেঘ না চাইতেই জলের মতো হয়ে দেখা দিয়েছে। তাই ওরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ধীরে ধীরে বিকৃত করার মাধ্যমে একটি জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এইসব দেখে সত্যিই হতাশ হয়ে পড়ি আমরা। মুক্তিযুদ্ধকে হৃদয়ে লালন করা মানুষেরা এভাবে চুপ থাকতে পারে না। আর তাইতো সঠিক ইতিহাসটি মুহূর্তের মধ্যে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার সময়োচিত পদক্ষেপ, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র থেকে বলছি”। লিও’র মাধ্যমে স্বেচ্ছায় সংযুক্ত হয়েছি এই বিশাল কর্মযজ্ঞে। আইন পড়া সার্থক করেছি আইনের ক্ষুদ্র অংশ অনুবাদ করে। সবার মতো আমিও স্বপ্ন দেখি, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার প্রত্যেকটি সুযোগ তরুণ প্রজন্ম লুফে নেবে। মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে প্রজন্ম আর কখনোই বিভ্রান্ত হবে না। আর সেই স্বপ্নের পালে হাওয়া দিচ্ছে “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র থেকে বলছি”। ছোট্ট পরিসরে হলেও এই দলটির সাথে কাজ করতে পেরে আমি সত্যিই ধন্য। মুক্তিযুদ্ধ হোক উন্মুক্ত, সবাই জানুক মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, কন্ঠ কাঁপুক জয় বাংলা ধ্বনিতে।