তারিকুল ইসলাম খান

Posted on Posted in 7

দেশ, দেশের মাটি, মানুষ আর আমাদের স্বাধীনতার প্রতি গভীর এক অনুভূতি এবং মমত্ববোধ আমার ভেতর কাজ করতো ছোটবেলা থেকেই। দেশের প্রতি ভালবাসা থাকলেও দেশের জন্য সরাসরি কাজ করার সুযোগ খুব কমই আছে আমাদের। মুক্তিযুদ্ধের কষ্টার্জিত স্বাধীনতায় আমাদের এই প্রজম্মের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না। ‘৫২,’৬২,’৭১ আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতার শেকড়। র্দুভাগ্য আমাদের, সেই শেকড়কে সঠিক ভাবে জানা ও জানানোর উপর বারবার এসেছে কুঠারাঘাত। এক কালো ছায়া সর্বদা গ্রাস করতে চেয়েছে আমাদের সেই লাল সূর্যকে। ঝড়ো হাওয়া বার বার আঘাত করেছে জাতীয় অগ্রযাএায়। সত্যকে মাটি চাপা দেয়ার অলীক বাসনায় লিপ্ত থাকছে একটি মহল। তবে এটাও বিশ্বজনীন যে, সত্যকে আটকে রাখা যায় না। তা হোক কার অনুকূল বা প্রতিকূল, এটি প্রতিষ্ঠা পাবেই একদিন। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, বিভিন্ন দালিলিক প্রমাণাদি নতুন প্রজন্মকে নতুন ধারায় জানানোর প্রয়াস একটি মহান উদ্যোগ। ইতিহাসকে সবার দোরগোড়ায় পৌঁছানোর এই মহতী কাজ শুরু হয়েছে, এটি প্রথম জানতে পারি আমার বন্ধু তন্ময়ের কাছ থেকে। এরপর এই কাজে অংশগ্রহণ, লিও ভাইয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন আর অনেকের সহযোগিতায় কাজ এগিয়েছে। যুদ্ধদলিল প্রোজেক্টের ‘ডেপুটি প্রোজেক্ট ডিরেক্টর’ পদটি লিখার দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দিত অনেকখানি। যুদ্ধদলিলের একেকটা অক্ষর পর্যন্ত মনে দাগ কাটতো, ভেতর থেকে জাগিয়ে তুলতো যুদ্ধানুভূতি। ভাবতাম, কেমন পরিস্থিতিতে আমার বাবা ছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে। নিজেকে স্বান্তনা দিতাম, আমার যুদ্ধলিখনিতে।

স্বাধীন অস্তিত্বে বেঁচে থেকো চিরকাল প্রিয় মাতৃভূমি, বাংলাদেশ।