তাসাউফ এ বাকি বিল্লাহ

Posted on Posted in 2

গত পাচ/ছয় বছর আগেও বয়সে যারা তরণন, তারা খুব বেশি রকম বিভ্রান্ত ছিল “মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধু” এই বিষয়গুলো নিয়ে। সেই বিভ্রান্তিটাও যে একটা বিশেষ গোষ্ঠীর নিজেদের আদিপাপ ঢাকার জন্যই তৈরি করা, সেটাও হয়তো আমাদের কাছে স্পষ্ট ছিল না। ব্যক্তিগতভাবে বলতে গেলে আমি নিজেও বিভ্রান্ত হয়েছি নানা সময়।

স্কুল জীবন থেকেই আমার প্রিয় বিষয় ছিল ইতিহাস। সাল/ তারিখ গুলো মনে রাখার অংশটুকু বাদ দিলে ইতিহাসের বই বা ইতিহাস নির্ভর গল্প/উপন্যাস/চলচ্চিত্র গিলতাম গোগ্রাসে। তারই ধারাবাহিকতায় একসময় বাংলা জনপদ তথা বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে যা পেতাম তাই পড়তাম/ঘাঁটাতাম । একসময় বিভ্রান্ত হয়ে পড়লাম যে সত্যিটা আসলে কি? বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের আদিপর্ব থেকে মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময়জুড়ে আমাদের ঘটনা এবং চরিত্রগুলো বিভিন্ন লেখকের হাতে যেন ১৮০ ডিগ্রী বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে তার গল্প বলে! সিরাজ উদ্দৌলা থেকে বঙ্গবন্ধু তাই কখনো মহানায়ক আবার কখনো খলনায়ক!

২০০৮ সালের পর থেকে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা বাড়তে লাগলো। বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফেসবুক ভূমিকা রাখে ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। ফেসবুকের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে জড়ো হয়েছিলাম আমরা, যেটা শেষ হয়েছিল ৯০ দশকের পর গত দেড় যুগের ভেতর সবচাইতে বড় রাজনৈতিক আন্দোলনে। যুদ্ধটা ছিলো ‘৭১ এ, পুরোটাই গেরিলা আর সম্মুখ যুদ্ধ। এর বহু বছর পর দেশে নেট ’সুলভ’ হবার প্রায় সাথে সাথেই সেটা গিয়ে গড়ালো অনলাইনেও।

অনেককেই দেখলাম সেই বিভ্রান্তিগুলো দূর করার, সঠিক ইতিহাস জানানোর দায়িত্বটা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। পরিসর বড় হতে লাগলো, সঠিক ইতিহাসের চর্চাটা শুরু হতে লাগলো অনলাইনে। সেই ধারাবাহিকতাতেই এরপর হঠাৎ একদিন এলো ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র থেকে বলছি’ প্রজেক্ট।

“তথ্য হোক উন্মুক্ত, আমাদের পরিচয় হোক একটাইঃ মুক্তিযুদ্ধ…” এই শ্লোগান বুকে নিয়ে একদল তরুণ-তরুণী কাজ করে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য সংকলন ‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র’ নিয়ে। এটা সম্ভবত, এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ফেসবুকভিত্তিক সবচেয়ে অসাধারণ উদ্যোগ। এই অনন্য সাধারণ উদ্যোগের সাথে আমার সংশ্লিষ্টতা আসলে হঠাৎ করেই। নিজের অন্তর্মুখী স্বভাবের কারণে উদ্যোগগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট খুব বেশি লোকজনের সাথে ব্যক্তিগত চেনা পরিচয় আছে বলে দাবী করতে পারি না। তবে ফেসবুকের কল্যাণে বন্ধুতালিকায় মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত বিষয়াবলী নিয়ে কাজ করা কিছু ব্যক্তিত্ব আছেন যাদের লেখা ও কাজগুলো নিয়মিত অনুসরন করি।

তাদেরই একজন “লিও”। হঠাৎ একদিন ইনবক্সে জিজ্ঞেস করলেন “যুদ্ধদলিল” প্রকল্পে কাজ করতে চাই কিনা। সম্মতি দিতেই প্রথমে যুক্ত করে দিলেন “অপরাজিতা নীল” এর সাথে পরে “তাজকিয়া ইসাবা” এর সাথে। ‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ এর ২য় খণ্ডের কিছু অংশ নিয়ে কাজ করলাম।

আমি ব্যাক্তিগতভাবে কিছুটা অলস প্রকৃতির। তাজকিয়ার প্রতিনিয়ত খোঁচাখুঁচিতে ওটুকুই করতে পেরেছি। নয়তো হয়তো বা সম্ভব হতো না এটুকু করার। আমি আসলেই কৃতজ্ঞ ওর কাছে। এভাবেই শুরু। তবে থাকতে চাই যতদূর সম্ভব।

কদিন আগেই “যুদ্ধদলিল” এর অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ উন্মুক্ত হয়েছে গুগল প্লে-স্টোরে। শুরু হয়েছে নতুন পদযাত্রার। আমরা হয়তো একটা সময় পর্যন্ত বিভ্রান্ত ছিলাম, এখনো অনেকেই বিভ্রান্ত আছেন। কিন্তু এই উদ্যোগগুলোর জন্যই হয়তো পরবর্তী প্রজন্মকে চাইলেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্ত করা যাবে না-এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। যতদিন দেহে আছে শ্বাস, বলে যেতে চাই মুক্তিযুদ্ধের গল্প। আমাদের পরিচয় হোক একটাইঃ মুক্তিযুদ্ধ…