3

নীপা লাইলা

‘খুলে যাক মুক্তিযুদ্ধের সবকটি বদ্ধদুয়ার’

 

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু  লিখার যোগ্যতা বা ক্ষমতা আমার এক বিন্দুবিসর্গও নেই। তথাপি বড় দুঃসাহস করে যুদ্ধদলিল প্রকল্পের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত অপরাজিতা, কুসুম এবং সুমিতের অনুরোধে দলিলের কাজে সামান্য একবিন্দু আঙুল ছুঁইয়ে দিয়েছি। প্রথম যখন কুসুম আমাকে বললো কিছু অনুবাদ করে দিতে, আমি নিজের চোখের দুরাবস্থার কথা বলে ক্ষমা চাইলাম। তারপর বললো যেন কিছু ক্রসচেক করে দিই। আমি হাতে স্বর্গ পেলাম। শরীরে মহা কাঁপুনি নিয়ে আমি রাজী হয়ে গেলাম। মুক্তিযুদ্ধ! মুক্তিযুদ্ধ! মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করার মতন যোগ্যতা আমি অর্জন করে ফেললাম এই ভাবনাতেই অসাড় হয়ে গিয়েছিলো আমার সবগুলো অনুভূতি। আমি ক্রসচেক করে দিলাম। হয়ে গেলাম মহান এক ইতিহাসের অংশ।

 

এমন একটি মহান এবং সুবিশাল কাজে হাত দেয়া আমাদের লিও এবং তাজকিয়াকে কী বলে ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানাই, তার ভাষা নেই আমার শব্দ ভাণ্ডারে। এই কাজ এতো নিখুঁতভাবে করে যাওয়ার জন্য সারাদেশের যেই অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী এগিয়ে এসেছেন তাদের প্রতিও আমার একই অনুভূতি।

 

একটি ব্যাপারে আমার অনুরোধ আছে আমাদের এই প্রজেক্ট হেড এর কাছে তা হলো, যেভাবে সে দিন কে রাত আর রাত কে দিন করে এই অনুবাদ প্রজেক্ট শেষ করে নিয়ে আসছে ঠিক সেভাবেই এই দলিলের মাঝে বাস করা অনেক ভুলত্রুটি সংশোধন করার জন্যেও আবার যেন নিজে জড়িয়ে পড়ে এবং অন্য সকলকে জড়িয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে।সম্ভব! খুব সম্ভব! আমাদের লিওবাবাকে দিয়ে খুব সম্ভব এই কাজ।

মুক্তিযুদ্ধের বন্ধ দুয়ার খুলে তাকে বাংলার কোণায় কোণায় পৌঁছে দেয়ার এই অসাধারণ কাজটি ঈশ্বর বন্দনা বা প্রার্থনা থেকে কোনো অংশেই কম নয়।

প্রার্থনা করি- এই দলিলকে সকলে মিলে যেভাবে বুকে আগলে নিয়েছে ঠিক তেমনিভাবেই যেন এই সোনার দেশটাকেও আমরা সবাই বুকে আগলে রাখতে পারি।

সবশেষে, সকলের প্রতি রইলো হাজার আকাশ ভালোবাসা।