নুরুল ইসলাম বিপ্লব

Posted on Posted in 2

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থবর্ষে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পড়ালেখা করার আগ্রহ তৈরি হয়। পড়াশুনা শুরু করার পর টের পেলাম, কাজটা সহজ নয়। নানান ধরনের বই পত্র পাওয়া যায় বাজারে। সেগুলো পড়া শুরু করলে অল্প কিছু পরেই লেখকের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ হয়ে পরে, স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে পরস্পরবিরোধী তথ্যও পাওয়া যায়, এমনকি একজন তো বইয়ের নামই দিয়েছেন নির্দলীয় ইতিহাস। কিছু বইপত্র পড়ার পর পুরোপুরি কনফিউজড হয়ে গেলাম। মনে হল র‍্যান্ডম পড়ালেখার আগে যুদ্ধের অফিসিয়াল ইতিহাসটা পড়া দরকার তাহলে সেটাকে বেজ ধরে অন্যান্য লেখালেখির ডেভিয়েশন মাপা যাবে। প্রথমে ভাবলাম দলিলপত্র কিনে ফেলবো, তখনো এর ব্যাপ্তি আর সাইজ সম্পর্ক কোন ধারণাই ছিল না। খোঁজ নিয়ে চোখ কপালে উঠলো। এক একটা ভলিউমের যে সাইজ আর দাম আমার দুই বছরের পড়ালেখার খরচের সমান। সেবার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পড়ালেখা আর এগোয় নি। তখন মনে হয়েছিল এই দলিলের সফটকপিটা পাব্লিক করে দেয়া উচিত যাতে যে কেউ চাইলে পেতে পারে। (একটা পিডিএফ সত্যি সত্যি ছিল সেটা জানতাম না)। অনেকদিন পর ইঞ্জিনিয়ার লিও নামের একটা আইডি থেকে দলিলপত্র উইনিকোড করা হবে বলে লেখালেখি দেখলাম। দেখা মাত্র মনে হলো, আরে দারুণ তো, এদের সাথে থাকতে হবে। ফলো করা শুরু করলাম। লিও যুদ্ধদলিল প্রকল্পে কাজ করতে আগ্রহীদের যোগাযোগ করতে বললো। ব্যস, ভিড়ে গেলাম ওদের দলে। তবে খুব বেশি কাজ করা সম্ভব হয় নি, অল্প কয়েক পেজ অনুবাদ করেছি মাত্র। অনেকবার ডেডলাইন মিস করেছি অথচ নাছোড়বান্দার মত ঠিকই কাজ আদায় করে নিয়েছে খণ্ড দুই এর কো-অরডিনেটর তাজকিয়া। মাঝে মাঝে ভাবতাম, কিভাবে সম্ভব? অনেকেই কাজ করছিল এই গ্রুপে। সবার সাথে যোগাযোগ করা, অনুবাদ নেয়া, ক্রসচেক, প্রুফ রিডিং, সব কিছু মিলিয়ে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। কিভাবে ম্যানেজ করে আর কি কোন কাজ কাম নাই নাকি! এই প্রশ্ন করাতে উত্তর দিয়েছিল, ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। এই প্রকল্পের ফলে কি হবে সেটা একটা প্রশ্ন। উত্তরটাও সহজ। খুব স্বাভাবিকভাবেই যুদ্ধদলিল খুব সহজলভ্য একটা বিষয়ে পরিণত হবে। হাতের কাছে পেলে অনেকেই পড়বে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা হবে, সেটা হলো একটা একক রেফারেন্সিং উৎস তৈরি করা সম্ভব হবে। ফলে যুদ্ধের ইতিহাস হয়ে উঠবে কিছুটা মিমাংসিত। একটি আধুনিক শক্তিশালী জাতিরাষ্ট্রের জন্য মিমাংসিত ইতিহাস প্রকল্প খুবই জরুরি। কেন জরুরি সেটা চারদিকে তাকালেই বুঝবেন।