নুসরাত জাহান ইমা

Posted on Posted in 7

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলতে আমার কাছে ঐ হুমায়ুন আহমেদের ‘দেয়াল আর শাহাদুজ্জামানের ক্রাচের কর্নেল’ আর মোহাম্মদ জাফর ইকবালের ২২ পৃষ্ঠার “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস”।  সত্যি বলতে কি কোনটাকেই অথেনটিক বলে মনে হয় নি। আর আশে পাশের সবার নানা জনের নানা মত দিয়ে সব কিছুই ওলট পালট লাগতো। জাতিগত কারণেই হোক আর যে কারণেই হোক, আমরা ‘মুক্তিযুদ্ধ” কে ‘বিতর্ক” তে পরিণত করে ফেলেছি।

মুক্তিযুদ্ধের দলিল নিয়ে অনলাইন ভার্সনের কাজের কথা অনেক আগেই লিও-র পোষ্ট থেকেই জানতাম। এতদিন শুধু অনলাইনের পোস্টগুলো পড়া পর্যন্তই ছিল। একদিন লিও নিজে থেকেই অনুবাদ করার আহবান জানালো। সাথে সাথে লুফে নিয়েছিলাম। যদিও এমন সময়ে কাজটা হাতে নেই যখন আমি ভয়াবহ রকম ব্যস্ত ছিলাম।
ওর মাধ্যমেই পরিচয় হলো সজীবের সাথে, এতটা অমায়িক লোক আমি খুব কমই দেখেছি জীবনে।
আমি প্রথম বার মোটেও টাইম লাইনের মধ্যে অনুবাদ জমা দিতে পারি নি। দূর্ভাগ্যবশত ঠিক ঐ সময়ে আমার বেশ ঝামেলা চলছিল। মাত্র কয়েক পৃষ্ঠা অনুবাদ করেছিলাম। সজীব ভাই প্রতিবার অত্যন্ত ধর্যের সাথে আমাকে সহ্য করে গেছেন। শুরুর দিকে প্রথমে খাতায় লিখে অনুবাদ করতাম তারপর মোবাইলে টাইপ করতাম।

অফিস, ক্লাস শেষে রাত ১১ টার পর বসতাম। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যতটুকু দেয়া হয়েছে অত টুকু শেষ করতে।
এই দলিল অনুবাদের কাজ করতে গিয়ে শুধু ইতিহাসটাকেই জানতে পারছি তা নয়। অনেকগুলো সুন্দর আর ভালো মনের মানুষদের সাথে পরিচয় হয়েছে। খুব ভালো লাগে যখন মনে হয় এই বিশাল কর্মযজ্ঞে আমি একজন সামান্য সহযোদ্ধা হয়েও পূর্ণ সম্মান পাই।
এই প্রজেক্টের সবচাইতে শক্তিশালী দিক হচ্ছে, সবাই একটি অভিন্ন অথেনটিক দলিলকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করছে। ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ এমন একটি সংকলন, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক সরকারের সময়কালের চরাই-উৎরাই পেরিয়ে এখনো অনন্য!
অদ্ভুত জিনিস হলো, এই প্রজেক্টের জড়িত কেউই আমরা কাউকে তেমন ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। যার কারণে বিচিত্রভাবে পুরো প্রজেক্টটা পেয়েছে অদ্ভুত এক গতিশীলতা। আমাকে এই রকম একটা মহান উদ্যোগের অংশীদার করার জন্য সর্বদা কৃতজ্ঞ থাকবো লিওর কাছে। সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে নিজ অবস্থান থেকে প্রজেক্টকে আরো সমৃদ্ধ করার।