প্রলয় হাসান

Posted on Posted in 9

যুদ্ধটা ছিলো ‘৭১ এ, পুরোটাই গেরিলা আর সম্মুখ যুদ্ধ। এর বহু বছর পর দেশে নেট ’সুলভ’ হবার প্রায় সাথে সাথেই সেটা গিয়ে গড়ালো অনলাইনেও। শুরুটা হয়েছিল একটা স্বনামধন্য বাংলা ব্লগের মাধ্যমে, ২০০৬ সালে। জামাত শিবিরের ছানা পোনারা নিয়মিত ব্লগে স্বাধীনতাবিরোধী পোষ্ট করতো। তখনকার মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের ব্লগারেরা সেসবের বিরুদ্ধে একযোগে রুখে দাঁড়ালো। কলমের জবাবটা আমরা কলম দিয়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু ব্লগ কর্তৃপক্ষ মডারেশনের নামে আমাদের উপর চালালো স্টিম রুলার। ফলশ্রুতিতে, ব্লগ ছাড়তে বাধ্য হলাম। তবে লেখা থামায় নি কেউ। সবাই বিভিন্ন ব্লগ, ফোরাম আর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে গেলাম।

ফেসবুককে আমরা প্রথমে নিয়েছিলাম স্রেফ ব্লগের বিকল্প হিসেবে, ২০০৮ সালে। কারন সে সময় মডারেশনের নামে আমার লেখায় কাঁচি চালানো বা গলা চেপে ধরাকে ঘৃণা করতাম। ফেসবুকে এই সমস্যা ছিলো না। তো এরপর ধীরে ধীরে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা বাড়তে লাগলো। তবে বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফেসবুক ভূমিকা রাখে খুব সম্ভবত ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। ফেসবুকের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে জড়ো হয়েছিলাম আমরা, যেটা শেষ হয়েছিল ৯০ দশকের পর গত দেড় যুগের ভেতর সবচাইতে বড় রাজনৈতিক আন্দোলনে। সুতরাং, ফেসবুককে আর স্রেফ “ব্লগের বিকল্প” হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। ফেসবুক তার চাইতেও অনেক অনেক বেশী শক্তিশালী হয়ে গিয়েছে।

সেলফিবাজ প্রজন্মকে বলবো না সেলফি বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ইতিহাস পড়তে। বরং বলবো, সেলফি তুলতে তুলতেই তারা আমাদের সবচাইতে গৌরবদীপ্ত ইতিহাসকে জানুক। জানতে কষ্ট? অনলাইনে আমাদের তরুণদের একেবারে হাতের মুঠোয় আমাদের ইতিহাসকে এনে দিয়েছে তাদেরই মতো কয়েকজন স্বপ্নদ্রষ্টা তরুণ। গড়ে তুলেছে ’বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র থেকে বলছি’ নামক এক সুবিশাল ডিজিটাল আর্কাইভ। এটা এতটাই স্মার্ট আর সহজেই একসেসিবল যে, যে কেউ একবার ব্যবহার করলেই বুঝতে পারবেন।

এই প্রজেক্টের পেছনের মানুষগুলোর আত্নত্যাগের কথা আর নাই বা বল্লাম। তাঁদের কাজের জন্য একদিন পুরো জাতিই কৃতজ্ঞ থাকবে। এখন শুধু আমরা চাই, আমাদের তরুণ প্রজন্ম যেন এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে।তবেই আমি মনে করবো তাদের এর পেছনে জড়িতদের আত্নত্যাগ সফল হয়েছে। তবেই মনে করবো, আমরা আমাদের ভবিৎষ্যত প্রজন্মের জন্য আর কিছু না পারি, একটা ডিজিটাল আর্কাইভ বানিয়ে রেখে যেতে পেরেছি। যেটা তারা ইচ্ছেমতো স্টাডি, পরিবর্ধন, শেয়ার ও রেফারেন্স হিসেবে ইউজ করতে পারবে।

আমাদের যে ইতিহাস, পৃথিবীর খুব কম জাতিরই এমন প্রচন্ড গৌরবজ্জল ইতিহাস রয়েছে। একে পুরোপুরিভাবে সংরক্ষণ করলে না পারলে আমাদের দুর্ভাগ্যের কোন শেষ থাকবে না। তেমনি একে যথাযথভাবে সংরক্ষণের মধ্য দিয়েই আমরা গড়ে তুলতে পারবো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত এক আলোকিক প্রজন্ম। সেই প্রত্যাশায় –

প্রলয় হাসান।