বিদ্যুদ্বিকাশ মজুমদার অপু

Posted on Posted in 2

আমি একজন খুবই সাধারণ ঘরের ছেলে।নিজেকে সাধারণ ভাবতেই ভাল লাগে। জন্ম, বেড়ে উঠা ঢাকা শহরে। ছোট হতেই দেশের প্রতি অজানা এক টান অনুভব করতাম। খেলাধুলার পাশাপাশি তাই অল্প বিস্তর বিভিন্ন প্রকার সাহিত্যকলা নিয়েই সময় কেটেছে। এভাবেই হাতে লাগে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা একটি বই।

সেই বইয়ের ভিতরেই ডুবে ছিলাম টানা দু’দিন। এক নিমিষে বই শেষ করেছিলাম। লোমকূপ গুলোতে শিরশিরানি অনুভব ছিল যতক্ষণ বইটি শেষ করেছিলাম।

অনেক ত্যাগ ছিল আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের, তা পরিবারের মুখ থেকেই শুনেছি তারপরও আমাকে বই আরো অনেক সাহায্য করেছে।আমি যখন কৈশোর পার হই, তখন আবছা মনে পরে দুই রাজাকার দেশের মন্ত্রণালয়ে। এই বিষয় নিয়ে মামারা,কাকারা আলাপ করত। আর ওরা ১১জন, হাঙ্গর নদীর গ্রেনেড এর মত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক মুভি দেখে রাজাকার সম্পর্কে ভালোই জ্ঞান ছিলো। তখন রাজাকার নিয়ে বড়দের আলাপ শুনতাম। খুব খারাপ লাগত এইসব শুনে।

এদিকে আমিনুল হক পলাশভাইয়ের কথা না বললেই নয়।একেবারে আপন ভাইয়ের মতো করেই দেখেছেন যিনি সব সময়। তিনি আমাকে যুক্ত করেন একটি প্রোজেক্টের সাথে। মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দেন। সেই ঋণ আমি শোধ করতে পারবো না।

আর হ্যাঁ, লেখার ছলে একটি তথ্য দিতে ভুলে গেছি। আমার দাদু মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, ৮ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। এর আগে ছিলেন পাকিস্তান এয়ারফোর্সে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এপ্রিল মাসে দেশের টানে বাংলাদেশ পালিয়ে আসেন। তারপর তিনি স্বীয় যোগ্যতাবলে হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন বিমান বাহিনীর ৮ নম্বর সদস্য।সেই দাদুর রক্ত আমার ধমনীতে প্রবাহমান। দেশপ্রেমের টান অনুভব করি সবসময়। দেশের জন্য কিছু করতে চাই।

পলাশ ভাইকে আবারো ধন্যবাদ এই চমৎকার প্লাটফর্ম আমাকে দেয়ার জন্য।লিখতে গিয়ে আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েছি। অনেক কথা চলে আসছে, কিন্তু লিখতে পারছি না।আমি চাই আমার বাংলাদেশ হোক রাজাকারমুক্তএবং রাজাকারদের যারা পাহারা দিয়ে কোলে তুলে রাখতে চেয়েছিলো, তারা যেন এদেশের মাটিতে নিশ্বাস নিতে না পারে। তাদের চিহ্ন যেন না থাকে এ মাটিতে।এটুকুই চাওয়া।