মেহেদী হাসান মুন

Posted on Posted in 2

দিকে দিকে বাজলো যখন
শেকল ভাঙার গান,
………………………
চাচা আপন বাঁচা বলে
বাঁচিয়েছি প্রাণ,
এ খাঁচা ভাঙ্গবো আমি কেমন করে।।

খান আতাউর রহমানের এই গান আর জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই যতদূর মনে পড়ে আমার সজাগ মনের সাথে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পরিচয়। মুক্তিযুদ্ধ কী, তাবুঝার আগেই হয়তো স্বাধীনতাকে প্রথম বুঝতে পেরেছিলাম। বিজয় দিবসে ১০ টাকায় ৩০ টা কাগজের পতাকা কেনা, একুশে টিভিতে ‘ওরা এগারো জন’ চলচ্চিত্রটি দেখানোর সময় মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে থাকা, আর গুনগুণ করে “জয় বাংলা, বাংলার জয়” গাওয়া- এই ছিল ছোট্ট আমার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভাবনা। এরপর অনেক সময় গড়িয়েছে, ছোট থেকে বড় হয়েছি, ব্যক্তিগত জীবনে ব্যস্ত হয়েছি কিন্তু শেকড় যে ছিল খুব গভীরে। জানতাম, একদিন না একদিন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে খুব ছোট হলেও কিছু কাজ করার সুযোগ পাবো। এরই মাঝে অনলাইনে ইঞ্জিনিয়ার লিও ভাই আর বন্ধু নিশম সরকারের প্রোফাইলে মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র নিয়ে কিছু একটা করার ইঙ্গিত দেখলাম। পরে প্রায়ই চোখে পড়তো যে একদল তরুণ কিবোর্ড হাতে ঝাপিয়ে পড়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে উন্মুক্ত করে দেয়ার কাজে। মনের খুব গভীরে সুপ্ত একটা ইচ্ছা ছিল যে, যাই না শেকল ভেঙে কিছু কাজ করে আসি, বিবেকের বোঝা কিছু কমিয়ে আসি। কিন্তু বাস্তবতা আর হতাশা বেশ জেঁকে ধরেছিল। একদিন তাজকিয়া ইসাবার মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র নিয়ে একটা পোস্ট চোখে পড়লো। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে হওয়ায় স্বভাবতই মনোযোগ দিয়ে পড়লাম, বুঝলাম ওকে দ্বিতীয় খণ্ডের কাজ দেয়া হয়েছে কিন্তু ও সবার কাছ থেকে ভালো রেসপন্স পাচ্ছে না। সেদিন বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে খাঁচা ভেঙে নক দিলাম ওকে, জানালাম যে কাজ করতে চাই। ও কয়েক পাতা অনুবাদ ধরিয়ে দিলো। সেই থেকে শুরু…নেশার মতো কাজ করতে লাগলাম। কাজ শেষ হলে নিজ থেকেই আবার চেয়ে চেয়ে কাজ নিতাম। ব্যস্ত জীবন, অফিস, ক্লাসের ফাঁকে, সরকারি ছুটিতে, এক্সাম মিস দিয়ে, অনুবাদ আর ক্রস-চেক চলতে লাগলো। পুরোটা সময় তাজকিয়া দক্ষ অভিভাবকের মতো পাশে ছিল, ওর নির্দেশনায় জানতে লাগলাম মুক্তিযুদ্ধকে নতুন করে, আরও গভীরভাবে। দ্বিতীয় খণ্ডের কিছু অংশ আগে থেকে পড়া ছিল, তাই জানতাম যে মুক্তিযুদ্ধ পূর্বকালীন সময়ের কিছু অতি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট আছে এই খণ্ডে। কিভাবে একটি শোষিত জাতি স্বাধীনতাকামী হয়ে উঠলো, সেই গল্প আছে এই খণ্ডে। তাই খুব সতর্কতার সাথে কাজ করতে হয়েছে। এই খণ্ডের ইতিহাস আমাকে যেমন গভীরভাবে আন্দোলিত করেছে, তেমনিভাবে এই খণ্ডের প্রতিটি পাঠক আন্দোলিত হবে বলে আমার ধারণা। চাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ুক মুক্ত ইতিহাসে।

“ আমি ইতিহাস- এই শব্দযুদ্ধে স্বাধীন হয়ে চলছি,
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র থেকে বলছি। ”