রানা আমজাদ

Posted on Posted in 10

খুব ছোট বেলায় কিছু কিছু বিশেষ দিনে গ্রামের বাজার থেকে মাইকে ভেসে আসতো রক্তে শিহরণ জাগানো একজনের দৃঢ় কন্ঠের ভাষণ। মা বলতো শেখে’র ভাষণ বাজছে। তখন এতো কিছু বুঝতাম না তবুও মায়ের কাছে জানতে চাইতাম শেখ কে? মা তার মতো করে বুঝিয়ে বলতো। তবুও কৌতুহলী আমার কৌতুহল মিটতো না। আমার জানার আগ্রহ আরো বেড়ে যেত। তারপর আস্তে আস্তে বড় হলাম। বড় হতে হতে জানলাম শেখ কে ছিলেন? কি ছিলেন? তবে তা এতো সামান্য পরিসরে যে তাতে আমার কৌতুহল তো মিটতোই না বরং আরো বেড়ে যেতো। সেই থেকে শুরু আমার শিকড়ের অনুসন্ধান। খুঁজতাম লাল সবুজের এই বাংলাদেশের ইতিহাস।

নিজের পাঠ্য বই পড়ে খুব সামান্য জেনেছি। আর কিছু জেনেছি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত অল্প কিছু বই পড়ে। কিন্তু তাতে কি আর পিয়াস মিটে। এরপর জানলাম আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিল পত্রের কথা। কিন্তু সংগ্রহে ছিল না। একদিন খুব আগ্রহ নিয়ে একটি সাইটে গিয়ে ডাউনলোড করে ফেললাম দলিলপত্রের ১৫ টি খন্ড একত্রে, কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই খন্ডগুলো খুলেও দেখা হয় নি!! হঠাৎ একদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজনের যৌক্তিক বিশ্লেষণ সম্বলিত কিছু লেখা দেখতে পেলাম। যোগাযোগ করলাম তাঁর সাথে। উনার নাম লিও। পরে লিও আমাকে কিছু অনুবাদ করে দিতে পারবো কিনা, তা জানতে চায়। আমি দিতে বলি। আমার অনুবাদ ক্ষমতা যদিও খুব ভাল নয় তবুও চেষ্টা করি আর লিও ভয় পেতে নিষেধ করে।

এরপর লিও আমাকে ১০ম খণ্ডের কাজে নীল আপুর সাথে যোগ দিতে বলে। আমি সানন্দে রাজি হই। আর কাজ করতে আমি খুজে পাই আমার শিকড়, আমার ৩০ লক্ষ শহীদ আর সম্ভ্রম হারানো লক্ষ মা বোনের ইতিহাস। এভাবেই আমার ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র থেকে বলছি’ নামক প্রজেক্টের সাথে জড়িয়ে পড়া। ধন্যবাদ সবাইকে এই ক্ষুদ্র আমাকে সাথে রাখার জন্য।