রাফি শামস

Posted on Posted in 2

বেশ কিছুদিন আগের কথা। একটু ডিপ্রেশনের মধ্যে ছিলাম। নিজেকে ব্যস্ত রাখা যায় এমন কিছু কাজ খুঁজছিলাম। তখন শুনলাম, যুদ্ধদলিল প্রোজেক্টে দলিল কম্পাইলেশনের কাজ চলছে। পলাশ ভাই আগে থেকে বলে রেখেছিলেন কাজ করার জন্য। ভাইয়াকে নক দেয়ার পর তিনি আমাকে ৫ টা পৃষ্ঠা দিলেন কম্পাইল করার জন্য। ডিপ্রেশনের জন্যই হোক কিংবা কোন কাজ না থাকার জন্যই হোক, সাথে সাথেই পুরোটা টাইপ করে দিলাম। প্রশংসা শুনতে কার না ভাল লাগে! ভাইয়ার ভাষায় ‘সুপারসনিক স্পিডে’ এরপর আরও ৩ টা স্লট টাইপ করা হলো সে যাত্রায়! মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সর্ব-সাধারণের কাছে, বিশেষ করে এই অনলাইন দুনিয়ায় সহজলভ্য করার জন্য একদল তরুণ স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে দলিলের পিডিএফ থেকে ইউনিকোডে রূপান্তরের কাজটি করে চলেছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে আমিও খুব ক্ষুদ্র একটা অংশ, এটাই আমার জন্য সব থেকে গর্বের ব্যাপার। যদিও ইচ্ছা ছিল আরও বেশি ভূমিকা রাখার, কিন্তু আমার সীমাবদ্ধতা এই যে, আমি অন্যান্য আত্মোৎসর্গী দক্ষ স্বেচ্ছাসেবকদের মত নিজের সবটুকু এখানে দিতে পারি নি। তবে বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা কষ্ট করে মুক্তিযুদ্ধের বই আর দলিলপত্র ঘেঁটেঘুঁটে দেখবে-এমনটা খুব কমই হয়। তাই বই থেকে ইউনিকোডে রূপান্তর বর্তমান প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার খুবই কার্যকর একটি উপায়। যারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখালেখি করেন, তাঁদের কাছে এটি স্বর্ণখণি হিসেবে পরিগণিত হবে! এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ক্ষুদ্র একটা অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত ও আনন্দিত।