3

রুবাইদ মেহেদী অনীক

সাতক্ষীরার একটা উপজেলায় আমার বেড়ে ওঠা। তবুও তার মাঝে, কোথাও একটা তৃষ্ণা থেকে গিয়েছিল। আমার ইতিহাস, আমার সত্যকে জানার তীব্র একটা বাসনা।

 

এসএসসির পর হুট করে ঢাকায় চলে আসা, একা হোস্টেল জীবন, বাই প্রোডাক্ট হিসেবে পেলাম যা ইচ্ছে করার সুযোগ, যা মনে চায় পড়ার সুযোগ। আরামবাগের সাইবার ক্যাফেগুলোতে ঘন্টা ২৫ টাকা। বাংলা ব্লগের তখন সোনালী সময়।

 

অনলাইন থেকে বায়াসড লেখা না ঘেঁটে সেই সময়ের মানুষগুলোকে খুঁজে বের করতে চাইলাম। তাদের সাথে কথা কথা বলে বুঝতে চাইতাম। তাদের বক্তব্যের পাশাপাশি মানসিকতা আর সম্ভাব্য বায়াসনেস আমলে রাখতাম। একা একা সেই-ই আমার জন্যে অনেক ছিল। কিন্তু কোন উপসংহার কখনো পাই নি।

যাই হোক, এরপর অনেক দিন পেরিয়ে গেছে। ব্যক্তি জীবনের দৌড় ঝাঁপ থেকে জাতীয় ইস্যু শাহবাগ, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসী, অনেক কিছুই। এরই মাঝে হঠাৎ ফেবুতে স্বেচ্ছাসেবী অনুবাদক চেয়ে একটা পোস্ট চোখে পড়লো, ইনবক্স করলাম তাজকিয়া ইসাবা আপুকে।

 

প্রাইভেট সেক্টরের মানুষ হিসেবে নিজের সময় বলতে গেলে কাজীর গরুর মতো, কাগজে আছে, গোয়ালে নেই। তার উপর একটা পিসি বা ল্যাপটপ পর্যন্ত ছিল না, পরপর দুইটা খুইয়ে আর কিনি নি বলে। বন্ধু প্রণয় আর সাইফকে সাথে নিয়ে আর অফিসের পিসিতে বসে তাজকিয়া আপুর সাথে ২য় খণদে কাজ করলাম। এ পর্যন্ত আমার ভাগের সমস্ত অনুবাদই আমাদের ৩ জনের মিলেমিশে করা।

 

অনুবাদের কাজে এসেই মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রের সাথে সরাসরি পরিচয়। সত্যি বলতে এতো বায়াসড মত ও মুনির ভিড়ে এই ডকুমেন্টগুলো যে কতটা অমূল্য আর শক্তিশালী, তা বলে বুঝানো যাবে না।

 

মুখচোরা আমি, অনুবাদকদের খুব বেশি জনের সাথে পরিচিতির সুযোগ হয় নি। কুসুম আপুর সাথে তৃতীয় খণদের ক্রসচেকিং এর সময় সুমিত, মুকিত আরো কয়েকজনের সাথে কিছুটা সখ্য জমেছে।

 

নিজের ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা আর ব্যস্ততার জন্যে খুব বেশি সময় হয়তো দিতে পারি নি, খুব বেশি কাজও করতে পারি নি। কিন্তু অক্লান্ত অমানুষিক কাজ করে যাওয়া মানুষগুলোকে দেখেছি। তাঁদের চেষ্টা, শ্রম, ঘাম, ডেডিকেশন সব ছাপিয়ে এই দেশটার প্রতি তাঁদের ভালোবাসা দেখেছি। বাংলাদেশকে দেখেছি। একজন স্বপ্রণোদিত কর্মী হিসেবে এর চে’ বড় আর কী পাবার থাকতে পারে?