শিমুল চৌধুরী

Posted on Posted in 7

আমরা বড় হয়েছি মুক্তিযুদ্ধের উপর খুব হালকা কিছু জ্ঞান নিয়ে। বিশাল ত্যাগের মাধ্যমে যে জাতি স্বাধীনতা লাভ করে সে জাতির প্রত্যেকটা শিশুকে যেখানে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা দেবার কথা ছিল, সেখানে ছোটবেলায় পাঠ্যবইতে আমরা “পাকিস্তানি বাহিনী” কথাটিই দেখি নি। “পাকিস্তানি” শব্দটির পরিবর্তে লেখা থাকত “হানাদার”। আর ছিল বইয়ের পাতায় পাতায় ইতিহাস বিকৃতি। ফলে একাত্তরের চেতনা কথাটা শুধু কিছু বইতে আর বক্তৃতার মঞ্চেই সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।গণমানুষের হৃদয়ে আর একাত্তরের চেতনার ঠাই হয় নি। আমরা বড় হয়েছি ইতিহাসবিমুখ হয়ে। কিন্তু ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানি জার্সি পরা আর গালে পাকিস্তানি পতাকা আঁকা ছেলে মেয়েদের গালমন্দ করলেই খালি এ অধঃপতনের সমাধান আসবে না। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির এই জয়যাত্রার যুগে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অনলাইনের মাধ্যমে সহজেই সবার সামনে তুলে ধরা যায়। আমি অপেক্ষায় ছিলাম এ ধরণের একটি উদ্যোগ কেউ নেবে তার জন্য। অবশেষে সে কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগটি নিলেন বাংলা ব্লগ জগতের একসময়ের দাপুটে ব্লগার লিও। তার হাত ধরেই আমার দলিলপত্র প্রজেক্টে আসা।আমি এই ভেবে গর্ববোধ করি যে যুদ্ধদলিল প্রকল্পে আমি সামান্য হলেও সাহায্য করতে পেরেছি। এই প্রজেক্ট সফল করতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করবো, কারণ আমি বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেয়া গেলে বাংলাদেশ মাথা তুলে দাঁড়াবেই।