শুভ পাল

Posted on Posted in 7

শৈশব থেকেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কেমন একটা মোহ কাজ করতো। এতগুলো মানুষ কিভাবে, কোন নেশায় নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে এভাবে ঝাপিয়ে পড়লো? মা কি করে তার সন্তানকে ঠেলে দিলো মৃত্যুর মুখে? তখন বুঝতে পারতাম না, এখন পারি। দেশের বাইরে এসে যখনই কোথাও বাংলা ভাষা শুনি অজান্তেই মুখে হাসি ফুটে ওঠে। অস্থির হয়ে যাই একটাবারের জন্য সেই ভাই/বোনের সাথে কথা বলার জন্য। অথচ প্রায়ই টিভি প্রোগ্রামগুলোতে দেখতাম লাখো শহীদদের রক্তমাখা যুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে। এমনকি আমাদের তরুণ প্রজন্মের, ছোট ছোট ভাই বোনেরা বেশীরভাগই শহীদ দিবস আর স্বাধীনতা দিবসের মাঝে পার্থক্য করতে পারছে না। বুঝতে পারলাম সচেতনতার বড্ড অভাব। সাথে প্রয়োজন সমাজ ও সময় উপযোগী যথাযথ রেফারেন্সের। তাই যখনই জানতে পারলাম যুদ্ধদলিলের কাজ শুরু হয়েছে। সাথে সাথে যেভাবেই হোক সংযুক্ত থাকার জন্য অনুরোধ করি। প্রচন্ড ভালোলাগার মাঝে দেখতে পাই একঝাঁক তরুণ কী করে দেশের ইতিহাস রক্ষায় লেগে আছে। সেই সাথে একের পর এক নিজেও পড়তে শুরু করি, জানতে শুরু করি প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিন্তু অসামান্য তাৎপর্যপূর্ণ আত্মত্যাগের কাহিনী। এক একটা মহাভারত লুকিয়ে আছে এক একজন শহীদের রক্তমাখা বিসর্জনে। কত নাম না জানা শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস ছাইচাপা আগুনের মত দেশের বিবেককে জর্জরিত করছে ক্রমাগত। এদের অবদান কি তবে আড়ালেই থেকে যাবে? না। তাই অশেষ প্রশংসার দাবীদার যুদ্ধদলিল প্রকল্পের। আমরাই পারবো স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে। আমরাই পারবো আমাদের শহীদদের রক্তের বাংলাদেশকে মর্যাদা দিতে। এমন একটা বাংলাদেশ চাই যেখানে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকলেই দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে পরিষ্কার আর স্পষ্ট জ্ঞান রাখবে। সেই স্বর্নালী দিনের প্রত্যাশায়…