শেখ মোঃ ইমরান হোসেন

Posted on Posted in 4

আমার আশেপাশের পরিচিতজন ছাড়া ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা প্রায় প্রত্যেকেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লেখালেখি করেন বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন। এই লেখালেখি বা মতবিনিময়ের সূত্র ধরেই লিও আইডির সাথে পরিচয়। ফেসবুকে উনাকে জন্মদিনের উইশ করলে উনি আমার কাছে দুইটা গিফট চান। একটা হলো যুদ্ধদলিল প্রকল্প নিয়ে ফেসবুকে যে পেইজ আছে তা আমার ওয়ালে শেয়ার দেয়া এবং অন্যটা হলো এই টিমের সাথে অনুবাদের কাজ করা।
.
প্রথমটা সানন্দে করলেও দ্বিতীয়টা নিয়ে আমি দ্বিধায় ছিলাম। নিউজফিডে সময়ে সময়ে যুদ্ধদলিলের বিভিন্ন অংশের অনুবাদ দেখেছি। সেসমস্ত কাজের পেছনের গল্পও পেইজ বা কাজ সংশ্লিষ্টদের আইডি থেকে শেয়ার দেয়া হয় মাঝে মাঝে, সেগুলোও চোখে পড়ে। দেখি,পড়ি আর ভাবি,কতটা পাগল হলে নিজের সমস্ত কাজ সামলে উঠে এমন ভলান্টারি কাজে দিনরাত এক করা যায়! যারা এই যুদ্ধদলিল অনুবাদ,কম্পাইলিং বা অন্যান্য কাজ করে চলেছেন, দিনরাত তাঁদের প্রতি অন্যরকম একটা শ্রদ্ধাবোধ কাজ করে দেখে। আমার ছোটভাইকে দেখতাম অনুবাদের কাজ করতে। ওকে দেখেই প্রসন্ন হতাম,আনন্দিত হতাম এই ভেবে যে সে একটা পবিত্র কাজে নিজেকে সংযুক্ত করেছে।
.
কিন্তু গোল বাঁধলো যখন নিজে এ কাজে সংযুক্ত হবার অফার পেলাম। কারণ আমার ব্যস্ততা (ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক) এবং অলসতা নিয়ে আমি দোটনায় ছিলাম এই ভেবে যে সঠিক সময়ে কাজের আপডেট দিতে পারব কি না! বলেছিলাম, “সম্মানিত বোধ করছি প্রস্তাবে। নিঃসন্দেহে এইটা একটা পবিত্র কাজ। কিন্তু আমার আশংকা আমি বোধয় ফিট না এই কাজের জন্য । কারণ সময়মত কাজের ফিডব্যাক দিতে পারা নিয়ে আমার সংশয় আছে।”

যাহোক,এরপরে উনি আমাকে কিছুটা সাহস দিলেন এবং সজীব বর্মণের সাথে এটাচ করে দিলেন। আমি বলেছিলাম, আমাকে পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে সামান্য কিছু কাজ দিতে। উনারা তাই-ই করলেন।
.
আমাদের পরিচয় হোক মুক্তিযুদ্ধ এবং এই আত্মপরিচয় খুঁজে নিতে অবশ্যই সহায়তা করবে এই যুদ্ধদলিল প্রকল্প। আমার এবং আমার পরবর্তী প্রজন্মের কাছে প্রত্যাশা এই যে তাঁরা বাংলাদেশ সম্পর্কে জানবে,বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস জানবে, মুক্তিযুদ্ধকে জানবে এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে অন্তরে ধারণ করে নিজেদের দৈনন্দিন কাজে সে আদর্শের প্রতিফলন ঘটাবে। জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু।