3

সাদ্দাম হোসেন বকুল

মুক্তিযুদ্ধ আমার কাছে একটি আবেগের নাম। মুক্তিযুদ্ধ বা ‘৭১ সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাই মূলত বাবার নিকট থেকে। বাবা প্রায়শঃই মুক্তিযুদ্ধকালীন শিকারপুরের (ভারত) ট্রেনিং সম্পর্কে গল্প বলতো যা আমরা সবাই আগ্রহ সহকারে শুনতাম। তাদের ট্রেনিং থাকাকালীন মানবেতর জীবনযাপন, খানিকটা হাসি-ঠাট্টা , পরিবারের জন্য হাহাকার এসব শুনে তখন থেকেই মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এসব সম্পর্কে জানার খুব আগ্রহ জন্মেছিল। কিন্তু পরিবেশ-পরিস্থিতি প্রতিকূলে থাকার জন্য সেভাবে আর হয়ে উঠে নি। বড় হবার সাথে সাথে জানার স্পৃহা আরো বেড়ে গেল কিন্তু উপায় হলো না। ফেসবুক ,ইউটিউব ,গুগল ,টেক্সটবুক আর বাজারের কিছু বই থেকে যতটুকু না জানলেই নয়, তা আহরণ করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অনেকেই পাল্টা যুক্তি দিয়ে বিভ্রান্ত করে দিত , যার সমোচিত জবাব দিতে পারতাম না। ভাবতাম, আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বিকৃত করে তাদের লাভটা কি? তখন থেকেই ভাবতাম, ইশ! যদি আমাদের একটা শক্তিশালী দলিল থাকতো! মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার ও জানানোর আগ্রহ ছিল প্রবল। আমি সবসময়ই চাইতাম আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের দলিল আপামর জনসাধারণের কাছে সহজলভ্য হয়ে থাকবে আজীবন। ঠিক সেসময়ই লিও ভাইয়ের সাথে ফেসবুকে কথা হলো (যদিও অনেক আগে থেকেই ফেসবুকে লিও ভাইয়ের ফলোয়ার ছিলাম)। কথাসূত্র- যুদ্ধদলিল প্রকল্প থেকে প্রকাশিত গ্রাফিক নভেল নিয়ে। হঠাৎ লিও ভাই আমাকে বললেন– কুসুমের (আপু) সাথে মুক্তিযুদ্ধের দলিল অনুবাদ করে দিতে পারবা? সত্যি বলতে আমার কাছে মনে হলো, যেন আমার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। এক সেকেন্ডও ভাবতে সময় নেই নি। নাজমুল ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ এমন গৌরবময় কাজের শরীক হবার সুযোগ করে দেবার জন্য। অনুবাদের অনুভুতি অসাধারণ ছিল। মনে হচ্ছিল আমি ’৭১-এ ফিরে যাচ্ছি। ভুলভ্রান্তি মিলিয়ে সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করেছি সবটুকু উজাড় করে দেবার জন্য। আমার চাওয়া একটাই-বাংলাদেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলেই এদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস জানবে, পড়বে, বলবে। যুদ্ধদলিল প্রকল্প সেই চাওয়াকে সহজ থেকে আরো সহজতর করে দিবে বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রকল্পের সাথে জড়িত প্রতিটি মানুষকে সশ্রদ্ধ সালাম। পরিশ্রম বিফলে যায় না।