1

সায়মা এইচ পুতুল

ফেইসবুকে নিউজফিড ঘাটাঘাটিতে একদিন চোখে পড়ে তাজকিয়া ইসাবা আপির আইডি। ঢুঁ মেরে দেখলাম, আপু অনেক ভালো লেখে। পড়েই ফ্যান হয়ে গেলাম, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়ে মেসেজ পাঠালাম। আপু প্রায়ই যুদ্ধদলিলের বিভিন্ন দলিল শেয়ার দিতেন। দেখতাম আর ভাবতাম, ইশ! এত সুন্দর একটা কাজ আমিও করতে পারতাম! কিন্তু আপুকে নক দিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করতে খুব ভয় পেতাম। এরপর একদিন যুদ্ধদলিলের ভলেন্টিয়ার ব্যাচ দেখলাম, সবাই দিচ্ছিলো প্রোফাইল পিকে। আমারো খুব ইচ্ছা হল দিতে। সাথে সাথে কাজের আগ্রহও বেড়ে গেল দ্বিগুণ। ওখানে সেই ছবিটা চেয়ে বসলাম। একটু পরে সুমিত ভাই ইনবক্সে ছবি নিয়ে হাজির। কথা প্রসঙ্গে ভাইয়াকে প্রজেক্টে কাজ করার ইচ্ছেটা বলি। উনি কুসুম আপুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। এরপর অনুবাদ শুরু। ট্রান্সলেটের সময় বুঝেছি কাজটা কতোটা কঠিন, ভিতর থেকে সেই সঠিক আবেগ, আগ্রহ, উৎসাহ, উদ্দীপনা না থাকলে এমন কাজ করা খুব কঠিন। মাথায় সব সময় একটা চিন্তা কাজ করে, আমরা যা করছি তা অত্যন্ত মুল্যবান সম্পদ, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যেই এতসব। সব সত্য সবার কাছে সহজ হয়ে যাক, সবার পরিচয় হোক একটাই-মুক্তিযুদ্ধ। যখনই শুনলাম প্রজেক্টের কাজ প্রায় শেষের দিকে, তখন খুব খারাপ লেগেছিল। আমি চাই প্রজেক্ট এগিয়ে যাক, পৌঁছে যাক দেশের কোনায় কোনায় সকল মানুষের কাছে। ছোটদের কথা বাদ দিলাম, আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, তারাই বা কতটুকু জানি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস? আর যতটুকু জানি, তার সত্য মিথ্যা মিশিয়ে এক বিভ্রান্তিকর অবস্থা সবার মাঝে। যদি প্রত্যেকটা জেলা শহরে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেমিনার করা যেত, তাহলে খুবই ভালো হতো। এভাবে সবার কাছে প্রজেক্ট নিয়ে পৌছে যেতে হবে। এভাবে সবার কাছে পৌঁছে যেতে পারলেই স্বপ্ন পূরণ হবে আশা করি।

 

সায়মা এইচ পুতুল

আইন অনুষদ

বি সি জি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম