1

সায়েম তামজীদ অপূর্ব

মুক্তিযুদ্ধ হল বাঙালি জাতির সর্বাপেক্ষা গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, একটি মানচিত্র, একটি লাল-সবুজ পতাকা, বিশ্বের দরবারে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র- এই সবকিছুই অর্জিত হয়েছে নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের কল্যাণে। মহান এই মুক্তিযুদ্ধের রয়েছে সুদীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাস যার শুরু ব্রিটিশ আমল থেকেই। সময়ের চাকা ঘুরে চলে প্রতিনিয়ত কিন্তু ইতিহাস হয়ে রয়ে যায়, লেখা থাকে স্বর্ণাক্ষরে। বাঙালির অমূল্য সম্পদ-  “বাঙালি জাতির ইতিহাস”-কে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই যুদ্ধদলিলের আবির্ভাব। এই প্রকল্প মূলত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, যা যুদ্ধের দলিলাদি সংগ্রহ ও যাচাইপূর্বক সংকলিত হয়েছে।

ছোটবেলা থেকেই বাবার মুখে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে বড় হয়েছি আর সবসময় মনে মনে ভেবেছি, আমার জন্ম ঐ সময়ে কেন হল না! স্টেনগান, রাইফেল কিংবা গ্রেনেড হাতে হাসতে হাসতে মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়ে ফেলার সাধ কোনদিন হয়তো পূরণ হবে না। এমন আফসোস নিয়ে জীবনযাপন করতে করতেই যুদ্ধদলিল সম্পর্কে জানা, যুদ্ধদলিলের সংস্পর্শে আসা ও এর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া। হ্যাঁ, এই সুবিশাল কর্মপরিসরে আমার অবদান নেহায়েত যৎসামান্য। তারপরেও বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেবার এই মহৎ প্রকল্পে শামিল হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। পরিশেষে সুকান্তের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই-“এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;

জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে

চলে যেতে হবে আমাদের।

চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ

প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল,

এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি

নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’