Shuvadittya Saha

Posted on Posted in 10

মুক্তিযুদ্ধ আমার আবেগ, অহ্ংকার এর জায়গা। এর পিছনে পারিবারিক কারনও কিছুটা জড়িত। আমার মামা সেন্টু রায় ১১ন্ং সেক্টর এর বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমার জ্যেঠা সনৎ কুমার সাহা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার সাথে কাজ করেছেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আর রাজাকারদের জন্য আমার বাবা আর মা উভয় এর পরিবার কে নিজের বাসা, ঘর, দেশ ছেড়ে ইন্ডিয়াতে রিফিউজি হতে হয়েছে। তারা মারাও যেতে পারতেন। এজন্য পাকিস্তানি হানাদার আর এদেশি রাজাকার, আল-বদরদের আমি কোনদিন ক্ষমা করবো না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা অধ্যাপক হবার জন্য আমার জ্যেঠা সনৎ কুমার সাহার নাম হিটলিস্টের উপরের দিকেই ছিল। দেশ স্বাধীন হবার পরে আলবদরদের ক্যাম্প থেকে যেই হিটলিস্ট পাওয়া যায়, তাতে তাঁর নাম পাওয়া যায়। সবকিছু মিলিয়ে ১৯৭১ সাল আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার অন্যরকম এক আবেগ কাজ করে। নিজ পরিবারের বাইরে একজনের কথা না বললেই না। সেটা হল, মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার। আমার প্রজন্মের আরও অনেকের মত আমিও মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার এর লিখা পড়ে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত।

মুক্তিযুদ্ধের একটা অসম্পূর্ন কাজ ছিল রাজাকার, আলবদরদের বিচার এর মুখোমুখি করা। ইদানিং অবাক হয়ে লক্ষ করলাম, এই দেশে জন্মানোর ও সিটিজেন হবার পরেও এই দেশটাকে সৃষ্টির জন্যে যারা প্রাণ দিয়েছেন, কিছু লোকের তাদের প্রতি যদি ন্যুনতম ভালোবাসা নাই। এই ব্যপারটা কষ্টের ও লজ্জার। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চর্চার অভাব এর একটা অন্যতম কারন। আমি মনে করি, সেকারনে এই চর্চাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই চিন্তা থেকেই এই প্রোজেক্টে যুক্ত হওয়া। অপরাজিতা নীল আপার কাছ থেকে এই প্রোজেক্ট এর ব্যপারে প্রথম জানতে পারি এবং তাঁর উৎসাহে সানন্দে রাজি হই এর সাথে যুক্ত হতে।

আজ থেকে ১০০ বছর পরে আমি বেঁচে থাকব না। কিন্তু আমার লেখা পড়ে বা “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র” থেকে আমার অনুবাদ পড়ে কেউ একটু হলেও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা জানতে পারবে এটা মনে হলে এক অন্য রকম আনন্দ কাজ করে। এটাই এই প্রজেক্টে যুক্ত হবার আসল অনুপ্রেরনা। এখানে কাজ করতে যেয়ে আমাকে আবার পড়তে হচ্ছে “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র”। এই বইটা পড়াটা একটা অন্যরকমের অভিজ্ঞতা, অন্যরকমের শিহরন। এটা যে পড়েনি, তাকে এটা বুঝানো সম্ভব না কখনো। মুক্তিযুদ্ধ হোক আমাদের সবার ঐক্যের জায়গা।