12

Zulkar Nain

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্ম হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি একটা স্বভাবজাত আগ্রহ ও দায়বদ্ধতা ছিল। সেই আগ্রহের জায়গা থেকেই যুদ্ধদলিল প্রকল্পে কাজ করা। এটা সত্যিই একটি সৎ ও উদ্যমী প্রচেষ্টা। যদিও খুব সামান্য কাজই করেছি, তবু এটা যেন মুক্তিযুদ্ধকে অনেক কাছ থেকে দেখা, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানা। যুদ্ধদলিলের দ্বাদশ খণ্ডে সংকলিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া। স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের দেশের পর সব থেকে বেশি অবদান ছিল এই দেশটির – শরনার্থী সমস্যা, বিভিন্ন দেশে ইন্দিরা গান্ধীর সাহসী বক্তব্য, পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি…এ প্রজন্মের পক্ষ থেকে তাই আমি আবারও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। দ্বাদশ খণদে কাজ করে আমি কিছুটা হালকা বোধ করছি কারণ একটা জাতির মুক্তির ইতিহাস কিছুটা হলেও উন্মুক্ত হলো, তাও আবার তাদের নিজের মাতৃভাষায় – এর থেকে আনন্দের ব্যাপার আর কী হতে পারে!

 

বস্তুত, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে বুকে ধারণ না করে মুক্তিযুদ্ধকে পুরোপুরি বুঝা সম্ভব নয়। সেজন্যই বোধহয় স্বাধীনতার প্রায় চার যুগ বছর পরেও মুক্তিযুদ্ধকে আমরা পুরোপুরি সফল করতে পারি নি। কারণ আমরা প্রকৃত ইতিহাস থেকে বিচ্যুত, আমাদের মানষপটে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উন্মেষ ঘটে নি। আশা করি, যুদ্ধদলিল প্রকল্প তথা মাতৃভাষায় স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র উন্মোচন এদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উন্মেষ ঘটাতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে। পরিশেষে যুদ্ধদলিল প্রকল্পের সাথে জড়িত সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।