A multi-pronged Attack on Bangladesh

Posted on Posted in 5

২৬ জুলাই, ১৯৭১

বাংলাদেশে একটি সাঁড়াশি আাক্রমন

.

সুচনালগ্ন থেকেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের স্বভাবই ছিল অর্থনৈতিক শোষণ যা অন্তত বর্তমান গণহত্যার বিভীষিকাময় ভয়াবহতার চেয়ে কম বেদনাদায়ক নয়। বস্তুত এই বিয়োগান্তক ঘটনা এই বছর এপ্রিল থেকে অবিশ্বাস্য অনুপাতে পৌঁছেছে।

এখন এটা সর্বজনবিদিত যে বাংলাদেশ, সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের এই ২৩ বছরে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ অর্জন করেছে কিন্তু লাভ, বিনিময়ে, জাতীয় সম্পদ যে প্রতীকী চিনাবাদাম সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। দণ্ডপ্রাপ্ত ফেডারেশনের এই অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে একটি উপনিবেশিক বাজারে পরিনত হয়েছে পশ্চিম পাকিস্তান ভিত্তিক শিল্পকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রায় স্থিরতা দিতে জা আমাদের অর্থকরী ফসল-পাট এবং চা আয় বিনিময় দ্বারা নির্মিত। শিল্প উন্নয়নের একটি ভগ্নাংশ পূর্ব পাকিস্তানে এসেছিল কিন্তু বেশিরভাগই মালিকানাধীন এবং পশ্চিম পাকিস্তানের রাজধানী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সেখানে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সামান্যই রয়েছে। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশে শিল্প ইউনিট যেগুলো পশ্চিম পাকিস্তানীদের মালিকানাধীন নয় সেগুলোকে পাবলিক সেক্টরে দিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কর্ণফুলি পেপার এর জ্বলজ্বলে উদাহরণ এবং কৃত্রিম তন্তু কমপ্লেক্স দেখাত যেমন, এইগুলোও পশ্চিম পাকিস্তানী পুঁজিবাদীদের থেকে হচ্ছে। এই ভয়ানক অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে সহিংস গণবিক্ষোভ এর মধ্যে চূড়ান্ত পরিণতি পায়। জনঅসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও কিছুই সত্যি পরিবর্তিত হয়নি। বস্তুত অর্থনৈতিক উপনিবেশ স্থাপন করে পুঁজিবাদীরা যারা স্পষ্টত পশ্চিম পাকিস্তানী জেনারেলদের দ্বারা পাকিস্তান প্রথম ক্ষমতাসীন হয়েছে, পরোক্ষভাবে গত ১২ বছর ধরে সরাসরি একটি জান্তা সামরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে।

গত কয়েক বছরে শোষণ প্রকৃতির খুব অসহনীয় হয়ে ওঠে. পশ্চিম পাকিস্তানীদের ব্যবসা যেগুলো পূর্ববাংলায় ছিল তারা উদ্বেগ না শুধুমাত্র এমনকি একটি পয়সাও স্থানীয়ভাবে বিনিয়োগ করতে অস্বীকার করেছিল এমনকি তারা পূর্বাঞ্চলের অফিসের সব আয় দৈনিক সূর্যাস্তের পূর্বে পশ্চিম পাকিস্তানে স্থানান্তর করতে কড়া আদেশ ছিল। পাট শিল্পই কেবল একমাত্র শিল্প যেটি….

শুরু থেকেই এটি ছিল পার্টিশন পূর্বের বোম্বের একটি অবারিত দেওলিয়ত্ব সম্পন্ন আদমজীর অধীনে যে আক্ষরিক অর্থেই চোখের পলকেই পাকিস্তানের ধনকুবেরে পরিনত হয়েছিল। এই লোভী চক্রান্তকারী বাজারে মনোপলি খেলে উচ্চমূল্যে পণ্য বিক্রি করে টাকা হাতিয়েছে আর পাট চাষীদের ভার্চুয়াল ভিক্ষাবৃত্তিতে পতিত করেছে। পরবর্তিতে সে অন্যান্য অবাঙ্গালী পুজিবাদীদের সাথে যোগদান করে আরো পেষনে যুক্ত হয়। এইরুপ বিরামহীন, বহুমুখী , নির্মম শোষণের ফলাফল রুপে খুব শীঘ্রই প্রকাশ পেতে শুরু করে এমনকি সরকারী পরিসংখ্যানে এর অঙ্কগুলো ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ। বর্তমানে পূর্ব পাকিস্তানের মাথা পিছু আয় ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের প্রায় অর্ধেক যদিও তারা প্রায় একই অবস্থান থেকেই শুরু করে। বরং ১৯৪৭ সালে বাঙ্গালীদের আয় কিছুটা  বেশিই ছিলো।

রাজনৈতিকভাবে , সামরিক-পুঁজিবাদী-আমলাতান্ত্রিক মৈত্রী/ সম্পর্ক হিসেবে বিবেচিত। পূর্ব-বাঙালিদের ধীর গলায় হত্যা করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কোন অধিকার ছিল না। “ইসলাম বিপদাপন্ন” “ইন্ডিয়ার দালাল” “রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্র” “বিপদগ্রস্ত জাতীয় ঐক্য” ইত্যাদি ইত্যাদি ছিলো তাদের দমানোর জন্য একধরনের অশনি সংকেত। বাঙ্গালীদের উপর এ রাজনৈতিক নিপীড়ন একটি ভয়াবহ ব্যাধীতে রুপান্তর নেয়, হাজার হাজার মানুষ বিনা বিচারে জেলখানায় অবহেলিত হতে থাকে। বিশেষ রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন আইয়ূব খান অসাধারন সমন্বয়ে ক্ষমতা দখল করার পর, ভীতিপ্রদর্শন এবং ১৯৫৮ সালের ব্ল্যাকমেইল, কুট কৌশলে পূর্ব বাংলার উঠতি অসন্তোষ মোকাবেলা করতে চাওয়া। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি স্বীকৃতি দেন যে, এত গুলো বছর ধরে পূর্ব বাংলা নিগৃহিত হয়ে আসছে এবং এসব ঠিক করার প্রতিশ্রুতি দেন। অবশ্য তিনি এসব মোটেও বোঝান নি। শোষন অব্যাহত থাকে। কিন্তু এসব লোক চক্ষুর আড়ালে রাখতে সব কিছু থেকে বাইরে গিয়ে তিনি অসন্তোষ বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় কে কিনে নিতে চাইলেন চাকরী, বৃত্তি এবং অন্যান্য বৈধ ও অবৈধ ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে। এটা কাজ করছিলো কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বে ধাক্কা আসছিলো মধ্যবিত্ত থেকে জনসাধারনের মধ্যে যাদের পেটে লাথি মারা হয়েছিল। আয়ূবের তাদের সবাইকে কেনার ইচ্ছা যদিও ছিলো না। বাকি গল্প গুলি ছিলো ২৫শে মার্চ ১৯৭১ পর্যন্ত গ্রেপ্তারী পরোয়ানা যা এখন সবার জানা।

জান্তা ইয়াহিয়ার নেতৃত্বে “আয়ুব চাতুরীর” অভাব আছে। এর ফলে, আমরা সাক্ষী ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য দুই দাড়ওয়ালার আক্রমন বাংলাদেশের মানুষের উপর। সামরিক কসাইখানা ইতোমধ্যে নিয়েছে লাখ সাধরন মানুষের প্রান। ইয়াহিয়া এবং তার দল এখন ধীরে ধীরে প্রস্তুতি নিচ্ছে বছর শেষের আগেই ইতিহাসের সবচাইতে নিকৃষ্টতম দূর্ভিক্ষ সৃষ্টির। দৃড় পদক্ষেপে শিল্পে ডাকাতি শুরু হয়েছে। সকল গুরুত্বপূর্ন মেশিনারিজ এবং মেশিন মিল কারখানাগুলো থেকে যন্ত্রাংশ পশ্চিম পাকিস্তানের পুজিবাদীদের মালিকানাধীন জাহাজে করে করাচি চলে যায়। এখন সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, খুনে সামরিক প্রশাষনের টিক্কা অর্থনৈতিক ডাকাতির দায়িত্ব গ্রহন করেছে। শিল্প উদ্বেগ এর সাথে সরকারী খাতে বাংলাদেশের মানুষদের মেশিনারি গুলো ডাকাতি হচ্ছে। উদাহরন স্বরুপ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন ঢাকা স্টুডিওর ২৫ শে মার্চের আগ পর্যন্ত যেসব মূল্যবান যন্ত্রপাতির ডাকাতি হয়েছিলো তার কেন্দ্রবিন্দু। মুভি ক্যামেরা, শুটিং মেঝের সরঞ্জাম, সাউন্ড রেকর্ডিং ইউনিট এবং রঙীন এবং সাদা কালো ছবির ল্যাবটরির যন্ত্রপাতি লাহোরে স্থানান্তর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। স্টুডিওর আছে বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ উৎপাদন হার, ১৯৫৬ সালে তৎকালীন শিল্প মন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান প্রাদেশিক পরিষদের একটি আইনে সরানোর মাধ্যমে এর অস্তিত্ব এসেছিলো। এই ধরনের ডাকাতি গুলো সম্প্রসারিত হচ্ছে অন্যান্য পাবলিক মালিকানাধীন শিল্প গুলোতেও। আমরা জানতাম ব্রিটেন আমাদের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পকে ধ্বংস করতে চায় ম্যানচেস্টারের টেক্সটাইল শিল্পের বাজার টিকিয়ে রাখতে। আমরা আরো শুনেছি ব্রিটিশ নীলকরদের অত্যাচারের কথা। দেখে মনে হয় ইতিহাস যেনো এখনো একই রকম রয়ে গেছে। আমি শুধু কেউ ই জানতো না এ সম্পর্কে যতক্ষন না পাকিস্তানি উপ-মানুষেরা বাংলাদেশে কাজ পায়।