The Decisive Stage

Posted on Posted in 5
২৫ নভেম্বর, ১৯৭১
নিষ্পত্তিমূলক অধ্যায়

.

এখন বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ একটি সন্তোষজনক চূড়ান্ত নিষ্পত্তিমূলক পর্যায়ে রয়েছে। পশ্চিম সেক্টর থেকে রিপোর্ট ইঙ্গিত দেয় যে, যশোর শহরের স্বাধীনতা এখন অপরিহার্য। যশোরের দখলের বাস্তব পরিভাষার মানে করলে হবে চূড়ান্ত বিজয়ের অন্তত অর্ধেক পথ পাড়ি দেয়া হয়েছে আর যার সত্যিকার অর্থ করলে দাঁড়ায় যশোর এর উপর দিয়ে পণ্য সরবরাহে নির্ভরশীল সমস্ত সেক্টরের পাকিস্তানি সৈন্যদলের পরাজয়, অন্যকথায়, ঢাকা আর চট্টগ্রাম অংশ বাদ দিলে পুরো এলাকাটাই পাকিস্তানি মুক্ত করতে পারা যাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে যশোর থেকে ক্ষিপ্রগতিতে পাকিস্তানি সেনা ও সহযোগীদের প্রত্যাহারের এই ইঙ্গিত দেয় যে, হত্যাকারী দখলদারেরা ইতিমধ্যেই পলায়নমুখি হয়েছে। দৈনিক যতো বেশী সম্ভব ততবার করে প্রায় ৪০বার আসা-যাওয়ায় নিযুক্ত রয়েছে পি.আই.এ.-র বিমান গুলো। ইতিমধ্যে, এদিকে, সম্পুর্ণ যশোর রোড বরাবর যুদ্ধে, মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা নিষ্পত্তিমূলক বিজয় লাভ করেছে। তারা ১৫টি ট্যাংক এবং বিপুল সংখ্যক শত্রু সৈন্যকে ছিন্নভিন্ন করেছে। একটা আশাহীন অবস্থানে আটকা পরে হানাদারেরা তাদের বিমানবাহিনী কে আহ্বান করে মুক্তিবাহিনীর অবস্থানের উপর গুলী আর বোমা বর্ষন করে মোকাবিলা করতে।

চারটি স্যাবর জেট একটিকে গ্রাউন্ড ফায়ার-১ দ্বারা ভূপাতিত করা হয়। বাকি ৩টি, বীরত্ব দেখানোর চেষ্টা করে, ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করে এবং ভারতীয় বিমানবাহিনী দ্বারা নিখুঁত ভাবে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। এদিকে, চট্টগ্রামে, অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের রিপোর্টে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথমবারের মতো অপারেশন করতে গিয়ে এবং বিস্মিত পাকিস্তানীদের বোমা হামলা চালিয়ে দোযখ পাঠায়। কিন্তু, এই সব পরাজয়ের সত্ত্বেও ইসলামাবাদ এর পশুদের লাজ-লজ্জাহীন মুখপত্র, রেডিও পাকিস্তানে, কাল্পনিক পাকিস্তানের বিজয় সম্পর্কে ঘেউঘেউ করে যায়। এটা উল্লেখ করে যে সমস্ত সেক্টরে, যেখানে খুনীরা মানসিক গ্লানিতে পীড়িত হচ্ছে বলে দাবী করছে, একই মুখে বলছে, পলায়নরত পাকিস্তানিরা শতশত ভারতীয় সৈন্যদের হত্যা করেছে।

একথাও ঠিক যে, ভারতীয় সৈন্য দ্বারা-বিশ্বস্ত কুকুর মানে মুক্তিবাহিনীর ছেলেদের বোঝাচ্ছে। রেডিও শোনার পর মনে হবে যে বাহিনীর ছেলেদের তাদের বুড়োঅঙ্গুল চুষছিল যখন পাকিস্তানিরা তাদেরকে হত্যা করেছিল এবং দৌড়ে পালিয়েছিল।

নিয়াজীর ব্যবহারে পর্যাপ্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে পাকিস্তানিরা জগাখিচুড়ীর ভেতর আছে। তিনি প্রতি ছয় বা দশ ঘন্টা বা তারও বেশী কারফিউ জারী দ্বারা ঢাকায় দৈনিক হত্যা উন্মাদনায় মেতে চলেছে। রিপোর্ট বলে, যে পাকিস্তানী খুনীরা ক্রমাগত তাণ্ডব করেই যাচ্ছে। নিরস্ত্র এবং নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকরা হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের শিকার হচ্ছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতির অনেক দাবির পর এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে যেটা অবশ্যই প্রমাণ করে যে, নিয়াজি ভীত এবং হতাশাগ্রস্ত হয়ে প্রচন্ড ক্রোধে উন্মাদে পরিণত হয়েছে। একজন পাকিস্তানী মুখপাত্র প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে তারা সংখ্যায় একেবারে আশাহত ভাবে নগণ্য, আর অস্ত্রে বলীয়ান। তিনি ব্যতিক্রম হলেও সঠিক। কিন্তু খুনী নিয়াজী এটা বিশ্বাস হবেনা। বোকারদল মুক্তিবাহিনীর মাথার জন্য নগদ পুরষ্কার ঘোষণা করেছে। সে এতোটাই নির্বোধ ক্যাবলা তাই বুঝতে পারছে না যে, এই রঙ্গভঙ্গের জন্য খেলায় খুব দেরি হয়ে গেছে। সে এটাও প্রমাণ করেছে যে, তার হিসেব-নিকেশ ও বরং যাচ্ছেতাই রকমের। সে এটা উপলব্ধি করছে না যে ইসলামাবাদের পুরো টাকশাল ফুরিয়ে যাবে যদি মুক্তিবাহিনীর এক তৃতীয়াংশের মাথা কিনতেও পুরষ্কারের টাকা পরিশোধ করতে হয়।

সম্ভবত, সে জানে যে, তাকে প্রকৃত অর্থে একটি পয়সাও পরিশোধ করতে হবে না। একটি মানুষও বিদেশী হানাদার কাছে বিক্রি হবেনা।

এটা নিয়াজীর একটা পণ্ডশ্রম। আমাদের পরামর্শ নিন: আগে বাংলাদেশ থেকে বের হও। এখন খুবই দেরি হয়ে গেছে।