US Senators Vote Stop|page of Aid: Paks on the Run

Posted on Posted in 5

১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

মার্কিন সিনেটরদের সাহায্য বন্ধে ভোটঃ পাকিরা দৌড়ের উপরে

.

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ তার শেষ স্ট্রেজে পৌছেছে। আমাদের দিক হতে, মুক্তিবাহিনী শত্রু নিধনের জন্য প্রস্তুত কারণ শুকনার সময় ডেরায় ফিরে আসতে হয় এবং মৌসুমি বায়ুতে গেরিলা যুদ্ধ কৌশলে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়। শত্রুপক্ষের দিক থেকে, বাংলাদেশে দখলকৃত এলাকায় শেষ কার্ড হল প্রশাসনের বেসামরিকিকরণ। বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে ইয়াহিয়া সামরিক জান্তার এমন নৃশংস যুদ্ধের পঞ্চম মাসের শেষ, কিন্তু এরই মধ্যে তারা পরাজিত।পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অবশিষ্টাংশ সেনানিবাসে অবরুদ্ধ। ৩৫ হাজারেরও বেশি লোক ও কর্মকর্তাদের মারা গেছে। মিলিটিয়া রাজাকাররা শুধুমাত্র প্রতিটি সুযোগেই লাশ ফেলছে না, পরাজিত আর্মির মুমুর্ষু শ্বাসকে ইতিবাচক বোঝা প্রমাণ করতে চাচ্ছে।

নিক্সন প্রশাসন, চীন এবং আরব রাজতন্ত্রগুলো হতে গোপনে অর্থ ও বস্ত্ুগত সাহায্য আসার পরও পাকিস্তানের অর্থনীতি খাদের কিনারে পৌছে গেছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পরামর্শ মত ইয়াহিয়া তার বেসামরিকিকরণ কার্যক্রমের উপর জোর দিতে থাকে, যা জনগণের আস্থা পায় নি, শুধু জান্তার সমর্থন পেয়েছিল।

মার্কিন বৈদেশিক সাহায্য বিল সিনেটে গিয়েছে যেখানে সিনেটর কেনেডি একজন প্রভাবশালী ব্যাপার । পাকিস্তান এবং গ্রীসকে অর্থনৈতিক ও ত্রাণ সাহায্য দেয়ার রীলের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই হাউজ রিপ্রেজেন্টিটিভেরা নাকচ করে দিয়েছে।  এটা বলা হয়েছে যে যতক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশে বেসামরিক সরকার শাসন না করছে এবং রিফিউজিরা পাকিস্তানে না ফিরছে, পাকিস্তানে কোন সাহায্য দেয়া হবে না। সিনেট সদস্যরাও একই ভাবে ভোট দিতে যাচ্ছে তাই মোতালেব মল্লিক আলিয়াস মালিককে গভর্নর প্রধান হিসেবে দেখিয়ে সামরিক থেকে বেসামরিক ছদ্মবেশ ধারন, মার্কিন সিনেটরদের আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত হিল ভোটিং এর আগে তাদের পক্ষে আনতে এটি পরিষ্কারভাবে একটি হাস্যকর চেষ্টা। মালিক এখন ২য় শর্তের উপর কাজ করছে,  রিফিউজিদের ফিরিয়া আনা। তিনি ভারতীয় অথরিটিকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং রিফিউজিদের অবাস্তব সব সুযোগ সুবিধা প্রতিজ্ঞা করেছেন যারা জীবন বাচাতে পালিয়েছিল। জান্তা এবং তার পালিত কুকুর মোতালেব মল্লিকের কাছে রিফিউজিদের প্রতিক্রিয়াও কম গুরুত্বপূর্ণ নয় কারণ তিনি একই খুনিদের এজেন্ট যারা তাদের পালাতে বাধ্য করেছিল। এই উদ্যোগ কম জানা কিছু সিনেটরকে বিভ্রান্ত করার জন্য খুবই বিপদজনক ছিল। বলার অপেক্ষা রাখে না, যতক্ষণ রিফিউজিরা সচেতন ততক্ষণ প্রভুর কুকুরের নিশ্চয়তা তাদের কাছে খুনী প্রভুর থেকে কম অথবা বেশি প্রতারণামূলক নয়। যদি মার্কিন সিনেটররা পাকিস্তান সাহায্য বিষয়ে হাউজ রিপ্রেজেন্টিটিভদের পদ অনুসরণ করে তাহলে ইসলামাবাদ জান্তা কি প্রতিক্রিয়া জানাবে? এই মুহুর্তে এটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। মার্কিন সাহায্য বন্ধ মানে হল অর্থনীতির হঠাৎ ভেঙ্গে পড়া যার মেরুদন্ড বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর মেরামত অযোগ্যভাবে ক্রাশ করেছে। এটি নিশ্চিতভাবেই পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করবে। এমনকি জান্তা-জুলফি ভুট্টোর পুরান বন্ধুরা অস্থির হয়ে উঠছিল  এবং এরই মধ্যে তারা ইয়াহিয়াকে হুমকি দেয় মুজিবকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে তারা মুজিবের পথ অনুসরণ করবে।

জান্তার সদস্যরা (দুরভিসন্ধির সদস্যরা সহ) বাংলাদেশ-ধরনের জনগণের বিপরীতে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে তর্জন গর্জন করার আগে দুইবার ভাববে।  অন্য কোন কিছুর জন্য নয়, আর্মি আরেকটি যুদ্ধের জন্য নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পায় নি।  বলার অপেক্ষা রাখে না, ভারতের বিপক্ষে যুদ্ধের হুমকি খুনীদের জন্য শুধুই জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের সামান্য আশার শান্তি।

তাহলে কিভাবে তারা প্রতিক্রিয়া দেখাবে? জান্তা সবচেয়ে ভাল যে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে তা হল প্রবল ধ্বংসাত্নক পলিসির পর বাংলাদেশ থেকে পিছু হটা। এটিই হবে যদি কোন গণ অভ্যুত্থান না হয়, এটি মেনে নেয়া বাস্তব সম্মত যে পাকিস্তানের ২৫শে মার্চের ইতিহাস এটি রুদ্ধ করে দিয়েছে।  কিন্তু এরকম  অভ্যুত্থানই এই অবস্থা উত্তরনের একমাত্র সম্ভাবনা।

দখলকৃত এলাকার মানুষজনের আরো খারাপ কিছুর জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা উচিত। পরাজিত আর্মি যখন আরো ভয়ংকর হওয়ার চেষ্টা করবে তখন তাদের আঘাত করতে হবে এবং আরেকটি গণহত্যার মধ্য দিয়ে যাত্রা করতে হবে। তাদের মনে রাখতে হবে যে পাকিস্তানি আর্মি সকল প্রকার শক্তি প্রদর্শনের পরও তারা বাংলাদেশে অসহায়ভাবে বন্দি হয়ে আছে।  পাকিস্তানে পলায়ন লজিস্টিকালি অসম্ভব। যখন পরিস্থিতি গরম হয়ে উঠবে অফিসাররা তাদের যুদ্ধ সাজে সজ্জিত সেনাদের প্রতিকূলতার মুখোমুখি করে বিমানপথে পালাতে চাইবে। এইবারে আর্মি ২৫শে মার্চের আকস্মাত আক্রমণ রিপিট করবে না।

আপনি অবশ্যই যে কোন অস্ত্রকে (আধুনিক অথবা প্রচলিত)কার্যকরী প্রমান করেবন,  যখন আর্মি মুভ করবে অথবা অস্ত্রের সংকটে থাকবে। প্রকৃতপক্ষে, প্রচলিত অস্ত্র চূড়ান্ত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যদি পাকিস্তানিরা আত্নসমর্পন করে তাহলে তাদের বন্দী হিসেবে নিতে হবে এবং ভাল ব্যবহার করতে হবে।

একটি সতর্কতামূলক নোট। দখলকৃত এলাকায় কেন্দ্রীয় কমান্ডের অধীনে মুক্তিবাহিনীর যে সকল গেরিলাগ্রুপ গড়ে উঠেছে, সকল রাজনৈতিক মতাদর্শের উর্ধে উঠে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। এটি জাতীয় স্বাধীনতার যুদ্ধ। দেশ এবং দেশের স্বাধীনতা সবার আগে। যেকোন সংকীর্ণতা অথবা দলান্ধতা যা পারস্পারিক দ্বন্ধ তৈরি করতে পারে, দেশের জনগণের জন্য তা দেশদ্রোহীতা বলে বিবেচিত হবে।  এত ভোগান্তির পর এদেশের জনগণ উপযুক্ত দেশপ্রেমের দাবীদার তাদের কাছে যারা নিজে থেকে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিকতা থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত করতে এগিয়ে এসেছে।

স্লোগান হোক- বিজয়ের জন্য ঐক্য। বাংলাদেশের জন্য বিজয়।