7

জাতির উদ্দেশ্যে জেনারেল ইয়াহিয়ার অপ্রচারিত ভাষণ

৭.১৩০.২৯০ ২৯৬

শিরোনামসূত্রতারিখ
১৩০। জাতির উদ্যেশে জেনারেল ইয়াহিয়ার অপ্রচারিত ভাষণদি এন্ড, অ্যান্ড দি বেগিনিং হার্বার্ড ফিল্ডম্যান১৭ ডিসেম্বর, ১৯৭১

 

জাতির উদ্যেশে জেনারেল ইয়াহিয়ার অপ্রচারিত ভাষণ

রাওয়ালপিন্ডি, ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৭১

প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানের আজ ইস্যু কৃত বিবৃতিটি নিম্নে উল্লেখ করা হল:

আপনারা স্মরণ করতে পারেন, আমার ১২ অক্টোবর জাতির উদ্যেশে দেয়া ভাষণে, আমি ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে আমার পরিকল্পনার বিস্তারিত অবহিত করেছিলাম এবং বলেছিলাম যে নতুন সংবিধান ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। বিশ্বাসঘাতক ভারত তার আগ্রাসন দ্বারা আমার সে পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে ভেস্তে যেতে দিতে চেয়েছিল। তবুও এটি এবং অন্যান্য বেশ কিছু ভোগান্তি সহ্য করেও আমি ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে আমার পরিকল্পনা অটুট রেখেছি। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে একটি জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে উভয় অংশের প্রতিনিধিত্বমূলক প্রধান দলসমূহের নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত সরকার এই সঙ্কটের সময়ে জাতিকে পরিচালনার দায়ভার গ্রহণ করবে। যে সংবিধানের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা আমি এখন তুলে ধরব তা জাতির প্রতি কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে এই সরকারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

এটা আমার জন্য কিছুটা দুঃখেরই ব্যাপার যে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা সংবিধান প্রস্তুতকরণের যেই প্রক্রিয়াটি আমি শুরু করেছিলাম তা সবারই জ্ঞাত কিছু কারণবশত বাধা প্রাপ্ত হয়েছে।তবে এই দু:খজনক ঘটনা আমার ক্ষমতা হস্তান্তরের সংকল্পকে বিলম্বিত করতে পারেনি বরং আমাকে পাকিস্তানের জনগণকে একটি সংবিধান উপহার দিতে আরো উদ্বুদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে, একটি সংবিধান জোর করে চাপিয়ে দেবার কোন ইচ্ছাই আমার নেই। সংবিধানটি সেজন্যই  নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এবং তাদের অংশগ্রহণে প্রথম ৯০ দিনের মধ্যে একটি সহজ সংশোধনী পদ্ধতির ব্যবহার অনুমোদন করে যা হবে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ও এই সংযুক্ত রাষ্ট্রটির অংশগুলোর প্রতিনিধিদের অন্তত ২৫ শতাংশের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে গঠিত।

আমি দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছি এবং বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত বহু দৃঢ় ধারণা ও পরামর্শ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল যেন সংবিধানটি জনমতের ভিত্তিতে প্রণীত হয় এবং জনগণের প্রত্যাশা ও দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারে।

সংবিধান সম্পর্কে প্রকাশ্য বিতর্কে আমি লক্ষ্য করেছি যে নিম্নলিখিত চারটি উপাদান সম্বন্ধে একটি সাধারণ ঐক্যমত রয়েছে যা সংবিধানটিতে প্রতিফলিত হয়েছে-

১) এটা ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের আদর্শের সংরক্ষণ ও বিস্তার ঘটাবে।

২) দেশের প্রয়োজন একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় সংসদ ব্যবস্থা যা জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবে।

৩) দেশ একটিই, এই ধারণার মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে।

৪) সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মানুষের নতুন নতুন প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে একে তার সক্ষমতার পরিচয় দিতে হবে।

সংবিধানটি কেন্দ্র এবং প্রদেশ উভয় ক্ষেত্রেই সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠনের বন্দোবস্ত রেখেছে। রাষ্ট্রপতি এমন একজনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন যিনি জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। অন্যান্য মন্ত্রীরা জাতীয় পরিষদের সদস্য হবেন। অবশ্য পরিষদের সদস্য নন এমন কেউও মন্ত্রী হতে পারবেন, তবে সর্বোচ্চ ছয়মাসের জন্য। সকলে সম্মিলিতভাবে মন্ত্রীপরিষদ হিসেবে জাতীয় পরিষদের নিকট দায়বদ্ধ থাকবেন। কেবলমাত্র একটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী অপসারিত হতে পারবেন। আর তা হল যদি তার উপর জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য অনাস্থা জ্ঞাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রীকে একজন উপপ্রধানমন্ত্রী সহায়তা করবেন, যিনি প্রধানমন্ত্রী যে পক্ষ থেকে এসেছেন তার বিপরীত পক্ষের হবেন। রাষ্ট্রপতিকে তার মন্ত্রীপরিষদের পরামর্শ মোতাবেক কাজ করতে হবে। তবে যেসকল ক্ষেত্রে প্রদত্ত পরামর্শ পদ গ্রহণকালীন গৃহীত তার শপথের বিরুদ্ধে যাবে অথবা দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সংগঠন বা উচ্চ পর্যায়ের সক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে সেসকল ক্ষেত্রে তিনি এর ব্যতিক্রম ঘটাতে পারবেন।

এই সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারসমূহ পূর্ববর্তী সংবিধান সমূহে অন্তর্ভুক্ত বিধান থেকে উন্নততর হবে। এতে অনেক ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রীয় নীতির নিয়ন্ত্রক মতবাদ সমূহকে ভিন্ন ভাবে বর্ণনার মাধ্যমে আরো জোরদার করা হয়েছে। শ্রমিক এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মান ও কর্মপরিবেশের উন্নতির দিকে রাষ্ট্রকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

আগের সংবিধান গুলো থেকে আরেকটি বড় পার্থক্য হল উপরাষ্ট্রপতি পদের প্রবর্তন। উল্লেখ করা হয়েছে যে উপরাস্ট্রপতিকে অবশ্যই রাষ্ট্রপতি যে পক্ষের তার বিপরীত পক্ষ থেকে আসতে হবে এবং তার সদর দপ্তর হবে ঢাকা। তার প্রধান কাজ হবে সিনেটের সভাপতি হিসেবে, এবং এই নতুন সংসদীয় সভা পূর্ববর্তী সংবিধান সমূহ থেকে আলোচ্য নতুন সংবিধানের আরেকটি বড় পার্থক্য। দ্বিতীয়হাউসফেডারেলরাষ্ট্রেরএকটিপ্রয়োজনীয়বৈশিষ্ট্য। দ্বিতীয় সংসদীয় সভা যেকোনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্যে একটি প্রয়োজনীয় সংগঠন, যা আমাদের সংবিধানগুলো বহুকাল পাশ কাটিয়ে গেছে। সাধারণভাবে এই দ্বিতীয় সভাটির কাজ হবে যুক্ত রাষ্ট্রটির বিভিন্ন অঞ্চলের সমপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। আলোচ্য সংবিধানটি এটি নিশ্চিত করে যে সিনেটে প্রতিটি প্রদেশের প্রতিনিধির উপস্থিতি থাকবে। উপরন্তু, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব রাখবার জন্য আমি এরকম পনের জনকে মনোনয়নের ব্যবস্থা করেছি যাদের মধ্যে দশজন পূর্ব পাকিস্তান থেকে এবং অবশিষ্ট পাঁচ জন হবেন পশ্চিমপাকিস্তানী। পাকিস্তানের উপরাষ্ট্রপতি সিনেটের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তার উপর আইন দ্বারা অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক আদেশকৃত কার্যাবলীর পালন করবেন। রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি সিনেট, জাতীয়পরিষদ ও সকল প্রাদেশিক পরিষদ নিয়ে  গঠিত ইলেকটোরাল কলেজ(নির্বাচনের জন্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি) কর্তৃক বিকল্প ভোট পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবেন।

সুতরাং এরূপে পাকিস্তানের দুইটি সংসদীয় সভা থাকবে, তবে প্রধান আইন প্রণয়নকারী হবে জাতীয় পরিষদ। সিনেট জাতীয় পরিষদ দ্বারা গৃহীত আইনের ক্ষেত্রে ভেটো দিতে পারবেনা, তবে জাতীয় পরিষদ কর্তৃক পাশ করা যেকোনো বিল এর সংশোধনীর আবেদন করতে পারবে যা রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে জাতীয় পরিষদের নিকটে পৌঁছাবে। রাষ্ট্রপতি নিজেও অবশ্য সংশোধনীর পরামর্শ দানের সাধারণ ক্ষমতার অধিকারী হবেন। এরপর চূড়ান্ত আইন প্রণয়নের ক্ষমতা জাতীয় পরিষদের হাতেই ন্যস্ত করা হয়েছে। আইন বিষয়ক ক্ষেত্রে দুই সংসদীয় সভা একত্রে মিলিত হয়ে আলোচনা করতে পারে কেবলমাত্র যখন সিনেট জাতীয় পরিষদ দ্বারা সংবিধানে আনীত কোনো সংশোধনীর ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করবে। সেক্ষেত্রে একটি যৌথ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে এবং দুই সভার মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও সর্বমোট প্রতিনিধিদের শতকরা কমপক্ষে পঁচিশজনের ঐক্যমত্য প্রয়োজন হবে বিবেচিত সংশোধনীটি পাশ করাবার জন্যে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও এই দুই সভা একত্রে আলোচনায় বসতে পারে।

যেহেতু আমি সংবিধানের সংশোধনী বিষয়ে কথা বলছি সেহেতু আরো উল্লেখ করা যায় যে নতুন সংবিধান কর্তৃক প্রদেশগুলোকে প্রদত্ত বৃহদাকার স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতাকে সংহত রাখবার জন্যে সংবিধানে একটি বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। তা হল যদি জাতীয় পরিষদ সংবিধান কর্তৃক প্রদত্ত এই স্বায়ত্তশাসন ক্ষমতার কোনো নির্দিষ্ট অংশের জন্য সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করে তবে সেই প্রস্তাব বিবেচনা ও পরামর্শের নিমিত্ত শুধু সিনেটই নয় বরং প্রতিটি প্রদেশের প্রাদেশিক পরিষদেও পাঠাতে হবে। প্রদেশসমূহের মতামত এক্ষেত্রে সিনেটের মতের উপরে স্থান পাবে এবং সিনেট পরবর্তীতে সংশোধনী সম্পর্কে নিজস্ব প্রস্তাবনা প্রণয়ন করবে। এইসকল মতামত ও প্রস্তাবনা রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে জাতীয় পরিষদের নিকটে পৌঁছাবে। সংসদের দুই সভার মাঝে মতের অমিল দেখা দিলে তার সুরাহার জন্যে একটি যৌথ অধিবেশনের আয়োজন করা হবে। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের জন্যে আরেকটি রক্ষাকবচ হল যদি রাষ্ট্রপতি মনে করেন যে কোনো প্রাদেশিক পরিষদ কর্তৃক উত্থাপিত আপত্তি প্রস্তাব যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় নি তবে তিনি এই সংশোধনীর ক্ষেত্রে তার সম্মতি প্রদান করা থেকে বিরত থাকতে পারবেন।

যে সকল ক্ষেত্রে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের আওতা বৃদ্ধি পেয়েছে সেগুলো উল্লেখের পূর্বে আমি প্রাদেশিক সরকারের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য সমূহ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করতে চাই। প্রতিটি প্রদেশের জন্য প্রাদেশিক পরিষদ ইতোমধ্যেই নির্বাচিত হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক গভর্নরের একটি করে মন্ত্রীপরিষদ থাকবে এবং তিনি তার মন্ত্রীপরিষদ থেকে প্রাপ্ত উপদেশ অনুযায়ী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন। প্রাদেশিক পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধানকে একটি মন্ত্রণালয় গঠন করতে আহবান জানানো হবে এবং তিনি সেই পদে আসীন থাকবেন একটি মাত্র শর্তে; আর তা হল প্রাদেশিক পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা হারালে তাকে পদচ্যুত করা হতে পারে।

কেন্দ্র এবং প্রদেশের সম্পর্ক বিধানকারী সংবিধানের অংশগুলোয় বিস্তারিত বিবরণ প্রদানপূর্বক বহু বিষয় কেন্দ্র সরকার থেকে প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। ডাকঘর, শেয়ার বাজার এবং ভবিষ্যতের বাজার ও বীমা ব্যবস্থা – যেখানে প্রকৃতপক্ষে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য সেখানে সে নিয়ন্ত্রণের বিধান সংবিধানে রাখা হয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের বিশেষ অবস্থান বিবেচনা করে এরূপ বিধান রাখা হয়েছে যে প্রদেশটির অনুরোধপূর্বক কেন্দ্রীয় সরকার সে অঞ্চলে তার নির্বাহী কর্মকাণ্ডের ভার প্রাদেশিক সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। সংবিধানের এই বিশেষ অংশে বর্ণিত বিষয়গুলোতেই কেবল কেন্দ্রীয় আইনসভার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে। ১৯৬২ এর সংবিধানে বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় আইনসভাকে প্রাদেশিক বিষয়ে আইন প্রণয়নের যে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন শুধুমাত্র প্রাদেশিক পরিষদ বা পরিষদসমূহ অনুরোধ করলে কেন্দ্রীয় আইনসভা এরূপ কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারবে, এছাড়া নয়। আর্থিকক্ষেত্রে, কর আরোপণের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা প্রদেশসমূহের হাতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এবং তদসঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্য ও সাহায্য, প্রদেশসমূহকে প্রদত্ত অনুদান, আন্তঃপ্রাদেশিক বাণিজ্য ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আমি আলাদাভাবে একটু পরে আলোচনা করব।

পশ্চিম পাকিস্তান একীভবন আদেশ ১৯৭০ মোতাবেক পশ্চিম অংশের ছয়টি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার দায়িত্ব ৪টি প্রদেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পালন করবেন। বছরজুড়ে তাদের কর্মকাণ্ডের আলোকে দেখা গেছে যে এদের থেকে ৩টি সংস্থাকে বিলীন করে দিয়ে তাদের দায়িত্ব চারটি প্রদেশের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভবপর হবে। এরা হল কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, ক্ষুদ্র শিল্প কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সিমেন্ট কোম্পানী। এখন একীভবন আদেশে বর্ণিত ব্যবস্থাগুলো শুধুমাত্র পশ্চিম পাকিস্তান রেলওয়ে, পশ্চিম পাকিস্তান বিদ্যুৎ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং পশ্চিম পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন এর মত গুরুত্বপূর্ণ ও ভিত্তিমূলক শিল্পগুলোর ক্ষেত্রে সীমিত আকারে ক্রিয়াশীল থাকবে যার সাথে পশ্চিম অংশের চারটি প্রদেশের স্বার্থ সমানভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্র সকল প্রদেশকে বহিরাক্রমণ এবং অভ্যন্তরীণ গোলযোগ থেকে রক্ষা করার জন্য দায়বদ্ধ থাকবে। কেন্দ্র এও নিশ্চিত করবে যেন এই দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে তার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সংবিধান অনুসারী হয়। এই দায়িত্ব বাস্তবায়নের জন্য দুটি বিশেষ বিধানের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। এক, যখন কেন্দ্রীয় সরকার এই মর্মে নিশ্চিত হবে যে কোনো প্রাদেশিক সরকারকে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পরিচালনা করা সম্ভবপর হচ্ছে না, তখন কেন্দ্র সেই প্রদেশের গভর্নরকে প্রাদেশিক সরকারের সম্পূর্ণ কর্মকাণ্ডের ভার গ্রহণের অনুমতি দিতে পারে। এর সময়সীমা হবে সর্বোচ্চ এক বছর। কোনো প্রদেশ আর্থিক স্থিতাবস্থা হারিয়ে ফেললে কেন্দ্রীয় সরকার সে প্রদেশের উপর তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। আপনারা জানেন এমন বিধান আরো অনেক সংবিধানেই রয়েছে।

যে বিষয়টি মানুষের মনে সবচেয়ে বেশী উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে তা হল কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যেকার সম্পর্ক এবং প্রদেশগুলোকে ঠিক কতটুকু ক্ষমতা প্রদান করলে তা দেশের একতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। সে বিবেচনা থেকেই কেবলমাত্র কিছু বিশেষ ব্যাপারে কেন্দ্রের হাতে ক্ষমতা থাকবে, আর অন্যদিকে বাকি সব ক্ষমতাই প্রদেশের হাতে ন্যস্ত থাকবে।

আর্থিক স্বায়ত্ত্বশাসন প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের একটি অপরিহার্য অঙ্গ। প্রদেশের আর্থিক সম্পদ সমূহের উপর প্রদেশেরই নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিৎ। বর্তমানে সম্প্রসারণশীল রাজস্ব উৎসের বেশীরভাগই কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় নিজেদের উন্নয়নের জন্য সম্পদ ব্যয়ের সুযোগ প্রদেশগুলোর জন্যে খুবই কম। কিন্তু নতুন সংবিধানে এক্ষেত্রে প্রভূত বদল সাধিত হয়েছে। চরমপন্থিরা দাবী করে কেন্দ্রের হাতে কর সংক্রান্ত কোনো ক্ষমতাই রাখা উচিৎ নয়। কিন্তু তা গ্রহণযোগ্য নয় কারণ প্রদেশের পাশাপাশি কেন্দ্রেরও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দরকার সংবিধান অনুযায়ী তার দায়দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবার জন্য। নতুন সংবিধান বর্তমানে প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করের উৎসগুলোর পাশাপাশি নিম্নে উল্লিখিত উৎসগুলোও কেন্দ্র থেকে প্রদেশে স্থানান্তরিত করবে –

১) বিক্রয় কর

২) তেল ও তামাক উৎপাদন ব্যতিত অন্য সকল উৎপাদনের উপর প্রযুক্ত আবগারি শুল্ক

৩) সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার কর

৪) উপহার কর

উপরে উল্লিখিত কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত করের উৎসগুলো পুরোপুরি প্রদেশের কাছে হস্তান্তরের পাশাপাশি নিম্নলিখিত তিনটি কর কেন্দ্রের মাধ্যমে সংগ্রহ সুবিধাজনক হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্র তাদের সংগ্রহ করে সম্পূর্ণ অংশই প্রদেশের হাতে হস্তান্তর করবে-

১) রপ্তানি কর

২) অপ্রক্রিয়াজাতকৃত তামাকের উৎপাদনের উপর প্রযুক্ত আবগারি শুল্ক

৩) প্রাকৃতিক গ্যাস ও অপরিশোধিত খনিজ তেলের ওপর প্রযুক্ত কর

অন্যভাবে বলা যায়, কেন্দ্র শুধুমাত্র নিম্নলিখিত করের উৎসগুলোকে নিজের কাছে রাখবে- 

১) আয়, কর্পোরেশন ও সম্পদ কর

২) শুধুমাত্র দুটি ক্ষেত্রের আবগারী শুল্ক যথা-পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং প্রক্রিয়াজাতকৃত তামাক

৩) রপ্তানি শুল্ক ব্যতীত অন্যান্য কাস্টম শুল্ক

প্রদেশগুলোতে করের এই প্রধান উৎস সমূহ স্থানান্তরের পাশাপাশি সংবিধান অনুযায়ী স্বল্পোন্নত প্রদেশগুলো কেন্দ্র থেকে বিশেষ অনুদান লাভ করবে। এই অনুদানের পরিমাণ হবে বছরে ন্যূনতম ৭০ কোটি রুপি, যার মধ্যে ৬০ কোটি রুপি বা পূর্ব পাকিস্তান থেকে কাস্টম শুল্ক হিসেবে সংগৃহীত সম্পূর্ণ শুল্ক – এর মধ্যে যেটি পরিমাণে বেশী হবে – সেটি পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ করা হবে। উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ ও বেলুচিস্তান প্রত্যেকে কমপক্ষে ৫ কোটি রুপির অনুদান পাবে।

পূর্ব পাকিস্তানক এত বিশালাকার বিশেষ অনুদান দেবার উদ্দেশ্য হল প্রদেশটির উন্নয়ন ঘটানো। কেন্দ্রীয় সরকার কর বাবদ প্রতি বছর পূর্ব পাকিস্তান থেকে গড়ে ১৩০ কোটি রুপি আয় করছে। নতুন সংবিধান মোতাবেক এই ১৩০ কোটি রুপির মাঝে ১০০ কোটি রুপিরও বেশি পূর্ব পাকিস্তান পাবে। এর মানে হল কেন্দ্রীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের অবদান হবে ৩০ কোটি রুপির আশেপাশে, যা কেন্দ্রের বর্তমান মোট ব্যয়ের প্রায় ৫ শতাংশ। এই তথ্যই নির্দেশ করে যে নতুন সংবিধান পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ সমূহের জন্য কতটা অর্থনৈতিক সমর্থন যোগাতে যাচ্ছে।

সাংবিধানিক বিধান এখন থেকে প্রদেশগুলোতে সম্পদের এইরূপ বরাদ্দ নিশ্চিত করবে। এতে করে অর্থ কমিশন স্থাপন পূর্বক সময় সময় তা পর্যালোচনা করার দরকার পড়বে না।

এছাড়া সংবিধানে উল্লেখ আছে যে প্রাদেশিক সরকারগুলো কেন্দ্র থেকে নির্ধারণ করে দেয়া বিস্তৃত সীমার মধ্যে থেকে অভ্যন্তরীণ খাত হতে ধার নিতে পারবে। প্রতিবার ঋণ গ্রহণের সময় কেন্দ্রে একটি করে ঋণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। সংবিধান পূর্ব পাকিস্তানকে এই নিশ্চয়তা দেয় যে প্রদেশটি দেশের সবগুলো প্রদেশের মোট সরকারি ঋণের শতকরা অন্তত ৫৪ ভাগ গ্রহণের অনুমতি পাবে।

বাহ্যিক সাহায্যের ক্ষেত্রে, যা দেশের পররাষ্ট্র নীতির সাথে সংশ্লিষ্ট, কেন্দ্রের ভূমিকা কেবলমাত্র দেশের জন্য সামগ্রিক সাহায্যের বন্দোবস্তের ব্যাপারে সীমাবদ্ধ থাকবে। এখানেও পূর্ব পাকিস্তান কোনো এক বছরে দেশের প্রাপ্ত মোট সাহায্যের ন্যূনতম ৫৪ শতাংশ লাভ করবে। এই বরাদ্দ দিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প ও কার্যক্রম পরিচালনার ব্যাপারে প্রদেশগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে।

বৈদেশিক মুদ্রা আয় দেশের মুদ্রাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে, এবং সে কারণে একে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব হিসেবেই রাখতে হবে। তবে নিজেদের সাধারণ দায়িত্ব পূরণের পর কী পদ্ধতিতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নিজেদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার করবে তা সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে।

প্রাদেশিক সরকারগুলো তাদের নিজস্ব রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য প্রচার কর্মকাণ্ড চালাবার ক্ষমতা প্রাপ্ত হবে। দেশের সাধারণ চাহিদা মেটাবার পর তাদের অর্জিত বাকি বৈদেশিক মুদ্রা ও বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণের উপর নির্ভর করে নিজেদের আমদানি নীতিমালাও তারা প্রণয়ন করতে পারবে। পশ্চিম পাকিস্তানে এই ব্যবস্থা স্পষ্টতই একটি আঞ্চলিক ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। তবে যেহেতু বৈদেশিক বাণিজ্য দেশের সামগ্রিক পররাষ্ট্র নীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তাই প্রাদেশিক সরকারগুলো কোন রূপরেখায় তাদের নিজস্ব বাণিজ্য নীতি পরিচালনা করবে তা আইন প্রণয়ন করে নির্দিষ্ট করে দেবার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকবে। এই সাংবিধানিক বিধানটি পালন করার জন্যে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন সমূহ আনয়নের লক্ষ্যে পাট বোর্ড এর মত প্রতিষ্ঠান সমূহকে পূর্ব পাকিস্তানে বদলি করা হবে এবং পশ্চিম পাকিস্তানের বাণিজ্য নীতি গুলোর সমন্বয় বিধানের লক্ষ্যে সেখানে একটি বাণিজ্য বোর্ড স্থাপন করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে পূর্ব পাকিস্তানের পক্ষে বিদেশে বাণিজ্য প্রতিনিধি নিয়োগ করার বিধানও রাখা হয়েছে।

দেশের দুই অংশের মাঝে আন্তঃবাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি বিশেষায়িত বাণিজ্য বোর্ড গঠন করা হবে। বোর্ডটি সবকটি প্রদেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হবে, যার অর্ধেক আসবে পূর্ব পাকিস্তান থেকে। এই বোর্ড যেকোনো প্রদেশের কাছ থেকে তাদের কাছে এই বাণিজ্য সম্পর্কিত কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হলে সে ব্যাপারে সমীক্ষা চালাবে।  এভাবে প্রদেশগুলো নিশ্চিত করতে পারবে যে দুই অংশের মধ্যেকার এই আন্তঃবাণিজ্য ন্যায্য এবং পারস্পারিক সুবিধাজনক রূপেই পরিচালিত হবে।

মুদ্রাব্যবস্থা স্পষ্টতই পাকিস্তান স্টেট ব্যাংকের অধীনে একটি কেন্দ্রীয় দায়িত্ব হিসেবে রয়েছে কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং পদ্ধতির অন্যান্য কর্মকাণ্ডের বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে দেশের দুই অংশের প্রতিটিতে একটি করে মোট দুটি আঞ্চলিক রিজার্ভ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই আঞ্চলিক রিজার্ভ ব্যাংকগুলোতে সম্পূর্ণরূপে তাদের নিজ নিজ প্রাদেশিক সরকারের প্রতিফলন ঘটবে। এরা নিজ এলাকায় বাণিজ্যিক ও সমবায় ব্যাংক সমূহের নিয়ন্ত্রণ করবে এবং স্টেট ব্যাংক অফ পাকিস্তানের তৈরি রূপরেখার অভ্যন্তরে থেকে নিজেদের ঋণনীতির পরিচালনা করবে।

পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীকরণ ঘটবে যেখানে বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ সমূহের উপর ভিত্তি করে নিজ নিজ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে প্রদেশগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে। প্রাদেশিক পরিকল্পনাসমূহ সুসংহত করার মাধ্যমে কেন্দ্র কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। পরিকল্পনা ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীকরণের দিকে পদক্ষেপ হিসেবে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্মীদল, জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল ও তার নির্বাহী কমিটিকে ভেঙে দেয়া হবে। সুতরাং প্রাদেশিক সরকারগুলো কোনোরূপ আর্থিক সীমা মেনে চলা ছাড়াই পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অনুমোদনে পূর্ণ কর্তৃত্বের অধিকারী হবে।

নির্বাচনের পদ্ধতি প্রসঙ্গে আমি বলতে পারি যে, সবকটি পরিষদ প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটের ভিত্তিতে আইনী কাঠামোর ভেতরে থেকে নির্বাচিত হবেন। নতুন সংবিধানেও এই একই পদ্ধতি বজায় থাকবে। তবে সিনেট নির্বাচন হবে প্রাদেশিক পরিষদ সমূহের দ্বারা, একক বদল যোগ্য ভোটের মাধ্যমে। তাতে করে দলীয় ব্যবস্থার অধীনে একক ভোট পদ্ধতি অপেক্ষা বৃহদাকার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। .

নির্বাচনের প্রসঙ্গে আমি আরো উল্লেখ করতে পারি যে সংবিধানে অধিক সংখ্যক রাজনৈতিক দল অথবা সংকীর্ণ আঞ্চলিক ভিত্তিতে তাদের বিস্তারকে নিরুৎসাহিত করে বিধান রাখা হয়েছে। সংসদীয় ব্যবস্থার সুস্থ বিকাশ এবং জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গীর উৎসাহ ও বৃদ্ধির লক্ষ্যে এরূপ সংস্কারের প্রয়োজনীতা আছে বলে আমি মনে করি। এইসকল বিধান স্বাভাবিকভাবেই এসব নির্বাচনে প্রযুক্ত হবে।

পূর্বের সংবিধান অনুযায়ী চলমান ইসলামী প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মতই তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে। আরো বলা রয়েছে যে কোনো প্রাদেশিক সরকার অনুরোধ করলে সেই প্রদেশে ইসলামিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একটি শাখা প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে বহু জায়গায় ইসলামিক বিধানকে আরো শক্তিশালী করা হয়েছে।

সবশেষে আমি বলতে চাই যে সংবিধান অনুযায়ী ইসলামাবাদ ও ঢাকায় দুইটি রাজধানী থাকবে। ঢাকার সম্মান রক্ষার্থে  ‘দ্বিতীয় রাজধানী’ কথাটি বাদ দেয়া হয়েছে। বরঞ্চ প্রতিটি রাজধানীতেই কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব পালনের জন্য যথাযথ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা রাখার বিধান রাখা হয়েছে। সংসদের মূল অবস্থান হবে ঢাকায়।

এই হল সংবিধানের মূল বৈশিষ্ট্য সমূহ। এর মুদ্রিত কপি ২০ তারিখ থেকে পাওয়া যাবে। আমি জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে যথাসম্ভব বেশি প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদানের চেষ্টা করেছি। কর্মকাণ্ডের বিকেন্দ্রীকরণের পেছনে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এবং সে পর্যায় পর্যন্ত গিয়েছি যার থেকে আর আগাবার চেষ্টা করলে সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটাই অক্ষম হয়ে পড়বে বলে আমার অনুভূত হয়েছে। বিকেন্দ্রীকরণের দরকার রয়েছে এবং তা বাস্তবায়নও করা হয়েছে। কিন্তু অবশ্যই এটি এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় যেখানে এটি ভাঙ্গনের শুরু হিসেবে ভূমিকা করবে। আমি বোধ করি এই সংবিধানটি অন্য যেকোনো সংবিধানের তুলনায় সামনের দিকে একটি সাহসী পদক্ষেপ। কিন্তু অন্যদিকে আমাদের সমস্যাগুলোও অনন্য। তাই এদেশ যেসব সমস্যা মোকাবেলা করছে তার জন্যে আমাদের ব্যতিক্রমি এবং সাহসী সমাধানই খুঁজতে হবে। আমার আন্তরিক আশা ও প্রার্থনা, যে অবিশ্বাস ও তিক্ততা আমাদের খাদের কিনারায় গিয়েছে তার থেকে এই সংবিধান মুক্তির পথ দেখাবে এবং জাতীয় জীবনে ঘুমিয়ে থাকা একত্রীকরণ শক্তিগুলোকে বলশালী করার মাধ্যমে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।

পাকিস্তান জিন্দাবাদ