14

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান ও ভারতকে সংযত হতে বলেছে

শিরোনামঃসূত্রঃতারিখঃ
৯৫। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান ও ভারতকে সংযত হতে বলেছে।নিউইয়র্ক টাইমস।১৯ অক্টোবর, ১৯৭১।

 

Partha Sumit Bhattacharjee

<১৪, ৯৫, ২৩০-২৩১>

 

 

দ্য নিয়ইয়র্ক টাইমস। অক্টোবর ১৯, ১৯৭১

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানকে সীমান্তের প্রতিরোধক কূটনীতিতে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে

– বার্নাড গ্যুরিজম্যান

নিউইয়র্ক টাইমস এর প্রতি বিশেষ প্রতিবেদন

 

ওয়াশিংটন, অক্টোবর, ১৮ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয়-পাকিস্তানি সীমান্তের দৃশ্যমান উত্তেজনার এবং দুই দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ব্যাপারে তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র, তৃতীয় চার্লস ডব্লিউ ব্রে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের প্রতিই সীমান্তে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংযম প্রদর্শনের জন্য আহ্বান জানিয়েছিল এবং অন্যদেশের সাথেও ‘প্রতিরোধক কূটনীতির একটি ধরণ’ চর্চা করছিল।

 

কর্মকর্তারা বলেছেন মার্কিন কূটনীতিরা সোভিয়েত ইউনিয়ন, ফ্রান্স, বৃটেনে পৌঁছেছেন।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের, তার এবং ভারতের উভয় সীমান্ত থেকে সৈন্যবাহিনী উঠিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেওয়ার, একদিন পরই তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

 

এসোশিয়েটেড প্রেস-পাকিস্তানের একজন প্রতিনিধির বরাতে, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বলেছেন তিনি তার সৈন্যবাহিনীকে আত্মরক্ষামূলক অবস্থান থেকে তখনই সরিয়ে আনবেন যদি ভারত তার সমস্ত সৈন্যবাহিনীকে উঠিয়ে নেয় এবং সমস্ত অনুপ্রবেশ ও শত্রুতামূলক আচরণ স্থগিত করে। ভারত বাঙালি বিচ্ছিন্নতাবাদী গেরিলাদের পূর্ব পাকিস্তানে সাহায্য করছে বলে পাকিস্তান অভিযোগ করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা আছে, পাকিস্তানি নেতা গেল সপ্তাহে ইরানে সোভিয়েত রাষ্ট্রপতি, নিকোলাই ভি পডগর্নি’র সাথে একটা মিটিং এ এই প্রস্তাব পেশ করেছেন।

 

ওয়াশিংটনে থাকা কর্মকর্তারা যদিও এটা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে থাকা ভারতের সীমান্তে তাদের সৈন্যবাহিনীর আকার কতটা বড় তবে এদিকে ইঙ্গিত করেছে যে বাহিনীটা বেশ বড় এবং পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।

 

“উপমহাদেশে বিরাজমান উত্তেজনা সাথে সাথে সীমান্তের উভয়পাড়ে প্রস্তুত রাখা সৈন্যবাহিনীর ব্যাপারে আমরা উদ্বিগ্ন আছি”, বলেছেন মিঃ ব্রে।

 

“আমরা সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতিতে উভয় দেশকে সংযত রাখতে তাদের সরকারের সাথে যোগাযোগ রেখেছি ও রেখে চলেছি।” তিনি বলেন “আমরা অনান্য দেশের সরকারের সাথের এই বিষয়ে যোগাযোগ রাখছি”।

 

ইয়াহিয়া’র প্রস্তাব গুরুত্ব দিয়েছে

 

মিঃ ব্রে, ইঙ্গিত করেছেন যে এই অঞ্চলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নির্দিষ্ট শান্তি পরিকল্পনা নেই, তিনি বলেন যে “আমরা এই উত্তেজনা কমানোতে প্রভাব রাখতে সক্ষম যেকোনো পদক্ষেপকেই সমর্থন করি”।

 

অন্য কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার ‘প্রত্যাহার প্রস্তাব’ এর দিকে দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

তারা ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী করা একটি বিবৃতিকে উল্লেখ করেছে ‘প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, জগজীবন রাম, যিনি বলেছেন যে যদি ভারত আক্রান্ত হত, সে সৈন্যবাহনীর দ্বারা দখলকৃত পাকিস্তানি এলাকাগুলো থেকে তাঁর সৈন্যবাহিনীকে প্রত্যাহার করত না”।

 

“যদি পাকিস্তানি সামরিক জান্তারা আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়েও দেয় আমাদের সৈনিক দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে এবং তাদের শহরগুলোকে দখল করে নেবে, এবং কোনো পরিস্থিতিতেই আমরা তাদের সেসব অধিকৃত জায়গা এলাকা থেকে আমরা তাদের প্রত্যাহারও করব না” মিঃ রাম আরও উল্লেখ করেন।

 

পূর্ব পাকিস্তানে চলা এই সংঘর্ষ থামার আগ পর্যন্ত ভারত সীমান্ত থেকে সরে আসবে না, তিনি বলেন।

 

“ভারত এই ব্যাপারে বৈশ্বিক চাপের কাছে নতী স্বীকার করবে না”।

 

দুই দেশের মুখপাত্ররাই সতর্ক করে দিয়েছেন যে যুদ্ধের সম্ভাব্যতা বাড়ছে যা পাকিস্তান স্বায়ত্বশাসিত সরকারকে ভেঙ্গে দিতে পারে।

 

উত্তর-পশ্চিম ভারতে লাখ লাখ শরনার্থী পাড়ি জমিয়েছে এবং তাঁর সম্পদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। যদিও এখনও ভারত সরকার পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় নি- কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ওপর তা করার ব্যাপারে হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বেশ চাপ আছে বলে বিশ্বাস করা হয়।