7

যশোরের জনসভায় জেনারেল নিয়াজী

৭.২০৬.৫৮৪

শিরোনামঃ ২০৬। যশোরের জনসভায় জেঃ নিয়াজী  

সূত্রঃ দৈনিক পাকিস্তান

তারিখঃ ২৭ নভেম্বর, ১৯৭১

.

যশোরের জনসভায় জেনারেল নিয়াজী

জনগন ভারতের হীন দুরভিসন্ধি

সফল হতে দেবে না

.

    পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের কমান্ডার ও ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক লেঃ জেঃ এ, এ, কে নিয়াজীর সভাপতিত্বে গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক বিরাট জনসভায় যশোরের জনসাধারণ ভারতীয় হামলা প্রতিহত করার ব্যাপারে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করে।

 

    এপিপির খবরে প্রকাশ জনসাধারণ বিপুল সংখ্যক জাতীয় পতাকা এবং ইংরেজী, উর্দু, বাংলায় ‘ভারতকে খতম কর’, ‘রক্ত দিয়ে আমরা জাতীয় সংহতি রক্ষা করব’, ‘আমরা আমাদের বীর সশস্ত্র বাহিনীকে সালাম জানাই’ প্রভৃতি দেশাত্ববোধক শ্লোগান লিখিত বড় বড় ব্যানার বহন করে।

 

    তাঁরা তাদের স্বদেশ রক্ষার কাজে আত্ননিয়োগেও অভিপ্রায় ব্যক্ত করে। সভায় ভাষণ দানকালে জেঃ নিয়াজী যশোরের জনসাধারণের বীরত্ব পূর্ণ মনোবলের প্রশংসা করেন। যশোরের জনসাধারণকে মুজাহিদ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন যে, যশোরের সর্বশেষ ভারতীয় হামলা জনসাধারণের দৃঢ় মনোবলকে ইস্পাততুল্য করেছে জানতে পেরে তিনি পুনরায় আশ্বস্তবোধ করেছে।

 

    জেনারেল নিয়াজী বলেন, পাকিস্তানের প্রতিটি নাগরিকই বিশ্বস্তভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি সহযোগিতা প্রদান করে প্রতিরক্ষার কাজে সহায়তা করতে পারে।

 

    তিনি বলেন, আমরা এক বিশ্বাসঘাতক শত্রুর সম্মুখীন হয়েছি। তাঁরা অভ্যন্তরীন কোন্দল তথা সরাসরি আক্রমণের দ্বারা আমাদের পরাজিত করতে চায়। কিন্তু পাকিস্তানের জনসাধারণ তাঁর সে হীন দুরভিসন্ধি সফল হতে দেবে না বলে তিনি ঘোষণা করেন। জেঃ নিয়াজী সংক্ষেপে উপমহাদেশের ইতিহাসের রূপরেখা বর্ণনা করে স্বাধীনতা পূর্বকালীন মুসলমানদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন।

 

    তিনি বলেন, ভারত মুসলমানদের তাঁর অধীনস্থ করার জন্য পুনরায় চেষ্টা করছে, কিন্তু তাঁকে সে সুযোগ দেওয়া হবে না। জেঃ নিয়াজীর ভাষণের পর সশস্ত্র বাহিনীর বিজয় ও পাকিস্তানের সংহতির জন্য সভায় মোনাজাত করা হয়।

 

    যশোরে গিয়ে জেঃ নিয়াজী নবনির্বাচিত স্থানীও এম,এন,এ ও শান্তি কমিটির সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। হর্ষোৎফুল্ল বিপুল সংখ্যক তরুণ ও ছাত্র বিভিন্ন ও শ্লোগান ধ্বনি দিয়ে ও ভারতীয় হামলার নিন্দাসূচক প্লাকার্ড বহন করে তাঁকে অভিনন্দন জানায়।

 

পরে জেঃ নিয়াজী মোটরযোগে যশোর শহরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেন এবং জনসাধারণ তাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত রয়েছেন দেখতে পান।