9

সাক্ষাৎকারঃ মোমিন উদ্দিন আহম্মেদ, প্রাক্তন এমপি

<৯, ১৪.৮, ৩৮১>

খুলনা জেলার সশস্ত্র প্রতিরোধ
সাক্ষাৎকারঃ মোমিন উদ্দিন আহম্মেদ, প্রাক্তন এমপি
০৮-০৬-১৯৭৬

(বাংলা একাডেমীর দলিলপত্র থেকে সংকলিত)

 

১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তারিখে বয়রা গ্রামে তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা ইপিআর’রা ৩০৩ রাইফেল ও শটগান নিয়ে পাক ফৌজের বিরুদ্ধে এক সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই যুদ্ধ হয় যশোর রোডে। যুদ্ধে ২টি ট্রাক ধ্বংস হয় আর পাক সৈন্যরা পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়।

 

এর পরের সংঘর্ষ হয় দৌলতপুরের মিনাক্ষী সিনেমা হলের সম্মুখে ২০শে মার্চ তারিখে। রাস্তার দু’পাশ থেকে মুক্তিযোদ্ধারা পাক ফৌজের উপর আক্রমণ চালায়। পাক সেনারা তখন ট্রাকে করে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো। আক্রান্ত পাক সেনারা রিকয়েললেস গান দিয়ে রশীদ বিল্ডিং ধ্বংস করে। সে সময় ঐ ভবনে ৩ জন লোক নিহত হয়।

 

এপ্রিল মাসে ৭ তারিখে পাকসেনারা ট্রাকে করে যশোর থেকে খুলনা অভিমুখে অগ্রসর হয়। খুলনার রেডিও ষ্টেশন তখন পাক সৈন্যদের দখলে ছিলো। মুক্তিযোদ্ধারা রেডিও ষ্টেশনের উপর আক্রমণ চালায়। পাক সেনারা রেডিও ষ্টেশনের ভিতর থেকে আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করে। এভাবে এক রাত যুদ্ধ চলে। যুদ্ধে কিছু মুক্তিযোদ্ধা মারা যায়। যশোর থেকে ট্রাকে করে আগত পাকসেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের উপর আক্রমণ চালালে মুক্তিরা আস্তে আস্তে বিলের দিকে পিছু হটে। যুদ্ধে পাক ফৌজের বেশ কিছু সৈন্য নিহত হয়। খুলনা রেডিও ষ্টেশনকে রক্ষার জন্য যশোর থেকে তিন দফা সৈন্য আসে। ৭ তারিখের পর পাক সেনারা দৌলতপুরের রঘুনাথপুর গ্রামে হামলা করে। সেখানে তারা বহু লোককে হত্যা করে।

 

খুলনা জেলার তেরখাদা থানায় মুক্তিবাহিনীর একটি ক্যাম্প ছিলো। সেখানে প্রায় দুই হাজারের মতো মুক্তিসেনা ছিলো। তারা তেরখাদা থানাকে সব সময়ের জন্য মুক্ত রাখতে সমর্থ হয়েছিলো। ফহমউদ্দিন নামে একজন তহশিলদারের নেতৃত্বে ঐ ক্যাম্পটি পরিচালিত হয়। আব্দুল হামিদ মোল্লা নামে এক ব্যক্তি পাকসেনাদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করে। পরে দুষ্কৃতিকারী দ্বারা নিহত হয়।