২২৭. ৩১ অক্টোবর সম্পাদকীয়ঃ মুক্তি পথের যাত্রী সশস্ত্র বাঙালী

হিমু নিয়েল

<৬,২২৭,৩৮১-৩৮২>

সংবাদপত্রঃ বাংলাদেশ ১ম বর্ষঃ ১ম সংখ্যা

তারিখঃ ৩১ অক্টোবর, ১৯৭১

সম্পাদকীয়

.

[বাংলাদেশঃ সাপ্তাহিক। সম্পাদকঃ কীর্তি। মুদ্রণে তড়িৎ। সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত। পত্রিকাটি শত্রুসেনা পরিবেষ্টিত বাংলাদেশের কোন স্থান হতে সাইক্লোস্টাইলে প্রকাশিত। সম্পাদকের নাম ছদ্ম এবং মুদ্রণ ও প্রকাশনা ঠিকানা গোপন রাখা হয়েছে।]

মুক্তি পথের যাত্রী সশস্ত্র বাঙালী

 

//অত্যাচারের উদ্যত ধ্বজা রক্তে করিয়া স্নান

আমাদের পরে বৈরী সাধিতে হয়েছে অধিষ্ঠান ।

শুনিছ কি সবে কী ভীষণ রবে কাঁপে জল স্থল,

দন্তের ভরে গর্জন করে শত্রু সৈন্য দল ।

তারা যে আসিছে কেড়ে নিবে বলে তোমার সকল ধন,

গ্রাসিতে শস্যক্ষেত্র, নাশিতে পুত্র ও পরিজন ।

মোদের শোণিত হবে কি সিক্ত মোদের ক্ষেত্রতল ।//

.

রুদ্যলিলের বিখ্যাত সমর গীতি দিয়ে শুরু করলাম । এ গীতি আজ বাংলা মায়ের প্রতিটি নির্ভীক সৈনিকের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে । স্বাধীনতা প্রিয় ফরাজী জনগণ একদিন অত্যাচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে অত্যাচার আর জুলুম থেকে নিজেদের মুক্ত করেছিল । নৃপতি নিষ্পেষণ আর বর্বর শোষণ থেকে মুক্ত হওয়াই ছিল তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য । তারা মানব জাতির বন্ধু রূপে নিজেদের জীবন বাজী রেখে নৃশংস বর্বর সামন্তবাদী শোষণ আর নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে । আজ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির মুক্তিপাগল জনগণের পথ প্রদর্শক ফরাসী দেশের রবিকর দীপ্ত দেশপ্রেমিকেরা । সেই একই ধারায় পাঞ্জাবী একচেটিয়া পুজিতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক শোষণের বিরুদ্ধে বাংলার মাটি আজ গর্জে উঠেছে । মহাবিদ্রোহের উদ্দীপনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার জনগণের রক্ত, শিরায় শিরায় এসেছে অগ্নিশিখার শিহরণ । বাংলার জনগণ আজ মুক্তি চায়-পরাধীনতা আর বিজাতীয় শোষণের বিষাক্ত ছোবল থেকে নিজেদের মুক্তির দুর্বার অভিযানে উন্মত্ত । বাংলা আজ বিপন্ন, শত্রুর বিষাক্ত নখরে ক্ষতবিক্ষত । এ যুগে বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের পথের দিশারী বাংলা মায়ের নির্ভীক জনগণ আজ সশস্ত্র বিপ্লবে লিপ্ত । বিশ্বের সকল পরাধীন ও নিপীড়িত জতিগুলিকে বাংলার জনগণ আজ নতুন পথের সন্ধান দিয়েছে । বিশ্বের জনগণের কাজে আমাদের এ বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত । বাংলার জনগণ বিশ্বজনগণের বন্ধু । এক জল্লাদ রক্তপিশাচ বর্বর ঔপনিবেশিক বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্ভীক মুক্তিযোদ্ধাদের সাফল্য বিশ্বের জঘন্যতম সাম্রাজ্যবাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থতায় পর্যবশিত হয়েছে ।

.

সাম্রাজ্যবাদ আর ঔপনিবেশিক বাদের জারজ সন্তান পাকিস্তান দিশেহারা হয়ে তার ঘৃণ্য বর্বর দস্যু বাহিনীকে বাংলার নীরিহ নিরস্ত্র জনগণের উপর লেলিয়ে দিয়ে বাজীমাত করতে চেয়েছিল । কিন্তু বাংলার বিপ্লবী জনগণ ট্রাম্প করে নিজেদের সঠিক পথ বেছে নিয়েছে । এ রক্তপিছল পথের শেষ প্রান্তে আছে স্বপ্ন গড়ার সৌধ ।

.

সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যত চেষ্টা করুক না কেন জনতার এ বিদ্রোহ আর স্তব্ধ করতে পারবে না । বিদ্রোহের অগ্নিশিখা আরো প্রজ্বলিত হয়ে দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ছে । বাঙ্গালীর কণ্ঠে আজ মুক্তিমন্ত্র আর হৃদয়ে প্রতিরোধের দূর্জয় সাহস । বাংলার জনগণ বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের নির্ভীক সৈনিক বঙ্গবন্ধুর মুক্তিমন্ত্রে দীক্ষিত । প্রতিরোধ দূর্গের নির্ভীক সৈনিক বাংলার মুক্তিবাহিনী তাদের কণ্ঠে আজ ধ্বনিত হচ্ছে-জন্মভুমির নির্মল প্রেম । ওগো চিরসম্বল । তোমার শত্রুনাশে উদ্যত এ বাহুতে দেহো বল ।

 

ওগো স্বাধীনতা ! প্রিয় স্বাধীনতা ! হও ত্বরা পরকাশ

আমাদের সাথে মিলিয়ে আপন শত্রু করহ নাশ ।

Scroll to Top