৫ নং সেক্টর থেকে লিখিত জনৈক মুক্তিযোদ্ধার একটি চিঠি

শিরোনামউৎসতারিখ
৯৫। ৫ নং সেক্টর থেকে লিখিত জনৈক মুক্তিযোদ্ধার একটি পত্র৫ নং সেক্টরের দলিলপত্র১৮ নভেম্বর, ৭১

 

ট্রান্সলেটেড বাইঃ Razibul Bari Palash

<১১, ৯৫, ৬১০-৬১১>

 

নীল জামা (বর্ষরা)

নং – ৯/ হতাহত/ ৭১ – ৭২ / ৮০- ৮১

১৮-১১-৭১

 

 

প্রতি

 

কমান্ডার ইন চিফ

বাংলাদেশ ফোর্স

 

অত্র পত্রের সাথে একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তার পিতাকে লেখা একটি চিঠি সংযুক্ত করা হল। চিঠিটা সম্প্রতি আমরা তার পিতার কাছ থেকে পেয়েছি।

 

পত্রলেখক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। ৮ আগস্ট ৭১ সালে তিনি সাছনা, জামালগঞ্জ থানা, সিলেট  নামক স্থানে পাকসেনাদের সাথে সম্মুখযুদ্ধে নিহত হন। তার সেদিনের সাহসিকতার জন্য ঐ এলাকা শত্রুমুক্ত হয়।

 

এই চিঠিটি প্রায়ই এখানকার মুক্তি ফৌজ রা একত্রিত হলে পড়া হয়। আমরা লক্ষ্য করেছি এই চিঠিটির একটি অসাধারণ বৈদ্যুতিক ক্ষমতা আছে আমাদের যোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করার ব্যাপারে। তাই আমরা মনে  করি এই চিঠিটি ‘স্বাধীন বাঙলা বেতার’এর অগ্নিবীণা অনুষ্ঠানে প্রচার করা গেলে অন্য সকল যোদ্ধারা অনেক অনুপ্রাণিত হবেন এবং তাদের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বেন।

 

কৃতজ্ঞতায় –

 

 

স্বা

( মেজর এম এম দিন)

সাব সেক্টর কমান্ডার

নং – ৫ ৯ বর্ষরা)

 

 

উপরে উল্লেখিত চিঠিটি ৫ নং সেক্টর হেড কোয়ার্টার বি ডি এফ এ অবগত করা হল।

টেকেরহাট হইতে

তারিখ – ৩০-৭০৭১

 

প্রিয় আব্বাজান

 

আমার সালাম নিবেন। আশা করি খোদার কৃপায়  ভালোই আছেন। বাড়ির সকলের কাছেই আমার শ্রেণী মত সালাম ও স্নেহ রইল। বর্তমানে যুদ্ধে আছি। আলি রাজ, রওশন, মাত্তাব, বেণু, ইব্রাহিম, ফুল মিউয়া সকলেই একত্রে আছি। দেশের জন্য আমরা সকলেই জান কোরবান করিয়াছি। আমাদের জন্য ও দেশ স্বাধীন হওয়ার জন্য দোয়া করবেন। আমি জীবনকে তুচ্ছ মনে করি। কারণ দেশ স্বাধীন না হইলে জীবনের কোন মূল্য থাকিবে না। তাই যুদ্ধই জীবনের পাথেয় হিসাবে নিলাম। আমার অনুপস্থিতিতে মা কে কষ্ট দিলে আমি আপনাকে ক্ষমা করিব না। পাগলের সব জ্বালা সহ্য করিতে হইবে। চাচা, মামাদের ও বড় ভাইদের নিকট আমার সালাম। বড় ভাইকে চাকুরীতে যোগ দিতে নিষেধ করিবেন। জীবনের চেয়ে চাকুরী বড় নয়। দাদুকে দোয়া করিতে বলিবেন। মৃত্যুর মুখে আছি, যে কোন সময় মৃত্যু হইতে পারে এবং মৃত্যুর জন্য সর্বদা প্রস্তুত। দোয়া করিবেন মৃত্যু হইলেও যেন দেশ স্বাধীন হয়। তখন দেখিবেন লাখ লাখ ছেলে বাঙলার বুকে পুত্রহারা বাবা বলিয়া ডাকিবে। এই  ডাকের অপেক্ষায় থাকুন।

 

আর আমার জন্য চিন্তার কোন কারণ নাই। আপনার দুই মেয়েকে পুরুষের মত শিক্ষায় শিক্ষিত করিয়া তুলিবেন। তবেই আপনার সকল সাধ মিটিয়া যাইবে।

 

দেশবাসী স্বাধীন বাঙলা কায়েমের জন্য দোয়া কর। মীর জাফরি করি ও না। কারণ মুক্তিফৌজ তোমাদের ক্ষমা করিবে না এবং বাঙলায় তোমাদের জায়গা দেবে না।

 

সালাম, দেশবাসী সালাম।

 

ইতি-

মো সিরাজুল ইসলাম

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − eleven =