6

১০ ডিসেম্বর সম্পাঃ বাংলাদেশের স্বীকৃতি

অনুবাদঃ নিয়াজ মেহেদী

<৬, ৯৪, ৭৪২>

শিরোনামসংবাদপত্রতারিখ
সম্পাঃ বাংলাদেশের স্বীকৃতিবাংলাদেশ ভলিউম. ১ : নং. ১৫১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১

 

বাংলাদেশের স্বীকৃতি

 

       এটা সর্বজনবিদিত যে ২৫ শে মার্চের রাতে যখন পাকিস্তানের হবু প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমানকে গোপনে পশ্চিম পাকিস্তানে একটি অজানা স্থানে উড়িয়ে নিয়ে বন্দী করা হয়েছিল এবং ইয়াহিয়ার সেনাপতি টিক্কা খান নিরস্ত্র বেসামরিক লোকজনের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে নামেন, পাকিস্তানের তখনি মৃত্যু হয়। সে রাতে এক আতংকের রাজত্ব লেলিয়ে দেয়া হয়েছিল। বুদ্ধিজীবী এবং রাজনৈতিক নেতাদের ঢাকার রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের তথাকথিত পেশাদার সৈনিকরা নারীদের ধর্ষণ করে এবং শিশুদের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। একজন মানুষের নিয়মতান্ত্রিক ধ্বংসযজ্ঞ সমগ্র বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছিল। ইয়াহিয়ার গণহত্যার রেকর্ড হিটলারকেও ম্রিয়মাণ করে দিয়েছিল। বাংলাদেশ একটি নিয়মতান্ত্রিক বদ্ধ গণহত্যার মল্লভূমিতে পরিনত হয়েছে। সংক্ষেপে এটাই বাংলাদেশের সৃষ্টির পিছনের পটভূমি।

 

       বাংলাদেশকে বিধিসম্মত ভাবে স্বীকৃতি দেয় ভারত এবং আরেক প্রতিবেশী ভূটান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেয়ার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী ৬ ডিসেম্বর নয়াদিল্লীতে সংসদে বলেন “বাংলাদেশের মানুষ তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করছে এবং ভারতের জনগন লড়ছে অত্যাচারী কে প্রতিহত করতে এবং এখন তারা নিজেদের একই লড়াইয়ের স্বপক্ষে পেয়েছে। মিসেস গান্ধী বলেন ভারত দ্বারা বাংলাদেশের স্বীকৃতি কোন আবেগের বশবর্তী হয়ে দেয়া হয়নি বরঞ্চ বাংলাদেশে বিদ্যমান বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তব পর্যালোচনা করেই দেয়া হয়েছে। আসলে স্বীকৃতি একটু বিলম্বিত করা হয়েছিল যতক্ষন পর্যন্ত না মুক্তিবাহিনী এযাবৎ পশ্চিম পাকিস্তানের দখলে থাকা প্রায় সকল ভূখণ্ড স্বাধীন করে এবং কার্যকরী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করে। বাংলাদেশ সরকার সুপ্রতিবেশী সুলভ সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনের জন্য “সাহসী এবং দৃঢ়সংকল্প” পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ভারতকে অভিনন্দন জানান।

 

       ১৭৭৮ সালে ফ্রান্স যখন ইউনাইটেড স্টেটসকে স্বীকৃতি দেয় তখন অনেকটা একই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল। এটার এখন কোনই মূল্য নেই যে বাংলাদেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে উইনাইটেড স্টেটস একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল। আমেরিকান কলোনিগুলো একই ধরনের শোষণের শিকার হয়েছিল এবং কলোনিগুলোর কোন প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়াই তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়ে হয়েছিল করের বোঝা। পুরনো এই দেশটি এবং নতুন দেশের মধ্যেও নতুন এই দুই দেশের আকর্ষণীয় মিল গুলোর কারনে আমরা আশাবাদী হই যে ইউনাইটেড স্টেট্‌স গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় সঙ্গী হিসেবে স্বীকৃতি দিবে। কূটনৈতিক সম্পর্ক চালূ করার মাধ্যমে বর্তমানে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ইতোমধ্যে বিরাজ করছে তা আরও দৃঢ় হবে।

 

       গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আহবান জানিয়েছেন। এটা আমাদের আশা যে বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশকে পূর্ন কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের আহবানে পর্যাপ্তরূপে সাড়া দিবেন।