15

অনয়

স্বাধীনতার ত্রিশ বছর পর জন্ম নেয়া একজন তার মাতৃভূমিকে কিভাবে দেখবে বা এর উৎপত্তির ইতিহাস সম্পর্কে কতটুকু আগ্রহী হয়ে উঠবে তা পুরোপুরিভাবে নির্ভর করে তার আশেপাশের বয়োজ্যেষ্ঠদের উপর। তারাই পারে এই নবীনকে মুক্তিযুদ্ধ ও তার আগের ও পরের ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা দিতে, তাকে সচেতন করে তুলতে। আর তারা যদি তা করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তার পরিণতির হাজারো নমুনা আমরা আমাদের আশেপাশে দেখতে পাই। বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস গুলিয়ে ফেলার মত ঘটনাও অহরহ ঘটতে দেখা যায়। তবে এক্ষেত্রে আমি ঐ নবীনকে দোষ দেয়ার পক্ষপাতি নই। বরং আমি ঐ প্রবীণকে দোষ দিই যে তার পাশে থেকে তাকে হাতে কলমে শিখিয়ে বড় করে তুলেছে। হতে পারে সে নবীনের বাবা- মা, হতে পারে সে তার শিক্ষক। তারই দায়িত্ব ছিল তার পাশের নবীনকে স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। কারন একজন নবীন এটাই জানে না যে সে কি জানে না! তাই জন্ম থেকেই সে আগ্রহ নিয়ে আসবে নিজে যেচে এসে আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে এমনটা ভাবা বোকামি। সমস্যার শেষ কিন্তু এখানেই না। এখন যদি প্রথম সমস্যার সমাধান হয়েও যায় এরপর আরো বড় এক সমস্যা সামনে চলে আসে। বড় সমস্যা বললাম এজন্য যে জ্ঞানের চেয়ে ভ্রান্ত জ্ঞান আমার দৃষ্টিতে অধিক ক্ষতিকর।

 

আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ চিন্তাধারায় কোন না কোন দিকে বায়াসড। মানে তাদের চিন্তাধারা বাহ্যিক কোন না কোন প্রভাবক দ্বারা প্রভাবিত। নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে চিন্তা করতে পারে এমন মানুষের সংখ্যা নিতান্তই নগন্য। তো এসব লোকেরা যখন কোন কিছু বর্ননা করে তখন এই বায়াসনেস এর প্রভাব তার কথার মাঝেও চলে আসে। আর এভাবে যখন তা এক মুখ থেকে আরেক মুখে যেতে থাকে তখন এ কথার এ অভিযোজন প্রতি ধাপে বৃদ্ধি পেতে থাকে।

 

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও এর প্রভাবের বাইরে নয়। যেখানে নবীনরা প্রবীনের উপর নির্ভরশীল সেখানে এ বাহ্যিক প্রভাব কখনোই কাম্য নয়। কারন এভাবেই ইতিহাস পরিবর্তিত হয়ে যায়। আর এ প্রভাব কিন্তু আমরা হরহামেশাই আমাদের চারপাশে দেখতে পাই। স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে আজ কতো বিভেদ, কত মতান্তর।

 

স্বাধীনতা যুদ্ধের যে দলিলপত্র রয়েছে তা মোটামুটি বাহ্যিক প্রভাবমুক্ত বলা যায়। রেফারেন্স হিসেবে এটি ব্যবহার করা যায়। এটা মোট ১৫ খন্ডে বিভক্ত এবং মূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকার কাছাকাছি। ফলে এটা সকলের জন্য সহজলভ্য নয়। তবুও যদিও বা আপনি এটা কিনেও ফেলেন তবুও ১৫ হাজার পাতার এ বই থেকে আপনার কাঙ্খিত তথ্য খুজে পাবেন এমন নিশ্চয়তা দেয়া যায় না।

 

এ সমস্যা সমাধানে প্রথম এগিয়ে আসতে দেখি লিও ভাইকে। তিনি এই দলিলের ইউনিকোড কপি তৈরি করার উদ্যোগ হাতে নেন। কম্পাইল ও অনুবাদ তৈরি করার মাধ্যমে এই দলিল সহজলভ্য ও বিনামূল্যে সকলের কাছে পৌছে দেয়াই ছিলো এটার উদ্দেশ্য। আর এজন্য তিনি স্বেচ্ছাসেবক আহবান করেন। আর আমরা যারা এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবগত তারা অনেকেই সাড়া দিই তার ডাকে। আর এভাবেই আমি “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র থেকে বলছি” প্রোজেক্টে অন্তর্ভুক্ত হই।

 

বাকিটা ইতিহাস